Tuesday, 18 November 2014

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হলে যা করণীয়

বর্তমান মূর্খতার যামানায় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বুঝা-বুঝি হলেই গালি-গালাজ, মারধর এমনকি স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটে থাকে। এটা মারাত্মক মূর্খতা। এরূপ ক্ষেত্রে সবর-ধৈর্য, নসীহত এবং সংশোধনের রাস্তা অবলম্বন করাই শরীআতের নির্দেশ। জায়িয কাজ গুলির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হল তালাক। (মিশকাত-২/২৮৩)
আমাদের সমাজে যারা দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ, তারাতো মা-বাপ, স্ত্রী-সন্তানের হক সম্পর্কে কিছুই জানে না। বিবাহ করল আর স্ত্রীর পক্ষ থেকে মেযাজের খেলাফ কিছু হয়ে গেলে দিয়ে দিল তিন তালাক। হারাম করে দিল স্ত্রীকে। পরে যখন মন-মেযাজ ঠিক হল তখন দিশেহারা হয়ে ভ্রান্ত মতবাদ পন্থীদের নিকট যেয়ে কয়েক ‘শত টাকা ফি দিয়ে বিবাহ হালাল করে নিয়ে এল, আর ফতোয়া শোনাল যে, রাগের মাথায় তালাক দিলে তালাক হয় না অথবা মুখের কথায় তালাক হয় না। অথচ শরঈ মাসআলা হচ্ছে, রাগের মাথায় তালাক দিলেও তালাক পড়ে যায় এবং মুখের কথায় তালাক পড়ে যায়। (ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম- ৯/৯৪, ফতোয়ায়ে শামী-২/৪৬৩)
তারা আরো বলে যে, এক সাথে তিন তালাক দিলে এক তালাক গণ্য হয় ইত্যাদি। অথচ শরীআতের মাসআলা হচ্ছে, এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হবে। (এলাউস সুনান-১১/৭৯, বুখারী-২/৭৯১)
এ ধরনের ভুল ফতোয়ার মাধ্যমে স্ত্রীর সাথে সারা জীবন যিনার পথ খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুতরাং তালাকের পথে না গিয়ে সংশোধনের পথ অবলম্বন করতে হবে। মেযাজের খেলাফ শরীআত বিরোধী কোন কাজ যদি স্ত্রী করে ফেলে তাহলে
(ক) প্রথমতঃ নসীহতের মাধ্যমে তাকে বুঝাতে হবে। আর ছোটখাট সমস্ত ভুল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে। আল্লাহ তা’আলা হিকমতের কারণে তাদেরকে আকল বুদ্ধি কিছুটা কম দিয়েছেন। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের সাথে ক্ষমা সুলভ আচরণ করতে হবে।
(খ) নসীহতেও যদি কাজ না হয় তাহলে একই ঘরে রেখে বিছানা আলাদা করে দিতে হবে।
(গ) এই দ্বিতীয় পদ্ধতিতে কাজ না হলে তাকে এমন ভাবে হালকা শাস্তি প্রদান করতে হবে, যাতে শরীরের কোথাও যখম বা দাগ না হয়। এটা জায়িয হওয়া সত্ত্বেও কোন নবী (আঃ) এটা করেন নাই। প্রিয় নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেনঃ আমার উম্মতের ভদ্র শ্রেণীর লোকেরা স্ত্রীকে মার-ধোর করবে না। সুতরাং নিজেকে ভদ্র শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত রাখার জন্য সাধানুযায়ী এ থেকে বেঁচে থাকা চাই।
(ঘ) এতেও যদি কোন কাজ না হয় তাহলে উভয় পক্ষের মুরব্বীদের দ্বারা সালিশ বসাতে হবে। সালিশের মাধ্যমে এসব বিষয়ের মিমাংসা করাতে হবে।
এতেও যদি কোন কাজ না হয় অর্থাৎ এই চার স্তর অতিক্রম করার পরেও যদি কোন ফায়েদা না হয় তাহলে খুব ধীরে সুস্থে , ভেবে চিন্তে মুফতীদের নিকট থেকে ফতওয়া গ্রহণ করে মাত্র এক তালাক দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই তিন তালাক দেবে না। কেননা, শরীআত এমন কোন প্রয়োজন রাখেনি যে ক্ষেত্রে তিন তালাক দেয়া জরুরী। আর এই এক তালাক দিতে হবে স্ত্রী হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পরে তার সাথে মিলিত না হয়েই। এক তালাক দিলে এক তালাক পতিত হবে। এই অবস্থায় স্ত্রী যদি নিজেকে সংশোধন করে নেয় এবং স্ত্রী কর্তব্যও তাই, তাহলে তিন হায়েয শেষ হওয়ার পূর্বে বিবহা দোহরানো ছাড়াই এবং হিলা করা ছাড়াই শুধুমাত্র মৌখিক ভাবে বা স্বামী সুলভ আচরণের মাধ্যমে স্ত্রীকে গ্রহণ করে নিলেই স্ত্রী তার জন্য হালাল হয়ে যাবে।
আর যদি বনিবনা না হয় তাহলে এক তালাক দেয়ার পরে তিন হায়েয পার হয়ে গেলে তাদের বিবাহ ভেঙ্গে যাবে উক্ত মহিলা যেখানে ইচ্ছা বিবাহ বসতে পারবে। তাই স্ত্রীকে বিবাহ থেকে বের করার জন্য তিন তালাক দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। বরং এক সাথে তিন তালাক দেয়া হারাম করা হয়েছে। অবশ্য কেউ দিলে সবগুলীই পড়ে স্ত্রী সম্পূর্ণ রূপে হারাম হয়ে যাবে।

তালাকের ব্যাপারে শরীআতের মাসআলা সম্মন্ধে চরম অজ্ঞতা আমাদেরকে একটা বিভ্রান্তীর মধ্যে ফেলে রেখেছে। আমাদের দেশে বর্তমানে যে তালাকের আইন প্রচলিত রয়েছে তা সম্পূর্ণ শরীআত বিরোধী। রেডিও, টি ভিতে এবং ইংরেজদের মদদপুষ্ট এনজিওরা এভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে যে, রাগের মাথায় তালাক দিলে তালাক হয় না। মুখের কথায় তালাক হয় না। তালাক দেয়ার সাথে সাথে তা কার্যকর হয়না, বরং ৯০ দিন পার হওয়ার পরে চেয়ারম্যান সাহেব তাদের মধ্যে মীমাংসা করতে না পারলে তা কার্যকর হবে। অথচ শরীআতের মাসআলা হচ্ছে, তালাক হাসি- মুখে দিক বা রাগান্বিত অবস্থায় দিক সর্বাবস্থায় তা পতিত হবে। এবং মৌখিক দিক বা লিখিত দিক তা কার্যকর হবে। আর তালাক দেয়ার সাথে সাথেই তা কার্যকারী হয়ে যাবে। ৯০ দিনের কোন শর্ত নেই। সুতরাং নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে হলে টি ভির ফতওয়া মত না চলে আল্লাহ ওয়ালা হক্বানী মুফতীদের ফতওয়া মত চলতে হবে।
  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

স্ত্রীদের জন্য উপদেশ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিলাদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেছেনঃ হে নারী সমাজ! তোমরা বেশী বেশী দান সদকা কর। কেননা, আমাকে দেখানো হয়েছে যে, দোযখীদের মধ্যে তোমাদের সংখ্যা অধিক। মহিলারা আরয করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! এর কারণ কি? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন, অধিক পরিমাণে লা‘নত করে থাক আর স্বামীর না-শোকরী কর। তোমাদের জ্ঞান এবং দ্বীন অসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও একজন বিচক্ষণ মানুষের আকল তোমাদের চেয়ে অধিক বিলুপ্তকারী আর কাউকে আমি দেখিনি। মহিলারা আরয করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাদের জ্ঞান ও দ্বীন অসম্পূর্ণ কিভাবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেন, তোমাদের স্বাক্ষ্যর মান পুরুষের অর্ধেক নয় কি? তারা বলল, নিশ্চয়। নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা হল তোমাদের জ্ঞানের অসম্পূর্ণতা। তারপরে ইরশাদ করলেন, একথা কি সত্য নয় যে, হায়েয অবস্থায় তোমরা নামায পড় না এবং রোযাও রাখ না? তারা বলল, নিশ্চয়। নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা হল তোমাদের দ্বীনের অসম্পূর্ণতা।
আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারী সমাজের পাঁচটি ত্রুটির কথা আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে দুটি হচ্ছে অনিচ্ছাধীন এবং তিনটি হচ্ছে ইচ্ছাধীন। অনিচ্ছাধীন দুটি হল জ্ঞানের স্বল্পতা এবং দ্বীনের অসম্পূর্ণতা। আর ইচ্ছাধীন তিনটি হল, স্বামীর না- শোকরী করা, অনর্থক লা‘নত ও অভিশাপ এবং বদ দু‘আ করা আর ভুল তথ্য দিয়ে বিচক্ষণ পুরুষের আকল বিলুপ্ত করে দেয়া। অনিচ্ছাধীন যে ত্রুটিগুলি রয়েছে সেগুলির বর্ণনা এজন্য করেছেন, যাতে মহিলাদের গর্ব ও অহংকারের রোগটি দূর হয়ে যায়। কেননা, গর্ব-অহংকার সাধারণতঃ জ্ঞানের স্বল্পতা থেকে সৃষ্টি হয়।
যাদের অন্তরে মহান রাব্বুল আলামীনের বড়ত্ব পয়দা হয়ে গেছে তারা নিজেকে অত্যন্ত ছোট মনে করে। যে ব্যক্তি রুস্তম পাহলোয়ানের শক্তি আর দানবীর হাতেম তাইয়ের দানের কথা স্মরণ করবে, সে কখনো নিজেকে শক্তিশালী আর দানশীল ভাবতে পারে না। যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইলম আর প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, সে কখনো নিজকে বড় আলেম ভাবতে পারেব না। আজকাল তো অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, সামান্য বুযুর্গী অর্জন করতে পারলে নিজেকে অনেক কিছু ভেবে বসে। বিশেষ করে মহিলাদের তেলাওয়াতের পাবন্দ হলেই বা তাহাজ্জুদ পড়তে পারলেই নিজেকে রাবেয়া বসরী মনে করে বসে। আর অন্যকে ছোট মনে করে। এর কারণ এটাই যে, তাদেরকে কেউ তরবিয়াত করে না।
অবশিষ্ট তিনটি ইচ্ছাধীন ত্রুটি মহিলাদের ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো ইচ্ছা ও চেষ্টা করলে সংশোধন করা সম্ভব। তার মধ্যে একটা হল, অধিক লা‘নত করা। অর্থাৎ কথায় কথায় কাউকে লা‘নত বা ভর্ৎসনা করা। তাদেরকে দেখা যায় সকাল থেকে সন্ধা যা পর্যন্ত এই কাজেই কেটে যায়। যার সাথে শত্রুতা আছে তার গীবত আর নিন্দাবাদ করতে করতে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে। আর যার সাথে মহব্বত আছে তার প্রশংসায় একেবারে পঞ্চমুখ। এমনকি নিজের সন্তানরাও যদি বিরক্ত করে বা সংসারের মাল সামানা নষ্ট করে তখন অনেক মহিলা মারাত্মক ধরনের অভিশাপ বা বদ দু‘আ দিয়ে বসে, যা কবুল হয়ে সেই বিপদ ঘটে গেলে আল্লাহর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে নিজের ঈমানই নষ্ট করে ফেলে।
নারীদের দ্বিতীয় দোষ হচ্ছে স্বামীর অকৃতজ্ঞতা। তাদেরকে যতকিছুই এনে দেয়া হোক, তা তাদের নিকট অল্প কম্‌দামী ও নিকৃষ্ট মনে হয়। মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব সাহেব দেহলবী (রহ) বলতেন, স্ত্রীদের যত দামী কাপড় থাকুক- যখন তুমি জিজ্ঞাসা করবে তোমাপ কাপড় চোপড় কিছু আছে? তখন উত্তরে বলবে- হাঁ, কয়েকটা বস্তা আছে। কোথাও পরে যাওয়ার মত না। আর জুতা যতই থাকুক, যদি জিজ্ঞাসা কর- তাহলে উত্তরে বলবে, হাঁ কয়েক জোড়া খড়ম আছে। এসব কথা স্বামীর মারাত্বক নাশোকরী। এ ধরনের কথা থেকে বেঁচে থাকা জরুরী।
মোট কথা লেবাস-পোশাক, অলংকারাদী, তৈজসপত্র, বাড়ী-ঘর সবকিছুতেই তারা অপচয় করে থাকে। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপচয় থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন। অনুরূপভাবে বিবাহ-শাদী, প্রথা-প্রচলন আর এমন কিছু রুসুমও তারা পালন করে যা শিরক ও বিদআতের পর্যায়ে পড়ে। তাছাড়া অহংকার, বড়ত্ব প্রকাশ। আর লোক দেখানো স্বভাব ইত্যাদি কোনটা থেকেই তারা মুক্ত নয়। তাই এসব রুসুম রেওয়াজ থেকে তাওবা করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্রা স্ত্রীগণের অনুসরণ এবং পায়রবী করা প্রতিটি নারীর একান্ত কর্তব্য।
নারীদের তৃতীয় দোষ হচ্ছে বিচক্ষণ পুরুষের আকল বিলুপ্ত করে দেয়া। অনেক সময় দেখা যায়, মহিলারা এমন সব অতিরঞ্জিত কথাবার্তা বলে যে, একজন বিচক্ষণ ও জ্ঞানী পুরুষও বোকা বনে যায়। তাদের কথার মধ্যে এমন প্রভাব আর যাদুময়তা থাকে যে, এমনিতেই পুরুষরা তাদের বশ হয়ে যায়। তার কারণ অবশ্য এটা নয় যে, তারা পুরুষের তুলনায় অধিক জ্ঞানী। বরং চাতুর্যতা আর ছলনায় তারা পুরুষ থেকে অগ্রগামী। জ্ঞান-গরীমা এক জিনিষ আর ছল-চাতুরী আরেক জিনিষ। মোটকথা, এই ছল-চাতুরী আর চালাকীর কারণেই নারী একজন বিচক্ষণ মানুষের বিচক্ষণতা নষ্ট করে দেয়। অনেক মহিলা নির্জনে স্বামীর সাথে এমন কায়দা-কৌশলে কথা-বার্তা বলে যাতে স্বামী সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার সর্বপ্রথম ও প্রধান চেষ্টা হয় স্বামীকে তার পিতা-মাতা থেকে বিচ্ছন্ন করা। যে মা এত কষ্ট করে, এত ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে কলিজাসম সন্তানকে প্রতিপালন করলেন-আজ তাদের প্রাপ্য হল সন্তান পৃথক হয়ে যাওয়া। এটা কত বড় জুলুমের কথা!! (আল্লাহ পাক আমাদেরকে এই অপকর্ম থেকে হেফাজত করুন) এখানেই শেষ নয় বরং স্বামীর উপার্জিত অর্থ যেন পিতা-মাতার নিকট না যায় সে জন্যও তার চেষ্টার কোন শেষ থাকেনা। স্বামীর ভাই-বোন কিংবা পুর্বের ঘরের সন্তান থাকলে তাদের থেকেও স্বামীকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। মোটকথা, তার দিন-রাতের ফিকির একটাই থাকে যে, আমি ছাড়া আর কারো সাথে যেন আমার স্বামী সম্পর্ক না থাকে। এর ফলে সমাজের বহু ফ্যামিলিতে, বহু অনৈক্য-বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজে শান্তির পরিবর্তে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে।
পিতামাতার দায়িত্ব হচ্ছে, ছেলেদের বিবাহ দেয়ার পরে কিছুদিন নিজেদের সাথে রেখে তাকে গড়ে তোলার জন্য এবং সাংসারিক জীবনে পারদর্শী করে তোলার জন্য তাকে পৃথক কয়ে দেয়া। যৌথ সংসারের বেপর্দেগী থেকে বাঁচানোর জন্য, ভাইদের আপোষ মিল-মহব্বত বজায় রাখার জন্য এবং এধরনের আরো বহুবিধ উপকারের জন্য ছেলেকে পৃথক করে দিয়ে পিছন থেকে তাকে গাইড করা। এটাই শরীয়তের দৃষ্টিতে পছন্দনীয়। অপর দিকে পৃথক হয়ে যাওয়া সন্তানের জন্য কর্তব্য হচ্ছে, পিতা-মাতার খবর রাখা, তাদের খিদমত করা এবং সময়ে সময়ে হাদিয়া তোহফা পেশ করা। পিতা-মাতা নিজ দায়িত্বে এগুলি করবেন। স্ত্রী জন্য স্বামীকে ভুল তথ্য দিয়ে এগুলি করানো মারাত্মক অপরাধ।
নারী জাতির উল্লেখিত তিনটি দোষই এমন, যা সকল অন্যায়-অপকর্মের ভিত্তি। যেমন, অকৃতজ্ঞতা এবং স্বামীকে বেকুফ বানানোর মূলে রয়েছে লোভ-লালসা। অধিক লা‘নত থেকে সৃষ্টি হয় অনৈক্য, ঝগড়া-বিবাদ, গৃহযুদ্ধ ইত্যাদি। সুতরাং এই তিনটি মন্দ স্বভাবের সংশোধন করা একান্ত জরুরী। আর সংশোধনের পথ হল ইলম ও আমলের সমন্বয়। ইলমের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, গীবত ইত্যাদির বর্ণনা থাকবে। কেননা, নামায-রোযা শিক্ষার পাশাপাশি আখলাক-চরিত্র সংশোধন করাও জরুরী। আখলাক-চরিত্র সংশোধন না করলে ইবাদত-বন্দেগী কোন কাজে আসবে না।
একটি হাদীসে বর্ণিত আছে : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট আরয করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! অমুক মহিলা খুব ইবাদত করে, রাত্রি জাগরণ করে। কিন্তু সে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। ( তার কি হুকুম?) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে জাহান্নামী। অতঃপর অন্য এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, সে ইবাদত বন্দেগী খুব বেশী একটা করতে পারে না কিন্তু প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে জান্নাতী।
সুতরাং ইলম হাসিল করার জন্য হযরত থানবী (রহ) রচিত বেহেশতী জেওর পুরাটাই পড়ে নেবে। তবে তোতা পাখির মত পড়ে গেলে কোন কাজ হবে না। বরং স্বামী যদি আলেম হয় তাহলে এক এক সবক করে তার নিকট পড়ে নিবে। আর স্বামী যদি আলেম না হয় তাহলে তাকে অনুরোধ করবে সে যেন কোন আলেমের নিকট থেকে বুঝে এসে এক সবক করে পড়িয়ে দেয়। আবার একবার পড়ে বন্ধ করে রেখে দিলেও চলবে না। বরং একটা সময় নির্ধারণ করে সর্বদা একা একা পড়তে হবে এবং অন্যকেও শোনাতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, যদি কেউ এ পদ্ধতি গ্রহণ করে তাহলে তার অবশ্যই সংশোধন হবে।

সংশোধনের আমলী পদ্ধতি হল, জরুরী কথা ব্যতিত মুখ বন্ধ রাখা। কেউ ভাল বলুক বা মন্দ বলুক কোন অবস্থাতেই কথা না বলা। এতে করে স্বামীর অকৃতজ্ঞতা, জ্ঞানীর জ্ঞান বিলুপ্ত করা, লা‘নত-অভিশাপ, গীবত-পরনিন্দা ইত্যাদি অধিকাংশ কু-অভ্যাস দূর হয়ে যাবে। কেননা, যখন প্রয়োজনীয় কথার বাইরে মুখ বন্ধ করে রাখা হবে তখন এ সকল রোগের আকাংখা দুর্বল আর নিস্ক্রীয় হয়ে পড়বে। দ্বিতীয়তঃ একটা সময় নির্ধারণ করে নিয়ে তখন বসে বসে ভাববে যে, এই দুনিয়া আর কদিনের! একদিন তো এখান থেকে চলে যেতেই হবে। মৃত্যু এবং পরবর্তী বিষয় যথা, কবর, মুনকার-নকীরের প্রশ্ন, তার পরে কবর থেকে ওঠা এবং হিসাব-কিতাব, পুলসিরাত অতিক্রম করা ইত্যাদি বিষয়াবলী নিয়ে প্রতিদিন কিছু সময় গভীরভাবে চিন্তা করবে। এর ফলে দুনিয়া প্রীতি, ধন-সম্পদের মোহ, অহংকার, লোভ-লালসা ইত্যাদি আত্মার রোগ সমূহ দূর হয়ে যাবে। আর এজন্য আল্লাহ পাকের দরবারে দু‘আ জারী রাখাও উচিত।
  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

সন্তানের হক

সন্তান-সন্ততিকে আল্লাহ পাকের বড় নি‘আমত ও আমানত মনে করে তাদের প্রতি পিতা-মাতার কর্তব্য পালন করতে হবে। মাতা-পিতার উপর সন্তানের চারটি হক রয়েছে। যথাঃ
১। সন্তান যাতে আল্লাহর অলী হয় সেই ধ্যান-ধারণা রেখে আগে থেকেই একজন দ্বীনদার মহিলাকে বিবাহ করতে হবে। (মিশকাত শরীফ- ২/২৬৭)
২। সন্তান জন্মগ্রহণের পর কোন বুযুর্গ ব্যক্তি দ্বারা তাহনীক করিয়ে নেবে। তারপরে সপ্তম দিনে আকীকা করবে এবং শরীআত সম্মত সুন্দর নাম রাখবে। (মিশকাত-২/২৭১)
৩। বয়স হলে তাকে তা‘লীম দেবে। যবান ফুটলে প্রথমে আল্লাহর নাম, বিসমিল্লাহ, কালিমায়ে তাইয়ি্বা শিক্ষা দেবে। ৫/৬ বছর বয়স হলে তাকে আদর্শ কোন মকতবে পাঠিয়ে কুরআন শরীফ ও জরুরী মাসায়িলের তা‘লীম দেয়ার ব্যবস্থা করবে, যাতে সাত বছর বয়স হলে তাকে নামাযের আদেশ দেয়া যায়। কোন অবস্থায় এসব বিষয় না শিখিয়ে, মুসলমান না বানিয়ে বাংলা ইংরেজী লাইনে দিবে না। কেননা, সেক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার নিকট ঐ ব্যক্তি নিজ সন্তান হত্যাকারী গণ্য হবে। ইংরেজী শিক্ষা দেয়া ওয়াজিব বা জরুরী নয়। কিন্তু কুরআন-হাদীসের শিক্ষা দেয়া ফরজ। ইংরেজী শিক্ষা যদি হালাল রিযিক অন্বেষণ কিংবা দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য হয় তাহলে তা জায়িয আছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, ইংরেজী শিখতে গিয়ে আবার ইংরেজ না হয়ে যায়। যে শিক্ষা বিজাতীয় পোশাক পরিচ্ছদ আর বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতি গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে ঈমান- আক্বিদা, নামায, মাশাইখদের ব্যপারে উদাসীন করে সেই শিক্ষার কোন মূল্য নেই। সেটা বরং কু-শিক্ষা বলতে হবে। সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে তার ঈমান-আকীদা সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন ছুটিতে তাকে তাবলীগে কিংবা আল্লাহ ওয়ালাদের সুহবাতে ও সাহচর্যে পাঠানো পিতা-মাতার উপর ফরজ। অনুরূপভাবে সে যেন নাস্তিক না হয়ে যায় এবং দ্বীনের সহীহ বুঝ যেন বাকি থাকে সেজন্য যথোপযুক্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য।
মুফতী আব্দুল কুদ্দুস নামে হযরত থানবী (রহ) এর এক মুরীদের পুত্রের মুখে আমি শুনেছি , তিনি হারদুঈ এর মসজিদে এক বয়ানে বলেছিলেন-তার পিতা অর্থাৎ হযরত থানবী (রহ) এর সেই মুরীদ একবার তার শাইখ এর নিকট চিঠি লিখলেন যে, হযরত! আমার দুটি ছেলে- তার মধ্যে একজনকে মাদ্রাসায় দিয়েছি দ্বীনী ইলম শিক্ষার জন্য, আরেক জনকে স্কুলে দিয়েছি ইংরেজী শিক্ষার জন্য। হযরত থানবী (রহ) জবাবে লিখলেন, যে ছেলেকে ইংরেজী শেখার জন্য স্কুলে দিয়েছ তার ঈমানের হেফাজতের জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছ? ঐ মুরীদ আমাদের মত কেউ হলে হয়ত উত্তর দিত যে, তার জন্য একজন মৌলভী ঠিক করেছি। তিনি প্রতিদিন বাসায় এসে এক সময় কুরআন শরীফ পড়িয়ে দিয়ে যাবেন। কিন্তু ঐ মুরীদ জানতেন যে, এই জবাবে হযরত থানবী (রহ) কে সন্তুষ্ট করা যাবেনা। তাই তিনি ঐ ছেলেকেও ইংরেজী শিক্ষা থেকে বের করে মাদরাসায় ভর্তি করে আল্লাহর কালাম শিক্ষার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং একথা লিখে হযরতকে জানিয়ে দিলেন। হযরত উত্তর দিলেন যে, খুবই ভাল কাজ করেছ।

৪। চার নম্বর হক হল, ছেলে-মেয়ে বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক হলে দেখে শুনে কোন দ্বীনদার পাত্র/পাত্রীর সাথে বিবাহ দিয়ে দেয়া। (মিশকাত-২/২৬৭)

  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য

১) যথাযথভাবে স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। নিজের আদব-আখলাক ও সেবার মাধ্যমে স্বামীর মন জয় করা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। তবে শরিআত বিরোধী কোন কাজ হলে তাতে অপারগতা প্রকাশ করা।
২) স্বামীর সামর্থের অতিরিক্ত কোন চাপ সৃষ্টি না করা।
৩) অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ ব্যয় না করা।
৪) স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ীর বাইরে না যাওয়া।
৫) স্বামীর অনুমতি ছাড়া নিজের কাউকে স্বামীর ঘরে আসতে না দেয়া।
৬) স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা না রাখা, তেমনি ভাবে স্বামীর উপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে নফল নামায পড়তে হলে তার অনুমতি নিয়ে পড়া।
৭) স্বামীর সহবাসের জন্য আহবান করলে শরঈ কোন বাধা না থাকলে তার আহবানে সাড়া দেয়া।
৮) স্বামীর অসচ্ছলতা বা অসুন্দর আকৃতির জন্য তাকে তুচ্ছ না ভাবা।
৯) স্বামীর থেকে শরীআত বিরোধী কোন কাজ প্রকাশ পেলে আদবের সাথে তা বুঝিয়ে বলা।
১০) স্বামীকে মুরব্বী হিসেবে মান্য করা এবং তার নাম ধরে না ডাকা। তার সামনে রাগের সাথে বা বদ তমীযির সাথে তর্ক না করা।
১১) কারো সামনে স্বামীর বদনাম বা সমালোচনা না করা।
১২) স্বামীর আত্মীয় ও আপনজনদের সাথে এমন ব্যবহার না করা যাতে তার মনে কষ্ট হয়। বিশেষতঃ নিজের পক্ষ থেকে স্বামীর পিতা-মাতাকে সেবার পাত্র মনে করে যথাসম্ভব শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও খিদমত করা।

১৩) সন্তানদেরকে মায়া-মমতার সাথে লালন-পালন করা এবং তাদের খানা-পিনা, উযু-গোসল, পেশাব-পায়খানা, নামায-কালাম ইত্যাদির সুন্নাত তরীকা শিক্ষা দেয়া।
  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য

১) সামর্থ অনুযায়ী স্ত্রীর খোরপোষ তথা ভরণ-পোষণ দিতে অবহেলা না করা এবং স্ত্রীর জন্য পৃথক বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। যেমন, পৃথক একটি কামরা দেয়া।
২) স্ত্রীকে দ্বীনী মাসআলা-মাসায়িল শিখাতে থাকা এবং নেক কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকা।
৩) স্ত্রীর সাথে সুন্দর আচরণ করা, ভাল ব্যবহার করা, ছোট খাট বিষয় নিয়ে অহেতুক রাগ না করা।
৪) মাহরাম আত্মীয়-স্বজনের সাথে মাঝে মধ্যে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া।
৫) খামাখা স্ত্রীর প্রতি কু-ধারণা পোষণ না করা এবং তার ব্যাপারে একেবারে উদাসীনও না থাকা।
৬) খরচের ব্যাপারে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। কৃপনতা না করা আবার বেহুদা খরচেরও অনুমতি না দেয়া।
৭) প্রয়োজন অনুপাতে তার মানবিক চাহিদা পূরণ করে তার দিল-দেমাগ ও দৃষ্টিকে গুনাহ থেকে হেফাজতের ব্যবস্থা করা এবং তা সাধারণভাবে সপ্তাহে একবার হওয়া ভাল। আর প্রতি চার মাসে একবার হওয়া জরুরী।
দাম্পত্য জীবনে কামিয়াবী ও পরিপূর্ণ সুখ-শান্তি হাসিলের জন্য কুরআন-হাদীসের আলোকে বর্ণিত পদ্ধতি জানা আবশ্যক। সেসব পদ্ধতি হচ্ছেঃ- (ক) দু‘আ পড়ে প্রথমে ভুমিকা সমূহ অবলম্বন করবে (খ) ধীর স্থীরতা একান্ত জরুরী (গ) স্বামীর অবস্থান উপরে হবে {সুরা আ‘রাফ-১৮৯} (ঘ) স্বামীর ভর নিজের হাতের উপরে হবে, সীনা মিলাবে না।{বুখারী শরীফ হাদীস নং-৫১৮৯} (ঙ) স্ত্রী পা উঠিয়ে ভাজ করে পায়ের পাতাদ্বয় নিতম্বদ্বয় এর নিকটবর্তী রাখবে। {বুখারী শরীফ-হাদীস নং ২৯১} এ ব্যাপারে অবশিষ্ট মাসায়িল ‘নবীজীর সুন্নাত’ নামক কিতাবে দেখুন।
৮) অন্তরঙ্গ মূহুর্তে তার সাথে যেসব কথাবার্তা হয় তা অন্য কারো নিকট কোন অবস্থাতেই প্রকাশ না করা।
৯) নিজের সামর্থ অনুযায়ী তাকে কিছু হাত খরচ দেয়া এবং তাকে সেই টাকা তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন বৈধ খাতে খরচের অনুমতি দেয়া।
১০) প্রচলিত বিভিন্ন কুপ্রথা ও অনুষ্ঠান- যেখানে বেপর্দা বা অন্য কোন গুনাহ হয়ে থাকে - সেখানে যেতে বাধা দেয়া।

১১) তার অসাবধানতা বা বুদ্ধিমত্তার অভাবে কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে গেলে তাতে ধৈর্য ধারণ করা। কখনো শাসন বা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে ভারসাম্য বজায় রাখা।
  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

Monday, 10 November 2014

আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস, প্রতিষ্ঠাতা, লক্ষ্য, উদ্যেশ্য ও বর্তমান অবস্থা

আমরা যারা বাংলাদেশে বাস করি, তারা সকলেই জানি, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ১৯৭১সালে। এর আগে এ দেশ পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত ছিল। পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ১৯৪৭ সালে এবং ১৯৪৭ সালের আগ পর্যন্ত এ-দেশগুলোর স্বতন্ত্র কোনো নাম ছিল না। সমষ্টিগত নাম ছিল-মহাভারত।
১৯৪৭ সালের পূর্বে প্রায় (২০০) দুইশত বছর মহাভারত শাসন করেছিল ইংরেজরা। ইংরেজদের শাসনামলের আগে, মহাভারতের শাসন ক্ষমতা ছিল মুসলমানদের হাতে। সে সময় মহাভারতে মাদরাসা সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষে দাঁড়িয়ে। যে মাদ্রাসাগুলো সরকারী কিংবা এলাকাভিত্তিক দান-সদক্বা, সাহায্য-সহযোগিতায় চলত না। কারণ, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি ছিল। যার মাধ্যমে সার্বিক আঞ্জাম দেয়া হত এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তখনকার মাদরাসাগুলো ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। আলিয়া বা ক্বওমী নামে আলাদা কোনো দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না।
এখন স্বাভাবিকভাবেই দু’টি প্রশ্ন জাগে।
(ক) তাহলে বর্তমান মাদ্রাসাগুলি সাহয্যের উপর নির্ভর কেন? যেমনঃ আলিয়া মাদ্রাসা সরকারী এবং ক্বওমী মাদ্রাসা সামাজিক সাহায্যে পরিচালিত হচ্ছে
(খ) কেন এক সময়ের স্বয়ংসম্পূর্ণ মাদরাসাগুলো আলিয়া ও কওমিয়া নামে বিভক্ত হল?
আশা করি যদি নিম্নোক্ত আলোচনাটি ঠিকভাবে অনুধাবন করা যায়, তাহলে দু’টি প্রশ্নের উত্তরই পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
আলিয়া মাদরাসা- প্রতিষ্ঠার কারণ, প্রতিষ্ঠাতা, উদ্দেশ্য এবং বর্তমান অবস্থা
০১। প্রতিষ্ঠার কারণঃ- মহাভারত যখন মুসলমানের শাসন ক্ষমতায় ছিল, বৃটিশ ইংরেজরা ব্যবসার অজুহাতে মহাভারতে প্রবেশের অনুমতি চায় সরকারের কাছে। তখনকার ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে খ্রিষ্ট ১৭০০ শতাব্দীর শুরুর দিকে মহাভারতে প্রবেশ করে এবং ১৭০৬ খ্রিষ্টাব্দে মিস্টার হেকিংস্ এর নেতৃত্বে ২০৮ সদস্য বিশিষ্ট ইষ্ট-ইন্ডিয়া নামে একটি কোম্পানী গঠিত করে। এই ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর ব্যবসার বাহানা বা ছদ্ধ্যবেশে, পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত ভারতের শাষন ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে ইংরেজরা এবং ৫০ বছর পর তারা এ দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে। অর্থাত- ১৭৫৭ সালে ভারতের শাসন ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়।
শাসন ক্ষমতা হস্তগত হওয়ার পরপরই ইংরেজরা মহাভারতের ১২ লক্ষ মাদরাসার সমস্ত ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ফেলে। ফলে মাদরাসাগুলো ঠিকানাহীন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ভারতের কোলকাতার ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ইংরেজ সরকারের কাছে এই মর্মে দরখাস্ত করে যে, তোমরা যেহেতু আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছ, সেহেতু তোমাদের সরকারী খরচে কোলকাতায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে দাও। যাতে আমাদের মুসলমান সন্তানরা নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহন করার সুযোগ পায়। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে তখনকার সরকার প্রধান- লর্ড ওয়ারেন্ট হেষ্টিংস ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে কোলকাতা আলিয়া মাদরাসা নামে মুসলামানদের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে। এটাই উপ-মহাদেশের সমস্ত আলিয়া মাদ্রাসার সর্বপ্রথম আলিয়া মাদরাসা।
০২। প্রতিষ্ঠাতাঃ- ক্ষমতা ছিনতাইকারী ইংরেজ সরকারের প্রধান- লর্ড ওয়ারেন্ট হেষ্টিংস প্রতিষ্ঠা করেন আমাদের মাঝে আলিয়া মাদরাসা নামে যে মাদরাসাটি পরিচিত, সে মাদ্রাস। তাহলে আমরা এক কথায় বলতে পারি যে, যে মাদরাসাকে দেশের মানুষ আলিয়া মাদরাসা নামে চিনে, সে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও জন্মদাতা হল, ইংরেজ সরকারের প্রধান- লর্ড ওয়ারেন্ট হেষ্টিংস।
এদিকে ইংরেজদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে, তৎকালীন উপ-মহাদেশের সবচেয়ে বড় আলেম, আল্লামা শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. এর বড় সাহেবজাদা আল্লামা শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. ইংরেজদের বিরুদ্ধে জালিম বলে ফতোয়া দিলেন। সাথে সাথে ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাও দেন। এই ঘোষণা বা ফতোয়ার ভিত্তিতে, ভারত বর্ষের সকল মুসলমান, স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রাণ-পণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যার ফলে শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার মুসলমান তথা-আলেমদের রক্তের বিনিময়ে ইংরেজদের হাত থেকে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। আপনারা সহজেই বুঝতে পারছেন যে, ভারত উপ-মহাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনে আলেম-উলামার কতখানি অবদান ছিল।
এখানে আরেকটু পর্যালোচনা করা যাক- ভারত স্বাধীন হওয়ায় পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে এবং পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া নির্ভর করে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার উপর। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়া নির্ভর করে ভারত স্বাধীন হওয়ার উপর এবং ভারত স্বাধীন হওয়া নির্ভর করে আল্লামা শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. এর ঘোষণা বা ফতোয়ার উপর। এক মহা-পুরুষ আল্লামা শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. এর ফতোয়ার উপর ভিত্তি করে, আজ ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ স্বাধীন হল। অথচ, স্বাধীনতা ইতিহাসের পাতায় উলামায়ে কেরামের কোনো নাম নেই। আর যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধা বলে চিৎকার করছে, ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, এদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানেনা। যারা উলামায়ে কেরামের এই অসামান্য অবদানকে স্বীকার করতে লজ্জাবোধ করে, তাদেরকে আমরা ঘৃণার সাথে শত সহস্র ধিক্কার জানাই।
এবার মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। ইংরেজ সরকারের প্রধান লর্ড ওয়ারেন্ট হেষ্টিংস প্রতিষ্ঠিত আলিয়া মাদ্রাসা, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এর ব্যয়বহন ও সকল দিক-নির্দেশনা চলে সরকারীভাবে। এজন্য অনেকে এ প্রতিষ্ঠানকে সরকারী মাদরাসা বলেও অভিহিত করে থাকেন।
০৩। উদ্দেশ্যঃ- যখন ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানরা ঝাপিয়ে পড়ে, তখন কোন উপায়ন্তর না পেয়ে, ইংরেজ সরকার কোলকাতা আলিয়া মাদরাসা নিয়ে পুতুল খেলার পরিকল্পনা করে। তখন সরকারের সঙ্গি-সাথিরা পরামর্শ দিয়েছিল, কোলকাতা আলিয়া মাদরাসা বন্ধ করে দেয়ার জন্য। কিন্তু সরকার প্রধান তা প্রত্যাখ্যান করে বলল, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই একদিন মুসলমানদের ঈমানী চেতনা ধ্বংস হবে। আজ না হলেও দু’শ বছর পরে বাস্তবায়িত হবে।
কি ছিল সেই কৌশল? লর্ড ওয়ারেন্ট হিষ্টেংস কোলকাতা আলিয়া মাদরাসার প্রথম থেকে একাধারে ২৬ জন প্রিন্সিপাল নিয়োগ করেছে, যারা প্রত্যেকে ছিল একেকজন খৃষ্টান। এখন সাধারণ বিবেকেও একটি প্রশ্নের উদয় হবে যে, মাদরাসা হল কুরআন-হাদিসের পাঠশালা, যেখানের একজন প্রিন্সিপাল হওয়া উচিত ছিল, প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকের চেয়ে ইল্ম-আমল ও যোগ্যতার দিক থেকে বেশী পারদর্শী। সেখানে যদি মুসলমানদের চির দুশমনের হাতে থাকে এই গুরু দায়িত্ব, তাহলে শিক্ষার্থীরা এ মাদ্রাসা হতে কুরআন-হাদিসের কতটুক ইল্ম বা জ্ঞানার্জন করতে পারবে? এরপর ধীরে ধীরে কোলকাতা আলিয়া মাদরাসার পাঠ্যসূচী হতে মেশকাত শরীফ, তাফসীরে বায়যাবী শরীফ বাদ দিয়ে দিল। এখন আমরা এক কথায় আলিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে বলতে পারি যে, আলিয়া মাদ্রাসা মুসলমানদের মাদরাসা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। কিন্তু এ মাদরাসা থেকেই একদিন দ্বীনের মধ্যে নতুন নতুন মনগড়া ত্বরীক্বার উদ্ভাবন হবে।
০৪। বর্তমান অবস্থাঃ- আজ আমরা সেই আড়াই-তিনশ বছর আগের ইংরেজ সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি এই আলিয়া মাদরাসার মাধ্যমে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায়- বেদ’আতী, মনগড়া, আজগুবী যত কাজ! তার অনুস্বরণ ও প্রচারক হয়তো কোনো আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্জনকারীর কেউ, নাহয় একেবারে গন্ড মূর্খ।
বিঃদ্রঃ তবে স্কুল কলেজ ও ভার্সিটি যদিও কোনো দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, তবুও এসব প্রতিষ্ঠানে যেমন কিছু কিছু শিক্ষার্থীরা ছহীহ আক্বীদা সম্পন্ন হয়ে থাকে, তেমনিভাবে আলিয়া মাদ্রাসায় পড়েও কিছু কিছু আল্লাহর বান্দাগণ, ছহীহ আক্বীদা ও পূর্ণ দ্বীন মেনে চলেন।
হে আল্লাহ! তুমি আলিয়া মাদ্রাসার মাধ্যমে দ্বীনের ছহীহ খেদমতের মাধ্যমে ইংরেজ সরকারের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দাও। আমীন

Saturday, 8 November 2014

যারা বউ পেটান ….!

যারা বউ পেটান ….!

শাহ হাকীম মুহাম্মাদ আখতার রাহ
————————————

কোন কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে মার-ধর করা থেকে বিরত থেকো। স্ত্রী অসুস্থ হলে তার সেবা সুশ্রুষা করো। স্ত্রীর প্রতি সীমাহীন ভালবাসা রাখবে। স্ত্রীকে এত  বেশি ভালবাসবে যে স্ত্রী তার নিজের বাবা- মায়ের কথা পযর্ন্ত ভুলে থাকবে। তার মুখ থেকে কখনও যেন  উফ  না শোনা যায় । সে যেন দুঃ খের সাথে এ কথা না বলে যে, আহ, আমার বাবা মা আমাকে কোন আজাবের মধে্য ফেলে দিয়েছে!  কোন জালেমের হাতে আমাকে ন্যস্ত করেছে !! কোন কসাইয়ের হাতে আমাকে অপর্ণ করেছে!!  স্ত্রীদের এই আহ শব্দ্টি পরিণতিতে এমন হয়, আমি মসজিদে বসে বলছি, যারা সস্ত্রীর উপর নিযর্াতন করেছে, স্ত্রীকে কাদিয়েছে,  শেষ জিবনে তাদের আনেকেই প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছে। পাচ ছয় বছর বিছানায় ভুগে ভুগে মরেছে। বিছানায় পায়খানা পেশাব করেছে।  তাদের মৃত্যু খুব শোচনীয় হয়েছে। তারা তো আল্লাহর বান্দী। তাদেরকে অসহায় মনে করো না। এটা মনে করো না যে এখানে তাদের বাবা মা নেই, সামনে তার কোন ভাই উপস্থিত নেই। যদি তার ভাই গুলশান ইকবালে (পাকিস্তান) থাকত, আর তার ভাই থানার এস আই হত, তাহলে কি তার গায়ে হাত তোলার সাহস হত?  স্ত্রীর ভাই য্দি এস আই হয়, তোমাকে থানায় নিয়ে এমন উত্তম- মাধ্যম দিবে যে হাসপাতালে যেতে হবে। স্ত্রীকে অসহায় ভেব না। আল্লাহ তো দেখছেন। আল্লাহ তায়ালা নিজের বান্দীদের জন্য পবিত্র কুরআনে সুপারিস করেছেন।  আমার যতটুকু জানা আছে, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এভাবে সুপারিশ অন্য কারো জন্য করেননি। আল্লাহ তায়ালা বলেন,  و عاشروهن بالمعروف  স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো।  হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবি রাহ  তার বয়ানে বলেন, আল্লাহ তায়ালা এক বুজুগর্কে স্ত্রীর একটি ত্রুটি মাফ করার কারণে সারা জীবনের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিয়েছেন। খাবারে অধিক লবণ হওয়া সত্যেও বুজুগর্ তার স্ত্রীকে কিছু বলেনি। তার মৃত্যুর পরে আরেকজন তাকে সপ্নে জিজ্ঞাসা করছে, আল্লাহ আপনার ব্যাপারে কী ফয়সালা করেছেন? বুজুগর্ বলল, স্ত্রীকে এক দিন ক্ষমা করার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা আমার জীবনের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দিয়েছেন।

আজ আমি দেখছি, ছোট্ট ছোট্ট কারণে স্ত্রীকে নিযর্াতন করা হচ্ছে। নিদর্য়ভাবে স্ত্রীকে পিটায়। সমস্ত পাগলামির ঝাল মিটায় বউ পিটিয়ে।  কোন গোন্ডা যদি  তাকে পিটায় বা যদি আজাব আসে সেদিন সে বুঝবে অসহায়কে পিটালে কেমন লাগে! মনে রাখবে, মজলুমের আহ থেকে বেচে থেকো।  মজলুমের আহ বৃথা যায় না। আজ আমার কাছে ওয়াদা কর, কখনো স্ত্রীর উপর হাত তুলবে না। তাকে লাঠি- পেটা করবে না। তার সাথে নরম ব্যাবহার করো। বুজুগর্দের  মাধ্যমে নসীহাত করতে থাকো। মহব্বতের সাথে তাদেরকে বোঝাও। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় যেমন কাপড় ধুতে পারেনি,  রান্না করতে গিয়ে কোন ভুল করে বসেছে, এসব সাধারণ বিষয়েও সামান্য ভুলের কারণে বেদম প্রহার করতে থাকে। এরা আসলে মানুষ নয়। কুকুরের চেয়েও নিকৃষ্ট।

অসহায় পেয়ে তারা স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে। কেননা তার বাবা মা দূরে রয়েছে। তার ভাই দূরে রয়েছে।  তোমরা বল, এক লোক স্ত্রীকে পিটাচ্ছে, আর বল্ছে,  তুমি আমাকে পাগল করে দিয়েছ। ইতোমধ্যে স্ত্রীর চার ভাই এসে উপস্থিত। এক ভাই এস আই, এক ভাই এস পি , আরেকজন ডি আই জি। চার নাম্বার ভাই বক্সার। মুহাম্মাদ আলী ক্লে এর মত।  অনেক বাসার দজর্ায় ছিদ্র রাখে। স্বামী দজর্ায় উকি দিয়ে দেখল, সামনে তার চার ব্রাদার ইন ল (শ্যালক) দারান রয়েছে।  এ ব্যক্তি প্রথমে দজর্া খুলবে না, প্রথমে স্ত্রীর সামনে হাত জোড় করে বলবে, দেখো, আমি পাগল নই।  আমার হুশ ফিরে এসেছে।  তোমার চার ভাই দাড়িয়ে আছে।  তোমার পা ধরছি, আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দাও। জীবনেও তোমার গায়ে আর হাত তুলব না । আজ তুমি আমাকে বাচাও। তোমার ভাইদেরকে বল না। নতুবা আমার পরিণাম ভাল হবে না।  মুহাম্মাদ আলী তো বক্সিং দিবে। এস পি জেলে পুরে রাত বারটার পরে মার দিবে।  থানায় রাত বারটার পরে যে মার দেওয়া হয়, সেই মার দিবে। যার এক দুই দিন থানায় থেকেছেন, তারা ভাল করে জানেন, থানায় রাত বারটার পরে মার দেওয়ার জন্য ডাকা হয়।

আজ আল্লাহর নামে আপনাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি, দয়ার আবেদন জানিয়ে ওয়াদা  নিচ্ছি। আমি আপনাদের উপর জুলুম করছি না। শুধু এটুকু বল্ছি, আল্লাহর সুপারিশের উপর আমল কর।  و عاشروهن بالمعروف  স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো। তাদের উপর নিযর্াতন করো না। তাদেরকে পিটাবে না। তাদের অশ্রু ঝরাবে না।  কেননা তার চোখের অশ্রু মোছার জন্য তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।  তার বাবা মা দূরে থাকে। ভাই দূরে থাকে। আল্লাহর অশেষ দয়ায়  বিবাহের বরকতে স্ত্রী পেয়ে থাকো।  যে মহিলা পূবর্ে হারাম ছিল, শুধু বিবাহের বরকতে সে হালাল হয়েছে।  তারা যদি বলে, মিরিন্ডা খাওয়াও, তাহলে সাথে সাথে এনে দিবে। যদি বলে, মাথায় ব্যথা, সাথে সাথে ঔষ্ধ এনে দাও।  যদি কোন ভুল করে, তাহলে চিন্তা করো যে, তোমার নিজের মেয়ের যদি কোন ভুল হয়, তাহলে  জামায়ের কাছ থেকে কেমন আচরণ আশা করো?  অবশ্যই চাইবেন যে  মেয়ের জামাই মেয়েকে যেন না মারে, তার সাথে দুঃব্যাবহার না করে।  সুতরাং নিজের মেয়ের জন্য যেটা কামনা করো, স্ত্রীর সাথেও সেই আচরণ করো। দেখবে তোমার একটা নসীহাতই তার হেদায়াতের জন্য  যথেষ্ট হবে।
অনুবাদ,
মুফতী ইজহারুল ইসলাম আল-কাউসারী