Tuesday, 25 March 2014

মৃতের সাথে যমীনের কথাবার্তা:

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বাইরে বের হয়ে দেখতে পেলেন, লোকেরা খিলখিল করে হাসছে, যার কারণে তাদের দাঁতসমূহ বেরিয়ে আছে।

তাদের এ অবস্থা অবলোকন করে তিনি ইরশাদ করলেন, সাবধান! ‘যদি তোমরা জীবনের স্বাদ বিনাশকারী বস্তু অর্থাৎ মুত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করতে তাহলে আমি তোমাদেরকে এই অবস্থায় দেখতাম না।

সুতরাং জীবনের স্বাদ বিনাশক বস্তু অর্থাৎ মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। কেননা, কবরের উপর এমন দিন যায় না, যে দিন সে এ কথা না বলে, ‘আমি নির্জন ঘর, আমি কীট-পতঙ্গের আবাসস্থল।’

অতপর তিনি ইরশাদ করেন, ‘মুমিন ব্যক্তিকে যখন কবরে রেখে আসা হয় তখন কবর তাকে সম্বোধন করে বলে, ‘স্বাগতম’ আপনি নিজ ঘরে এসেছেন। আমার উপর দিয়ে যারা চলাফেরা করতো তাদের মধ্যে আপনি সর্বাপেক্ষা প্রিয় ছিলেন।

সুতরাং আজ যখন আপনাকে আমার কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আপনি আমার সান্নিধ্যে এসেছেন, তখন দেখতে পাবেন, আমি আপনার সাথে কত ভালো ব্যবহার করি।’

এরপর দৃষ্টি যতদূর যায় তার কবরও ততদূর প্রশস্ত হবে। আর তার জন্য জান্নাতের একটি ফটক খুলে দেয়া হবে।

আর যখন কাফের কিংবা পাপী ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় তখন কবর তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তোমার আগমন বড়ই খারাপ, আর তুমি অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্থানে এসেছ।

আমার উপর দিয়ে বিচরণকারীদের মধ্যে তুমিই সর্বাপেক্ষা অপ্রিয় ও কুদসিৎ ছিলে।

সুতরাং আজ যখন তোমাকে আমার কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আমার বাগডোরে তুমি আবদ্ধ হয়েছ, তখন দেখতে পাবে, আমি তোমার সাথে কিরূপ আচরণ করি।’

এরপর তাকে এমনভাবে চাপ দেয়া হবে যে, তার ডান পাঁজর বাম পাঁজরে এবং বাম পাঁজর ডান পাঁজরের মধ্যে বসে যাবে। এটাকে বুঝাতে গিয়ে রাসূল (সা.) নিজের এক হাতের আঙ্গুলগুলো অপর হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে চাপ দেন। (মিশকাত) 

আমি ক্ষুধার কারণে সোজা হয়ে দাড়াতে পারছি না

রাসুলু্ল্লাহ (সাঃ) একদিন মসজিদে নববীতে বসেছিলেন, তখন এক সাহাবী এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি ক্ষুধার কারণে সোজা হয়ে দাড়াতে পারছি না, তারপর সে সাহাবী নিজের কাপড় সরিয়ে দেখালেন যে তার পেটের উপর পাথর বাধা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তখন নিজের কাপড় একটু সরালেন এবং সে সাহাবীকে বললেন, হে আমার সাহাবী, দেখ, তোমার পেটে একটি পাথর বাধা রয়েছে আর আমার পেটে দুটি পাথর বাধা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কখনো বিলাসিতা করেননি এজন্য যে তিনি ভাবতেন আমি যদি বিলাসিতা করি তাহলে তো আমার উম্মত আরো বেশী বিলাসিতা করবে।

আহা! আমরা কোথায় আছি আর কী করছি।

নবীর সুন্নাত

যারা নবীর সুন্নাতকে ভালবাসে এবং মেনে চলে তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে আমার সুন্নাতকে ভালবাসে সে আমাকে ভালবাসে। আর যে আমাকে ভালবাসে সে আমার সাথে জান্নাতে যাবে।"

{জামে তিরমিযি-২/৯৬}

আর যারা সুন্নাতকে ভালবাসে না এবং বিদ্রুপ করে তাদের সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে-
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে আমার সুন্নতের পরোয়া করবে না সে আমার উম্মত নয়।"

{মুসলিম-১/৯৪, বুখারী-২/৭৫৭}

তওবা

আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় কতটা খুশী হন তার একটি নমুনা ............

এক ব্যক্তি মরুভূমিতে ভ্রমন করছিলো। সে একটি স্থানে অবস্থান গ্রহন করলো। তার সাথে ছিলো তার বাহন। বাহনে ছিলো তার খাবার ও পানীয়। সে একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিলো। সেখানে মাথা রেখে সে ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুম থেকে জেগে দেখলো, তার বাহনটি নেই। সে ওটি খুজতে লাগল। একটি টিলায় উঠে দেখল নেই। আরেকটি টিলায় উঠল্ সেখানেও দেখতে পেল না। এমনকি যখন প্রচন্ড গরম ও পিপাসা দেখা দিল তখন ভাবল যেখানে ছিলাম সেখানে যাই। ঘুমে ঘুমে মরে যাব। তার বাহন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের ছায়ার কাছে এসে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লো। এমতবস্থায় সে মাথা উঠিয়ে দেখে বাহনটি তার পাশেই দাড়িয়ে। ওটি তার রশি টানছে। তাতে আছে তার পাথেয়, খাবার ও পানীয়। সে ওটির রশি চেপে ধরলো। এ ব্যক্তি তার বাহন ও পাথেয় ফিরে পেয়ে যতটা খুশী, আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার তওবায় তার চেয়েও বেশী খুশী।

{সহীহুল জামে ৪/৩৫৮}

খারাপ স্বপ্ন অথবা রাতে ভয় পান?

খারাপ স্বপ্ন অথবা রাতে ভয় পান? 
এই আমলটি করুন ইনশাআল্লাহ রাতে শয়তান আপনাকে ভয় দেখাতে পারবে না।
নবী কারীম (সাঃ) বারা ইবনে ‘আযেব (রাঃ) কে বলেন: “যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করবে, তখন সালাতের ন্যায় অযূ করে ডান কাত হয়ে শয়ন করবে।”
{বুখারী: ৬৩১১, মুসলিম: ৬৮৮২}

Sunday, 23 March 2014

বৃহস্পতিবার তাবলীগের মার্কাজ মসজিদে যাওয়া কি বিদআত?

বৃহস্পতিবার তাবলীগের মার্কাজ মসজিদে যাওয়া কি বিদআত?
প্রশ্ন
আমাকে এক আহলে হাদীস বলেছেন যে, রাসূল সাঃ থেকে মুসলিম শরীফে একটি হাদীস আছে। যাতে বলা হয়েছে-
“জুমআর রাতে তথা বৃহস্পতি ও শুক্রবারের মাঝের রাতকে ইবাদতের জন্য খাস করতে নিষেধ করেছেন।” {সহীহ মুসলিম}
সুতরাং তাবলীগীদের কাছে প্রশ্ন-
১- বৃহস্পতিবার রাতে তাবলীগী মার্কাজ মসজিদে কেন তাবলীগীরা একত্র হয়?
২- রাসূল সাঃ এর নির্দেশের বিরুদ্ধে তারা লোকদের দাঁড় করাচ্ছে না?
৩- তাবলীগীরাতো বলে বেড়ায় যে, তারা লোকদের নবীজী সাঃ এর আনুগত্বের দিকে আহবান করে, রাসূল সাঃ এর নির্দেশ অমান্য করার নাম কি তাঁর আনুগত্বের দিকে আহবান?
৪- আপনারাই বলুন, তাদের কর্মপদ্ধতিটি কি সঠিক?

উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
আসলে এসব অন্তসারশূণ্য বিদ্বেষমাখা প্রশ্নের উত্তর দিতে মন সায় দেয় না। রাসূল সাঃ এর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে,
عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
অনুবাদ- হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় ইসলামের সৌন্দর্যের মাঝে এটিও একটি যে, অযথা বিষয়কে উপেক্ষা করা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৯৭৬, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৩১৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭৩৭}
কিন্তু যেহেতু এমন অহেতুক বিষয় নিয়েও মুসলিম জনসাধারণ্যের মাঝে ফিতনা ছড়াচ্ছে নামধারী আহলে হাদীসরা। তাই বাধ্য হয়ে এর জবাব লিখছি।
আসলে চূড়ান্ত অজ্ঞতা আর মুর্খতার দরূন এমন প্রশ্ন উদিত হয়েছে ভাইটির মনে। আসুন আমরা আগে হাদীসটি দেখে নেই-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تَخْتَصُّوا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِقِيَامٍ مِنْ بَيْنِ اللَّيَالِي، وَلَا تَخُصُّوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ مِنْ بَيْنِ الْأَيَّامِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ فِي صَوْمٍ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ»
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, রাতসমূহের মাঝে তোমরা জুমআর রাতকে নামাযের জন্য বিশেষভাবে খাস করো না। আর দিনসমূহের মাঝে জুমআর দিনকে রোযা রাখার জন্য বিশেষভাবে খাস করো না। তবে যদি তোমাদের রোযা রাখার মাঝে এদিন এসে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১১৪৪}
স্রেফ অনুবাদের দিকে খেয়াল করলেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতকে রাসূল সাঃ বিশেষভাবে নামায পড়ার জন্য খাস করতে নিষেধ করেছেন। আর পরদিন তথা জুমআর দিনকে বিশেষভাবে রোজার জন্য খাস করতে নিষেধ করেছেন।
আর আমরা সবাই জানি, তাবলীগের মার্কাজে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কি সবাই একত্র হয় বেশি বেশি করে নামায পড়ার জন্য? বা পরদিন রোযা রাখার জন্য? না দ্বীনী কথা শুনে, দ্বীনী বিষয় শিখে দ্বীন পালনের জজবা আনয়নের জন্য?
একথা তাবলীগ সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন যে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা মার্কাজের মসজিদে একত্র হন, দ্বীনী বয়ান শুনে, দ্বীনী বিষয় শিখে নিজের ঈমানকে তাজা করার জন্য একত্র হন। বেশি বেশি করে সে রাতে ইবাদত করা পরদিন রোযা রাখা ইত্যাদি উদ্দেশ্য হয় না।
তাহলে মুসলিম শরীফের উল্লেখিত তাবলীগের বিরুদ্ধে দলীল হল কিভাবে? এটাতো পুরোপুরোই হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতাসূচক মনোভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।
পক্ষান্তরে বৃহস্পতিবারে দ্বীন বয়ান, দ্বীনী মুযাকারা ও দ্বীনী কথা শুনার জন্য মসজিদে একত্রি হওয়ার বর্ণনা রাসূল সাঃ এর নিকটতম সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ থেকে প্রমাণিত।
হাদীসে এসেছে-
عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُذَكِّرُ النَّاسَ فِي كُلِّ خَمِيسٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَوَدِدْتُ أَنَّكَ ذَكَّرْتَنَا كُلَّ يَوْمٍ؟ قَالَ: أَمَا إِنَّهُ يَمْنَعُنِي مِنْ ذَلِكَ أَنِّي أَكْرَهُ أَنْ أُمِلَّكُمْ، وَإِنِّي أَتَخَوَّلُكُمْ بِالْمَوْعِظَةِ، كَمَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُنَا بِهَا، مَخَافَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا “
হযরত ওয়াইল রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে মাসউদ রাঃ প্রতি বৃহস্পতিবার লোকদের ওয়াজ নসীহত করতেন। তাঁকে একজন বলল, হে আবূ আব্দুর রহমান! আমার মন চায়, যেন আপনি প্রতিদিন আমাদের নসীহ করেন। তিনি বললেন, এ কাজ থেকে আমাকে যা বিরত রাখে তা হল, আমি তোমাদের ক্লান্ত করতে পছন্দ করি না। আর আমি নসীহত করার ব্যাপারে তোমাদের [অবস্থার] প্রতি লক্ষ্য রাখি, যেমন রাসূল সাঃ আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন আমাদের ক্লান্তির আশংকায়। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭০}
ইমাম বুখারী রহঃ যে পরিচ্ছেদে এ হাদীস এনেছেন, তার শিরোনাম দিয়েছেন – بَابُ مَنْ جَعَلَ لِأَهْلِ العِلْمِ أَيَّامًا مَعْلُومَةً তথা ইলম শিক্ষার্থীর জন্য দিন নির্দিষ্ট করা।
বুখারী শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, بعض النصوص المبينة والضابطة لحكم توقيت الوعظ، তথা কতিপয় সুষ্পষ্ট ইবারত ও মূলনীতি ওয়াজ-নসীহতের জন্য সময় নির্ধারণের নির্দেশ দেয়। {ফাতহুল বারী}
উল্লেখিত হাদীস এবং ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ এর ব্যাখ্যা দ্বারা একথা সুষ্পষ্টরূপে প্রমাণ করছে যে, ওয়াজ-নসীহতের জন্য সময় নির্ধারণ করা এটি শরীয়ত সম্মত। এবং খোদ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ নিজেই প্রতি বৃৃহস্পতিবার ওয়াজ ও নসীহত করতেন।
তাহলে তাবলীগের মার্কাজের বয়ান ও নসীহতের জন্য একত্র হওয়া কিভাবে বিদআত হয়?
আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব জাহিল ব্যক্তিদের প্রোপাগান্ডা থেকে মুসলিম উম্মাহকে হিফাযাত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন|
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা

তাবলীগ সমালোচকদের দাঁত ভাঙ্গা জাবাব দেন আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী দা.

যে নিজে নিজে ভাল পথে চলে অন্যকে ভাল পথে চলার দাওয়াত দেয় না--
এই পথে চললে তুমি ধংশ হবে, এই পথে চললে তুমি জাহান্নামে যাবে-- 
এই পথে চললে তোমার শান্তি হবেনা, এই পথে চললে তোমার মুক্তি হবে না---
যারা মনে করে,অমুক মন্দ পথে চলে,সে জাহান্নামে যাবে আমার কি আসে যায়?
আমি ভাল পথে চলি, জাহান্নামে যাবো না- এটা আত্মাওয়ালার কথা নয়—
প্রশ্বস্ত আত্মার মনোভাব নয়।এটা অপরের কল্যাণকামিতার মনোভাব নয়।

অথচ গোটা মানবজাতির কল্যাণ কামনার জন্য তোমাদেরকে শ্রষ্ঠ উম্মত বানানো হয়েছে।
সুতারাং তোমরা শুধু জান বাঁচাতে চাইলে জান বাঁচাতে পারবে না।
নিজেও ভাল পথে চলবে অপরকেও ভাল পথে চলার দাওয়াত দিতে হবে।নিজে আল্লাহর পথে চলবে—
আর অপরকেও আল্লাহর পথে তাবলীগ করবে।এই উম্মত শ্রষ্ঠ উম্মত হওয়ার প্রধান কারনই হল
দাওয়াত ও তাবলীগ।

কিন্তু বর্তমান সময়ে যারা দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করেন তাদের
অনেক সমালোচনা আছে বর্তমান সমাজে ।

উল্লেখযোগ্য হল—
তারা চিল্লা পেল কোথায়?
মনগরা ছয় উসূল পেল কোথায়?
এরা কেন মসজিদে থাকে-ঘুমায়?

আমি এ ধরনের সমালোচনার পর্যালোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

প্রথম নম্বর : এরা চিল্লা পেল কোথায়?

চিল্লা তো কুরআন হাদীসে নেই। এ ব্যাপারে আমি আপনাদের একটি আয়াত শুনাচ্ছি দেখবেন—
কুরআনে চিল্লার কথা আছে কি নেই। চিল্লা ফারসী শব্দ।বাংলা সমার্থক হলো চল্লিশ দিনের সাধনা। আরবীতে বলে আরবাঈন অথবা আরবাঈনা।বাংলাটা আমাদের সমাজে প্রচলিত নয়।
আরবী তো আমাদের সমাজে বুঝেই না। এই ফারসী শব্দটাই আমাদের সমাজে চালু হয়ে গেছে ।
চিল্লা- চল্লিশ দিনের সাধনা। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন কুরআনে বলেন- স্মরণ করো!
সেই দিনের ইতিহাস! যে দিন আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন হযরত মূসা আ. কে দিনে রাতে
চল্লিশ দিনের সাধনার জন্য তূর পাহাড়ে নিয়ে ছিলেন। (সূরা বাকারা: ৫১) কে নিয়ে ছিলেন ? আল্লাহ।কাকে নিয়ে ছিলেন ? হযরত মূসা আ. কে। কোথায় নিয়ে ছিলেন ? তূর পাহাড়ে।
কিসের জন্য? চল্লিশ দিনের সাধনার জন্য । এই কথাটার নামই চিল্লা ।কুরআনে নেই কোথায়?
চোখ খুলে কুরআন দেখো না কেন?

কিন্তু প্রশ্ন হল,তিনি তো নবী ছিলেন ,আমরা তো নবী নই। হযরত মূসা আ.-কে চিল্লা দেওয়ার জন্য তূর পাহাড়ে নিয়ে গেলেন-তিনি নবী ছিলেন , আমরা তো নবী নই। আমরা কেন চিল্লা দিতে যাব?

প্রত্যেক টা মানুষ মায়ের গ্রর্ভে যখন দেহ স্থানান্তিত হয়,বাবার শরীরের এক বিন্দু পানি আর মায়ের শরীরের এক বিন্দু পানি একত্র হয়ে যখন মায়ের গর্ভথলেতে প্রবেশ করে তখন থেকেই আল্লাহ একজন ফিরিশতা মোতায়েনকরে দেন প্রতি চল্লিশ দিনের এক একটা সাধানার মাধ্যমে এক একটা পরিবর্তন ঘটানোর জন্য। প্রথম চিল্লায় পানির বিন্দু থাকে।দ্বীতীয় চিল্লায় রক্তের বিন্দুতে পরিণত হয়।তৃতীয় চিল্লায় মাংশ পিন্ডে পরিণত হয়। চতুর্থ চিল্লায় হাড় গজায় ।পঞ্চম চিল্লায় রূহের সঞ্চার হয়।ষষ্ট চিল্লায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গজায়।সপ্তম চিল্লায় পৃথিবীর আলো-বাতাস সহ্য করার যোগ্য হয় । অষ্টম চিল্লা দিয়ে পৃথিবীতে বের হয়ে আসে।

সুতারাং দেখা গেল সাধারণত: প্রতিটি মানব সন্তানই আপন আপন মায়ের পেটে আট চিল্লা দিয়ে আসে।
এই আট চিল্লাকি শুধু গাট্টিওয়ালা তাবলীগের লোকেরাই দিয়ে আসে,না ঐ বিরুদ্ধবাদীরাও প্রত্যেকেই
দিয়ে এসেছ,এখন অস্বীকার করো কেন?

দুনিয়াতে আসার পরও চিল্লার কথা হাদীসে আছে
তারা এখন বলে যে,সাত চিল্লা দেয়াটা মায়ের গর্ভের ভিতরের কথা। মায়ের গর্ভে থাকতে তো আমরাও দিয়ে এসেছি,কিন্তু এখন কেন দেবো? এখন তো আমরা আর মায়ের গর্ভে নই,বরং দুনিয়াতে আছি।
তাদের এই প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত আছে মহানবী সা. এর এই হাদীস মুবারক।ইরশাদ হয়েছে:
আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি একাদারে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ইমামের সাথে ‘তাকবীরে উলা’সহকারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবে তাকে পাঁচটি মহান পুরস্কার দেয়া হবে। ১ম পুরস্কার হলো তাকে মুনাফিকের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে খাঁটি মুমিনের দফতরে তার নাম লিপিবদ্ধ করা হবে।... ইমামের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ৪০দিন পর্যন্ত তাকবীরে উলার সাথে আদায় করার বিষয়টি আমাদের এই দুনিয়ার বিষয় কিনা? সুতরাং এর দ্বারা পরিস্কার হয়ে গেল যে,দুনিয়ায় আসার পরেও চিল্লার কথা হাদীসে আছে।

দ্বিতীয় নম্বর : এরা মনগরা ছয় উসূল পেল কোথায়?

তাবলীগের ছয় উসূল না মানলে মুমিন না কাফির?

ছয় উসূলের প্রথমটি হল: কালিমা.!
এবার আপনারা বলুন তো ছয় উসুলের প্রথম টা না মানলে কি হবে??

দ্বিতীয় নাম্বার উসূল হল নামায.!
এবার আপনারা বলুন তো,যারা নামাযকে মানবে না, বরং অস্বীকার করবে;
তারা মুমিন না কাফির হবে??

তৃতীয় নাম্বার উসূল হল ইলম ও যিকির.!
ইলম বলা হয় কুরআন-হাদীসের জ্ঞানকে.! আর কুরআন-হাদীস যে মানে না
সে কি সুন্নি না কাফির??

চতুর্থ নাম্বার উসূল হল ইকরামুল মুসলিমীন.!
মহানবী সাঃ ইরশাদ করেন...মান লাম ইয়ার হাম সগিরনা ওয়ালাম ইউকার কাবিরনা পালাইচা মিন্না.! অর্থঃ"যারা ছোটদেরকে স্নেহ করে না, বড়দেরকে সম্মান করে না, তারা আমাদের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়" সুতরাং এখন আপনারাই বলুন, যারা এই ইকরামুল মুসলিমীন মানবে না, তারা কি মুমিন থাকবে না কাফির হবে??

৫ম নাম্বার উসূল হল সহিহ নিয়ত.!
মহানবী সাঃ ইরশাদ করেন: ইন্নামাল আ-মালু বিন্নিয়াত, অর্থঃ"সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল" এবার আপনারাই বলুন ইসলাহে নিয়ত না মানলে সে কি হবে??

ষষ্ঠ নাম্বার উসূল হল তাবলিগ !
মহান আল্লাহ লাববুল আলামীন তাঁর রাসূলকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন অর্থঃ "হে রাসূলে কারীম সাঃ.! আপনার মহান প্রভুর পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়, তা আমার বান্দাদের কাছে তাবলীগ করুন বা পৌছাতে থাকুন.! যদি একটা কথাও তাবলীগ করা বাকী থাকে, তাহলে আপনার রিসালাতের দায়িত্ব অসমাপ্ত থেকে যাবে.!" (সূরা মায়েদা: ৬৭) এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা মহানবী সাঃ কে বাল্লিগ 'তুমি তাবলীগ করো' বলেছেন.! আর এরপর মহানবী সাঃ উম্মতদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন : বাল্লিগু আন্নি ওয়ালাউ আ-য়াহ.! অর্থাত "তোমরা সকলে আমার থেকে বুঝে বিষয়াবলী অপরদের কাছে পৌছে দাও.! বেশী না পারলে অল্প হলেও তাবলীগ করো.! অন্ততপক্ষে একটি আয়াত বা বিষয় হলেও পৌছে দাও.! এবার আপনারাই বলুন., যারা কোরআনের এ আয়াত ও এ হাদীস মানবে না, তারা মুমীন না কাফির??

তৃতীয় নাম্বার : এরা কেন মসজিদে থাকে-ঘুমায়?

দ্বীনের কাজে মসজিদে থাকা ঘুমানো এবাদাত রাসূল সা. এর মসজিদে একদল সাহাবায়ে কেরাম রা.
দ্বীনের কাজে মসজিদে থাকতেন খাইতেন ঘুমাতেন


যে নিজে নিজে ভাল পথে চলে অন্যকে ভাল পথে চলার দাওয়াত দেয় না--
এই পথে চললে তুমি ধংশ হবে, এই পথে চললে তুমি জাহান্নামে যাবে-- 
এই পথে চললে তোমার শান্তি হবেনা, এই পথে চললে তোমার মুক্তি হবে না---
যারা মনে করে,অমুক মন্দ পথে চলে,সে জাহান্নামে যাবে আমার কি আসে যায়?
আমি ভাল পথে চলি, জাহান্নামে যাবো না- এটা আত্মাওয়ালার কথা নয়—
প্রশ্বস্ত আত্মার মনোভাব নয়।এটা অপরের কল্যাণকামিতার মনোভাব নয়।

অথচ গোটা মানবজাতির কল্যাণ কামনার জন্য তোমাদেরকে শ্রষ্ঠ উম্মত বানানো হয়েছে।
সুতারাং তোমরা শুধু জান বাঁচাতে চাইলে জান বাঁচাতে পারবে না।
নিজেও ভাল পথে চলবে অপরকেও ভাল পথে চলার দাওয়াত দিতে হবে।নিজে আল্লাহর পথে চলবে—
আর অপরকেও আল্লাহর পথে তাবলীগ করবে।এই উম্মত শ্রষ্ঠ উম্মত হওয়ার প্রধান কারনই হল
দাওয়াত ও তাবলীগ।

কিন্তু বর্তমান সময়ে যারা দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করেন তাদের
অনেক সমালোচনা আছে বর্তমান সমাজে ।

উল্লেখযোগ্য হল—
তারা চিল্লা পেল কোথায়?
মনগরা ছয় উসূল পেল কোথায়?
এরা কেন মসজিদে থাকে-ঘুমায়?

আমি এ ধরনের সমালোচনার পর্যালোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

প্রথম নম্বর : এরা চিল্লা পেল কোথায়?

চিল্লা তো কুরআন হাদীসে নেই। এ ব্যাপারে আমি আপনাদের একটি আয়াত শুনাচ্ছি দেখবেন—
কুরআনে চিল্লার কথা আছে কি নেই। চিল্লা ফারসী শব্দ।বাংলা সমার্থক হলো চল্লিশ দিনের সাধনা। আরবীতে বলে আরবাঈন অথবা আরবাঈনা।বাংলাটা আমাদের সমাজে প্রচলিত নয়।
আরবী তো আমাদের সমাজে বুঝেই না। এই ফারসী শব্দটাই আমাদের সমাজে চালু হয়ে গেছে ।
চিল্লা- চল্লিশ দিনের সাধনা। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন কুরআনে বলেন- স্মরণ করো!
সেই দিনের ইতিহাস! যে দিন আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন হযরত মূসা আ. কে দিনে রাতে
চল্লিশ দিনের সাধনার জন্য তূর পাহাড়ে নিয়ে ছিলেন। (সূরা বাকারা: ৫১) কে নিয়ে ছিলেন ? আল্লাহ।কাকে নিয়ে ছিলেন ? হযরত মূসা আ. কে। কোথায় নিয়ে ছিলেন ? তূর পাহাড়ে।
কিসের জন্য? চল্লিশ দিনের সাধনার জন্য । এই কথাটার নামই চিল্লা ।কুরআনে নেই কোথায়?
চোখ খুলে কুরআন দেখো না কেন?

কিন্তু প্রশ্ন হল,তিনি তো নবী ছিলেন ,আমরা তো নবী নই। হযরত মূসা আ.-কে চিল্লা দেওয়ার জন্য তূর পাহাড়ে নিয়ে গেলেন-তিনি নবী ছিলেন , আমরা তো নবী নই। আমরা কেন চিল্লা দিতে যাব?

প্রত্যেক টা মানুষ মায়ের গ্রর্ভে যখন দেহ স্থানান্তিত হয়,বাবার শরীরের এক বিন্দু পানি আর মায়ের শরীরের এক বিন্দু পানি একত্র হয়ে যখন মায়ের গর্ভথলেতে প্রবেশ করে তখন থেকেই আল্লাহ একজন ফিরিশতা মোতায়েনকরে দেন প্রতি চল্লিশ দিনের এক একটা সাধানার মাধ্যমে এক একটা পরিবর্তন ঘটানোর জন্য। প্রথম চিল্লায় পানির বিন্দু থাকে।দ্বীতীয় চিল্লায় রক্তের বিন্দুতে পরিণত হয়।তৃতীয় চিল্লায় মাংশ পিন্ডে পরিণত হয়। চতুর্থ চিল্লায় হাড় গজায় ।পঞ্চম চিল্লায় রূহের সঞ্চার হয়।ষষ্ট চিল্লায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গজায়।সপ্তম চিল্লায় পৃথিবীর আলো-বাতাস সহ্য করার যোগ্য হয় । অষ্টম চিল্লা দিয়ে পৃথিবীতে বের হয়ে আসে।

সুতারাং দেখা গেল সাধারণত: প্রতিটি মানব সন্তানই আপন আপন মায়ের পেটে আট চিল্লা দিয়ে আসে।
এই আট চিল্লাকি শুধু গাট্টিওয়ালা তাবলীগের লোকেরাই দিয়ে আসে,না ঐ বিরুদ্ধবাদীরাও প্রত্যেকেই
দিয়ে এসেছ,এখন অস্বীকার করো কেন?

দুনিয়াতে আসার পরও চিল্লার কথা হাদীসে আছে
তারা এখন বলে যে,সাত চিল্লা দেয়াটা মায়ের গর্ভের ভিতরের কথা। মায়ের গর্ভে থাকতে তো আমরাও দিয়ে এসেছি,কিন্তু এখন কেন দেবো? এখন তো আমরা আর মায়ের গর্ভে নই,বরং দুনিয়াতে আছি।
তাদের এই প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত আছে মহানবী সা. এর এই হাদীস মুবারক।ইরশাদ হয়েছে:
আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি একাদারে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ইমামের সাথে ‘তাকবীরে উলা’সহকারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবে তাকে পাঁচটি মহান পুরস্কার দেয়া হবে। ১ম পুরস্কার হলো তাকে মুনাফিকের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে খাঁটি মুমিনের দফতরে তার নাম লিপিবদ্ধ করা হবে।... ইমামের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ৪০দিন পর্যন্ত তাকবীরে উলার সাথে আদায় করার বিষয়টি আমাদের এই দুনিয়ার বিষয় কিনা? সুতরাং এর দ্বারা পরিস্কার হয়ে গেল যে,দুনিয়ায় আসার পরেও চিল্লার কথা হাদীসে আছে।

দ্বিতীয় নম্বর : এরা মনগরা ছয় উসূল পেল কোথায়?

তাবলীগের ছয় উসূল না মানলে মুমিন না কাফির?

ছয় উসূলের প্রথমটি হল: কালিমা.!
এবার আপনারা বলুন তো ছয় উসুলের প্রথম টা না মানলে কি হবে??

দ্বিতীয় নাম্বার উসূল হল নামায.!
এবার আপনারা বলুন তো,যারা নামাযকে মানবে না, বরং অস্বীকার করবে;
তারা মুমিন না কাফির হবে??

তৃতীয় নাম্বার উসূল হল ইলম ও যিকির.!
ইলম বলা হয় কুরআন-হাদীসের জ্ঞানকে.! আর কুরআন-হাদীস যে মানে না
সে কি সুন্নি না কাফির??

চতুর্থ নাম্বার উসূল হল ইকরামুল মুসলিমীন.!
মহানবী সাঃ ইরশাদ করেন...মান লাম ইয়ার হাম সগিরনা ওয়ালাম ইউকার কাবিরনা পালাইচা মিন্না.! অর্থঃ"যারা ছোটদেরকে স্নেহ করে না, বড়দেরকে সম্মান করে না, তারা আমাদের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়" সুতরাং এখন আপনারাই বলুন, যারা এই ইকরামুল মুসলিমীন মানবে না, তারা কি মুমিন থাকবে না কাফির হবে??

৫ম নাম্বার উসূল হল সহিহ নিয়ত.!
মহানবী সাঃ ইরশাদ করেন: ইন্নামাল আ-মালু বিন্নিয়াত, অর্থঃ"সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল" এবার আপনারাই বলুন ইসলাহে নিয়ত না মানলে সে কি হবে??

ষষ্ঠ নাম্বার উসূল হল তাবলিগ !
মহান আল্লাহ লাববুল আলামীন তাঁর রাসূলকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন অর্থঃ "হে রাসূলে কারীম সাঃ.! আপনার মহান প্রভুর পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়, তা আমার বান্দাদের কাছে তাবলীগ করুন বা পৌছাতে থাকুন.! যদি একটা কথাও তাবলীগ করা বাকী থাকে, তাহলে আপনার রিসালাতের দায়িত্ব অসমাপ্ত থেকে যাবে.!" (সূরা মায়েদা: ৬৭) এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা মহানবী সাঃ কে বাল্লিগ 'তুমি তাবলীগ করো' বলেছেন.! আর এরপর মহানবী সাঃ উম্মতদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন : বাল্লিগু আন্নি ওয়ালাউ আ-য়াহ.! অর্থাত "তোমরা সকলে আমার থেকে বুঝে বিষয়াবলী অপরদের কাছে পৌছে দাও.! বেশী না পারলে অল্প হলেও তাবলীগ করো.! অন্ততপক্ষে একটি আয়াত বা বিষয় হলেও পৌছে দাও.! এবার আপনারাই বলুন., যারা কোরআনের এ আয়াত ও এ হাদীস মানবে না, তারা মুমীন না কাফির??

তৃতীয় নাম্বার : এরা কেন মসজিদে থাকে-ঘুমায়?

দ্বীনের কাজে মসজিদে থাকা ঘুমানো এবাদাত রাসূল সা. এর মসজিদে একদল সাহাবায়ে কেরাম রা.
দ্বীনের কাজে মসজিদে থাকতেন খাইতেন ঘুমাতেন

Saturday, 8 March 2014

জমজম কূপ সম্মন্ধে কিছু জানা অজানা তথ্য

জমজম কূপ সম্মন্ধে কিছু
জানা অজানা তথ্য :-

১) আল্লাহ তা'লার অসীম কুদরতে ৪০০০
বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।

২) ভারী মোটরের
সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার
পানি উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক
সৃষ্টির সূচনা কালের ন্যায়।

৩) পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি,
জন্মায়নি কোন ছত্রাক বা শৈবাল।

৪) সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে,
মাত্র১১ মিনিটেই আবার পূর্ণ
হয়ে যায় কূপটি।

৫) এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির
পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ,
এমনকি হজ্ব মউসুমে ব্যবহার ক'য়েক গুন
বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর
কখনও নিচে নামে না।

৬) সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও
এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই
পরিমানে আছে।

৮) এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও
ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান অন্যান্য
পানির থেকে বেশী, এজন্য এই পানি শুধু
পিপাসা মেটায় তা না, এই পানি ক্ষুধাও
নিবারণ করে।

৯) এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমান
বেশী থাকার কারনে এতে কোন
জীবানু জন্মায় না ।

১০) এই পানি পান করলে সকল
ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

Monday, 3 March 2014

এপ্রিল ফুল

মিথ্যা একটি চারিত্রিক ব্যাধি। যার মধ্যে মনুষ্য রুচিবোধ কিংবা সুস্থ প্রকৃতি বিদ্যমান সে কোনক্রমেই এর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করতে পারে না। আর না করাই হচ্ছে স্বাভাবিক মনুষ্য ধর্ম। সকল ধর্মেই এর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
‘পক্ষান্তরে সত্য পৃথিবীর স্থায়িত্বের একটি মূল ভিত্তি। প্রশংসাযোগ্য বস্তু, নবুওয়তের অংশ ও তাকওয়ার ফল। এ সত্য না থাকলে শরিয়তের বিধানসমূহ অকেজো হয়ে যেত। মূলত মিথ্যা বলার দোষে দুষ্ট হওয়ার অর্থ হচ্ছে মানবতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া। কারণ, কথা বলা মানুষের একটি বৈশিষ্ট্য আর কথা সত্য না হলে তার কোন অর্থই থাকে না।’ (মুহাম্মদ আল-খাদেমি: বারীকাতুন মাহমূদিয়া, ৩/১৮৩)
আমাদের পবিত্র দীনে ইসলামে এর সামান্যতম আশ্রয়-প্রশ্রয় নেই। কুরআন, হাদিস এবং উম্মতের ঐকমত্য দ্বারা প্রমাণিত যে এটা হারাম, এটা নিষিদ্ধ ও গর্হিত। যে মিথ্যা বলে তার পরিণাম দুনিয়া ও আখেরাতে খুবই নিন্দনীয়।
নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্র ব্যতীত মিথ্যা বলার কোন অবকাশ নেই। এ মিথ্যার মাধ্যমে কারো অধিকার হরণ করা যাবে না, কাউকে হত্যা করা যাবে না এবং কারো ইজ্জত সম্মানে আঘাত হানা যাবে না। বরং কাউকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিংবা দু’জনের মধ্যে ছিন্ন সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করার জন্য অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল-মহব্বত তৈরি করার জন্য এ মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যাবে, অন্যথায় নয়।
ইসলাম ধর্মে এমন একটি মুহূর্ত কিংবা দিন-ক্ষণ নেই যার মধ্যে মিথ্যা বলা বৈধ বা মানুষ যা চায় তা বলার জন্য সে স্বাধীন। পক্ষান্তরে কতক সমাজে প্রচলিত রেওয়াজ যেমন পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুল নামে যে কুসংস্কার চলে আসছে যে, তাতে মিথ্যা বলা বা কাউকে ধোঁকা দেয়া সম্পূর্ণ বৈধ, তার কোন ভিত্তি ইসলাম ধর্মেই নেই। বরং মিথ্যা সবসময়ই মিথ্যা এবং সবসময় তা হারাম।

পহেলা এপ্রিল : মুসলিম উম্মাহর শোকের দিন

পহেলা এপ্রিল : মুসলিম উম্মাহর শোকের দিনআর নয় এপ্রিল ফুল; সময় এসেছে সচেতন হওয়ার



ইউরোপে মুসলমানরা প্রবেশ করেছিলেন স্পেনের দরজা দিয়ে। ঐতিহাসিক রবার্ট ব্রিফল্ট দি ম্যাকিং অব হিউম্যানিটি গ্রন্থে মুসলমানদের এ প্রবেশকে অন্ধকার কক্ষের দরজা দিয়ে সূর্যের আলোর প্রবেশ বলে অভিহিত করেছেন। কেন এই তুলনা? রবার্ট ব্রিফল্টের জবাব হলো—‘যেহেতু স্পেনে মুসলমানদের আগমনের ফলে শুধু স্পেন নয়, বরং গোটা ইউরোপ মুক্তির পথ পেয়েছিল এজ অব ডার্কনেস তথা হাজার বছরের অন্ধকার থেকে। এজ অব ডার্কনেস সম্পর্কে রবার্ট ব্রিফল্টের মন্তব্য হলো—‘সেই সময় জীবন্ত অবস্থায় মানুষ অমানুষিকতার অধীন ছিল, মৃত্যুর পর অনন্ত নরকবাসের জন্য নির্ধারিত ছিল।’

বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা

বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা

বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিবাহ করা নবীগণের (আলাহিসসালাতু আসসালাম) সুন্নাত।
রাসুল(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
যে বাক্তি বিয়ে করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে করে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (দারিমী-কিতাবুন নিকাহ)
ইমাম রাগিব বলেনঃ
বিয়েকে দুর্গ বলা হয়েছে,কেননা(বিয়ে) স্বামী-স্ত্রী উভয়কে সকল প্রকার লজ্জাজনক কাজ থেকে দুর্গবাসীদের মতোয় বাচিয়ে রাখে। (মুফরাদাত)
তবে এই পবিত্র কর্ম পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু কু-প্রথা মানা হয়।যা কিনা অনুচিত।আসুন নবীগণের(আলাহিসসালাতু আসসালাম) এই সুন্নাত কে সুন্নাত তরীকায় পালন করি।

বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা:

১. চন্দ্র বর্ষের কোন মাসে বা কোন দিনে অথবা বর/কনের জন্ম তারিখে বা তাদের পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তারিখে বিবাহ শাদী হওয়া অথবা যে কোন শুভ সৎ কাজ করার জন্য ইসলামী শারী’য়াতে বা ইসলামী দিন তারিখের কোন বিধি নিষেধ নেয়। বরং উপরিউক্ত কাজগুলো বিশেষ কোন মাসে বা যে কোন দিনে করা যাবে না মনে করাই গুনাহ।
২. বিবাহ উৎসবে অথবা অন্য যে কোন উৎসবে পটকা-আতশবাজি ফুটান,অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা, রংবাজী করা বা রঙ দেওয়ার ছড়াছড়ি ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অপচয়।
আল্লাহু-তা’য়ালা বলেনঃ
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ۖ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا
“নিশ্চয় অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রভুর প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ।” (বানী ইসরাঈল-২৭)

রুকু ও সিজদার তাসবীহ এর বাংলা অর্থ কি?

প্রশ্নঃ রুকু ও সিজদার তাসবীহ এর বাংলা অর্থ কি?
রুকুর তাসবীহঃ সুবহা’না রাব্বিয়াল আ’যীম।
অর্থঃ আমি আমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
সুবহা’না – পবিত্রতা ঘোষণা করছি
রাব্বি – আমার রব্বের বা আমার প্রতিপালকের
আ’যীম -
সিজদার তাসবীহঃ সুবহা’না রাব্বিয়াল আ’লা
অর্থঃ আমি আমার মহান সুউচ্চ রব্বের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
সুবহা’না – পবিত্রতা ঘোষণা করছি
রাব্বি – আমার রব্ব বা আমার প্রতিপালক
আল-আ’লা – যিনি সুউচ্চ ও মহান
*** এইগুলো পড়ার পরে আরেকটা দুয়া করা যায়, যেটা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পড়তেন।
আয়েশা (রাঃ) বলেন যেঃ সুরা নাসর নাযিল হওয়ার পর থেকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কখনো এই দুয়া পড়া ছাড়া নামায পড়তে দেখিনি।

''সুবহা’নাকা আল্লা-হুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহা’মদিকা আল্লা-হুম্মাগফিরলী''
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের রব্ব। তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করি, তোমার প্রশংসা সহকারে। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
সুবহা’নাকা – পবিত্রতা ঘোষণা করছি
রাব্বানা – হে আমাদের রব্ব
ওয়া = এবং, বিহা’মদিকা = প্রশংসা সহকারে
আল্লা-হুম্মা = হে আল্লাহ!
আল্লা-হুম্মা + মাগগিরলী = আল্লা-হুম্মাগফিরলী''
আল্লা-হুম্মা = হে আল্লাহ!
মাগফিরলি = তুমি আমাকে ক্ষমা করো
এই দুয়া রুকু এবং সিজদা দুই জায়গাতেই পড়া যায়, ১/৩ করে। এই দুয়া পড়ার আগে তাসবীহগুলো পড়ে নিতে হবে।

দুয়াটার রেফারেন্স হলোঃ সহীহ মুসলিম ৯৬৯

প্রকৃত মুমিনদের পরিচয়...

প্রকৃত মুমিনদের পরিচয়...
কুরানের আয়াত শুনে গায়ের লোম পর্যন্ত শিউরে উঠেঃ
"আল্লাহ উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়।"
সুরা যুমারঃ ২৩।

Saturday, 1 March 2014

ফাযায়েলে আমল নিয়ে দুটি অপপ্রচারের জবাব


ফাযায়েলে আমল নিয়ে দুটি অপপ্রচারের জবাব

প্রশ্ন

সামাজিক সাইটগুলোতে তাবলীগের বিরুদ্ধে এসব পোষ্ট প্রচার করা হচ্ছে। হুজুর যদি সময় করে একটু জবাব দিতেন তাহলে কৃতজ্ঞ হতাম।

তাবলীগ জামাতের কিতাব ফাজায়েলে আমলে অবাব আজগুবি কিসসা-কাহিনীঃ

‘’শেখ আবদুল ওয়াহেদ নামে একজন বিখ্যাত সুফি ছিলেন। কথিত আছে, চল্লিশ বৎসর যাবৎ তিনি এশার অযু দ্বারা ফজরের নামাজ পড়িয়াছেন।‘’

ফাজায়েলে আমল; ফাজায়েলে নামাজ; মুহাম্মাদ জাকারিয়া ছাহেব কান্ধলভি; অনুবাদক- মুফতি মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ; নজরে ছানী সম্পাদনা হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ যুবায়ের ছাহেব মাওলানা রবিউল হক ছাহেব; কাকরাইল মসজিদ, ঢাকা।

প্রকাশনা- দারুল কিতাব, ৫০ বাংলাবাজার,ঢাকা; অক্টোবর ২০০১ ইং; পৃষ্ঠা নঃ ৯৪

ফাজায়েলে আমল; ফাজায়েলে নামাজ; তাবলিগী কুতুবখানা সংশোধিত সংস্করন; ১২ মার্চ ১৯৯০ ইংরেজি; পৃষ্ঠা নঃ ৯২

প্রতিবাদ খন্ডনঃ

হে সম্মানিত পাঠক! আল্লাহ প্রদত্ত নিজের জ্ঞান বিবেক-বুদ্ধি একটু কাজে লাগানোর অনুরোধ করছি। আপনি চিন্তা করে দেখুন কত বড় ডাহা মিথ্যা কথা ধর্মের নামে চালানো হচ্ছে!

# কোনো ব্যক্তির পক্ষে কি সম্ভব লাগাতার চল্লিশ বৎসর এশার অযু দ্বারা ফজরের নামাজ পড়া?

# চল্লিশ বৎসর যাবত কি সারারাতের মধ্যে একদিনও তার অযু ভঙ্গ হয় নাই?

# চল্লিশ বৎসর যাবত কি একদিনও তিনি ঘুমান নাই?

# চল্লিশ বৎসর যাবত কি একদিনও সারারাতের মধ্যে পেশাব করেন নাই?

# চল্লিশ বৎসর যাবত কি একদিনও সারারাতের মধ্যে পায়খানা করেন নাই?

# চল্লিশ বৎসর যাবত কি একদিনও সারারাতের মধ্যে (যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন) স্ত্রী গমন করেন নাই?

# চল্লিশ বৎসর যাবত কি একদিনও সারারাতের মধ্যে তার স্বপ্নদোষ হয় নাই?

আমাদের চিন্তা করা উচিত ফাজায়েলের নামে কি রকম উদ্ভট কথা চালানো হচ্ছে, তাও আবার মসজিদে মসজিদে!

কোন সুস্থ মস্তিস্কের বিবেক যার সামান্যতম বোধশক্তি আছে সে উপরোক্ত কথা সমর্থন করতে পারে না।


ফাযায়েলে আমলের ফাযায়েলে নামাযে উল্লেখিত আছে যে, হযরত জয়নুল আবেদীন (রহঃ) দৈনিক এক হাজার রাকাত নামাজ পড়িতেন।

এটিও একটি অসম্ভব আজগুবি কথা। একদিনে এক হাজার রাকাত নামায পড়া অসম্ভব। খাওয়া, দাওয়া অন্যান্য কাজের মাঝ দিয়ে এক হাজার রাকাত কিভাবে পড়া যাবে? তাহলে কি ঠুশঠাষ উঠতেন আর বসেতন? কিরাত টেরাত কিছুই পড়তেন না?

আসুন উপরে বর্ণিত ঘটনার একটি পোষ্টমর্টেম করিঃহযরত ওমর/ওমায়ের (রাঃ) প্রতিদিন ,০০০ রাকাত নফল নামাজ ,০০,০০০ বার তাসবিহ আদায় করতেন

১০০০ রাকাত নামাজ মিনিট করে = ১০০০ মিনিট সময়

১০০০ রাকাত নামাজে ৫০০ টি তাশাহুদের বৈঠকে মিনিট করে = ৫০০ মিনিট সময়

১০০০০০ বার তাসবিহ আদায় করতে সেকেন্ড করে ১০০০০০ সেকেন্ড/৬০ = ১৬৬৬.৬৭ মিনিট সময়

মোট সময় লাগে ( ১০০০+৫০০+১৬৬৬.৬৭) = ৩১৬৬.৬৭ মিনিট সময়

দৈননদিন নামাজের হিসাবঃ

এর বাইরে প্রতিদিন আছে ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ মিনিট করে = ১৭ মিনিট সময়

১৭ রাকাত নামাজে টি তাশাহুদের বৈঠকে মিনিট করে = মিনিট সময়

এর বাইরে প্রতিদিন আছে রাকাত ওয়াজিব নামাজ মিনিট করে = মিনিট সময়

রাকাত নামাজে টি তাশাহুদের বৈঠকে মিনিট করে = মিনিট সময়

এর বাইরে প্রতিদিন আছে কমপক্ষে ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ মিনিট করে = ১২ মিনিট সময়

১২ রাকাত নামাজে টি তাশাহুদের বৈঠকে মিনিট করে = মিনিট সময়

এর বাইরে প্রতিদিন আছে রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ মিনিট করে = মিনিট সময়

রাকাত নামাজে টি তাশাহুদের বৈঠকে মিনিট করে = মিনিট সময়

মোট সময় লাগে (১৭++++১২++ +) = ৬১ মিনিট সময়

এর বাইরে প্রতিদিন আছে অজু-গোছল, পায়খানা-প্রস্রাব, খাওয়া-ঘুম, বিবির হক ইত্যাদিতে যদি কম করেও ঘন্টা = ১৮০ মিনিট ধরেন।

তাহলে প্রতিদিন মোট সময় প্রয়োজন (৩১৬৬.৬৭+৬১+১৮০) = ,৪০৭.৬৭ মিনিট = ৫৬ ঘন্টা ৪৭ মিনিট।

আমরা জানি দিন = ১৪৪৬ মিনিট = ২৪ ঘন্টা মিনিট।

তাও যদি হয় সেটা হযরত ওমর/ওমায়ের (রাঃ) এর খেলাফত পাবার আগের ঘটনা। আর এটি যদি হয় খেলাফত পাবার পরের ঘটনা তাহলেতো সময় আরো বেশী প্রয়োজন, কারণ তাকে রাষ্ট্রের শাষন কার্যে সময় ব্যয় করতে হবে।

[তাই একবার সরল-সহজ নিরপেক্ষ মন নিয়ে ভেবে দেখুন এই কিতাবগুলি পুনঃমুল্যায়ন প্রয়োজন কিনা ?]

ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানালে খুশি হবো।

প্রশ্নকর্তা- মাসুম বিল্লাহ

ঢাকা, বাংলাদেশ।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

আমরা একাধিক বলেছি যে, ফাযায়েলে আমল মুসলিমদের মানসিকতা নিয়ে পড়ার জন্য। খৃষ্টানদের মানসিকতা নিয়ে না পড়ার জন্য। যদি মুসলিমের মানসিকতা নিয়ে ফাযায়েলে আমল পড়া হয়, তাহলে ফাযায়েলে আমলে বর্ণিত মুজেজা, কারামত বরকত সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে কোন প্রশ্ন আসবে না। কিন্তু যদি খৃষ্টানদের মানসিকতা নিয়ে ফাযায়েলে আমল পড়া হয়, তাহলে মনে প্রশ্ন আসবেই।

খৃষ্টানদের মানসিকতা কি?

খৃষ্টানরা যখন দেখল যে, হযরত ঈসা আঃ এর হাতের ছোঁয়ায় মৃত জীবিত হয়ে যায় তখন তারা বৈশিষ্টটিকে ঈসা আঃ এর নিজের অর্জিত যোগ্যতা মনে করল। আল্লাহ তাআলা ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তিনি পেয়েছেন তা তারা বিশ্বাস করল না। বরং খোদ ঈসা আঃ নিজের ক্ষমতায় আশ্চর্য কাজ করছেন বলে বিশ্বাস করল। ফলে তারা শিরকে লিপ্ত হল।

পক্ষান্তরে একজন মুসলিম নবীদের মুজেজা আর ওলীদের কারামতকে দেখে এই দৃষ্টিতে যে, এটি করেছেন আল্লাহ তাআলা। করিয়েছেন বান্দাকে দিয়ে। কিন্তু উক্ত কাজের স্রষ্টা মূলত আল্লাহই। মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, ঈসা আঃ এর হাতে মৃত জীবিত হতো আল্লাহর ইচ্ছেয়, এতে ঈসা আঃ এর নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই।

ঠিক তেমনি যখন ফাযায়েলে আমলের মাঝে এমন সব মুজেজা কারামাতের কথা পাওয়া যায়, যা বাহ্যিকভাবে অসম্ভব। যা আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় কিছু বান্দার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, তখন আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি একাজটি উক্ত বুযুর্গ ব্যক্তি নিজে করেননি। আশ্চর্য ঘটনা ঘটানোর তার কোন ক্ষমতাই নেই। বরং একাজ করেছেন আল্লাহ তাআলা। তবে যেহেতু উক্ত বান্দাকে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন, তাই তার হাত দিয়ে উক্ত আশ্চর্য ঘটনাটির প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

তাই আশ্চর্য ঘটনার কথা শুনলে আমাদের মনে কোন প্রশ্নই থাকে না। বা জাগে না।

কিন্তু যিনি খৃষ্টানী মানসিকতা নিয়ে ওসব ঘটনা পড়েন, অর্থাৎ যারা খৃষ্টানদের মত বিশ্বাস করেন যে, আশ্চর্য ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। আল্লাহর সাহায্য ছাড়াই উক্ত বুযুর্গ ব্যক্তি আশ্চর্য ঘটনা ঘটালেন, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে যে, আরে এতো শিরক হয়ে যাচ্ছে।

কারণে আমরা তাবলীগ বিরোধী ভাইদের বলি, ফাযায়েলে আমল পড়ার আগে মুসলিম মানসিকতা নিজের মাঝে তৈরী করুন। খৃষ্টানী মানসিকতা পরিহার করুন। তাহলে ফাযায়েলে আমল নিয়ে অযথা প্রশ্ন মনে উদয় হবে না। আর যদি খৃস্টানী মানসিকতা পরিহার না করতে পারেন, তাহলে দয়া করে মকবুল কিতাবটি পড়ার কোন দরকার নেই।

চল্লিশ বছর পর্যন্ত এক অজুতে ফজর নামায পড়া প্রসঙ্গে

বিষয়ে প্রশ্ন জেগেছে মূলত খৃষ্টানী মানসিকতা নিয়ে ফাযায়েলে আমল পড়ার কারণে। যদি মুসলিম মানসিকতা নিয়ে পড়তেন, তাহলে প্রশ্ন আসতো না। আল্লাহ তাআলা যদি একটি মানুষকে চল্লিশ বছর পর্যন্ত ইশার অজুতে ফজর নামায পড়ার তৌফিক দেন তাহলে আহলে হাদীস ভাইদের সমস্যা কি?

আল্লাহ তাআলা কি কোন বান্দাকে দিয়ে কাজ করাতে সক্ষম নন?

আল্লাহ তাআলা কি আহলে হাদীস ভাইদের মত অক্ষম? নাউজুবিল্লাহ!

যে আল্লাহ তাআলা আসহাবে কাহাফের বাসিন্দাতের ৩০০ বছর পর্যন্ত না খাইয়ে, পেশাব পায়খানা না করিয়ে জীবিত রাখতে পারেন, তিনি মাত্র চল্লিশ বছর পর্যন্ত ইশার নামায পড়ে অল্প কয়েক ঘন্টা পেশাব পায়খানা আটকে রাখার ক্ষমতা দিতে পারেন না?

আল্লাহর দিকে আহবান করার আড়ালে আসলে আহলে হাদীসরা কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে মানুষের আকিদাকে? আল্লাহ তাআলাকে এত অক্ষমতো কেবল নাস্তিকরাই মনে করতে পারে। কোন মুসলিম কি আল্লাহ তাআলাকে এত দুর্বল অক্ষম মনে করতে পারে?

আল্লাহ তাআলা এসব ফিতনাবাজ থেকে দেশের মুসলিম জাতিকে হিফাযত করুন। আমীন।

একদিনে এক হাজার রাকাত নামায পড়া প্রসঙ্গে

প্রশ্নটিও খৃষ্টানী মানসিকতা নিয়ে ফাযায়েলে আমল পড়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিমের মানসিকতা নিয়ে পড়লে প্রশ্ন মনে জাগতো না।

আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে এক বছরকে যেমন এক মিনিটের দিন বানিয়ে দিতে পারেন। তেমনি একদিনকে এক বছরও বানিয়ে দিতে পারেন। সেই আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার ইবাদতের জন্য সময়ের বরকত বাড়িয়ে দিয়েছেন এতে আশ্চর্যবোধ অন্তত আমরা মুসলিমরা করিনা। যারা আল্লাহ তাআলার সক্ষমতাকে অস্বিকার করে তারাই কেবল এসব বিষয় নিয়ে আশ্চর্য প্রকাশ করে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।

সময়ের দীর্ঘায়িতা আর সংকোচন সংক্রান্ত বিষয়ে হাদীসে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، فَتَكُونَ السَّنَةُ كَالشَّهْرِ، وَيَكُونَ الشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ، وَتَكُونَ الْجُمُعَةُ كَالْيَوْمِ، وَيَكُونَ الْيَوْمُ كَالسَّاعَةِ، وَتَكُونَ السَّاعَةُ كَاحْتِرَاقِ السَّعَفَةِ الْخُوصَةُ

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত কায়েম হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত জমানা নিকটবর্তী হয়ে যাবে। ফলে বছর হয়ে যাবে মাসের মত, মাস হয়ে যাবে সপ্তাহের মত। আর সপ্তাহ হয়ে যাবে দিনের মত, দিন হয়ে যাবে ঘন্টার মত। আর ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে যাবে মুহুর্তেই। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১০৯৪৩, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৩৩২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬২১৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৮৪২}

সুনানে তিরমিজীতে দাজ্জালের ফিতনা সংক্রান্ত এক দীর্ঘ হাদীসের একাংশে এসেছে-

قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا لُبْثُهُ فِي الْأَرْضِ؟ قَالَ: ” أَرْبَعِينَ يَوْمًا: يَوْمٌ كَسَنَةٍ، وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ، وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ، وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ “

হযরত নাওয়াস বিন সামআন কিলাবী রাঃ থেকে বর্ণিত। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, সে [দাজ্জাল] দুনিয়াতে কত দিন থাকবে? রাসূল সাঃ ইরশাদ করলেন, সে থাকবে চল্লিশ দিন। [যার মাঝের] এক দিন হবে এক বছরের সমান, এক দিন হবে এক মাসের সমান, একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান। আর বাকি দিনগুলো হবে স্বাভাবিক দিনের মত। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২২৪০, মুসনাদে আহমাদ} হাদীস নং-১৭৬২৯}

যে আল্লাহ তাআলা বছরকে মাসের মত, মাসকে সপ্তাহের মত, সপ্তাহকে দিনের মত, আর দিনকে ঘন্টার মত আর ঘন্টাকে এক মুহুর্তে নামিয়ে আনতে পারেন, সেই তিনিই দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় একদিনকে বানিয়ে দিবেন এক বছরের মত।

এসবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষে সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। এটাই আমাদের ঈমান।

কেউ যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সময়ের বরকত বাড়িয়ে দেয়া আর কমিয়ে দেয়ার সক্ষমতাকে অস্বিকার করে কেবল যুক্তির উপর নির্ভর করে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে হেদায়াতের দুআ করা ছাড়া আমাদের আসলে কিছুই করার নেই।

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী