Monday, 26 May 2014

বানর থেকে পর্যায়ক্রমে মানুষ সৃষ্টি হয়েছে কি না ?

নব্য শিক্ষিতদের অনেকে ডারউইনের মতবাদ ‘বানর থেকে পর্যায়ক্রমে মানুষ সৃষ্টি হয়েছে’- একথা বিশ্বাস করে। অনেকে কতক বিজ্ঞানীর অভিমত হিসেবে বিশ্বাস করে যে, সূর্য তার স্থানেই স্থির অবস্থান করছে। সূর্য ঘুরছে না। আবার অনেকে সুদভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে কোন প্রকার ক্ষতি বা আল্লাহর নাফরমানীর কথা মেনে নিতে চায় না। কেউবা জন্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে সুখ-শান্তি রয়েছে বলে বিশ্বাস করে। অনেকে ইংরেজদের তৈরী পাঠ্যসূচীতে শিক্ষা গ্রহণ করার কারণে অনেক ধরণের পশ্চিমা দর্শন ও ফিলোসফিকে [যা সম্পূর্নভাবে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী] মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে। এমনকি তাদের ইসলামের বন্ধন অতিদূর্বল ও ক্ষীণ হাওয়ায় তারা এগুলোকে ইসলামের ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

জবাব :
তাদের এসব বিশ্বাস সর্বস্বই মারাত্মক ভুল। এসব ভুলের দরুন তারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে অনেক আয়াত ও হাদীসকেই অস্বীকার করে নিজের দ্বীন ও ঈমানকে নষ্ট করে ফেলেছে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً

হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি এক ব্যক্তি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন। আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগনিত পুরুষ ও নারী।
[ সূত্র : সূরাহ নিসা, আয়াত-১]

এছাড়া বিভিন্ন আয়াতে মানবজতিকে – يا بَنِيْ اَدَمَ ‘হে আদমের সন্তান!’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে
পাঠক! চিন্তা করুন, আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন যে, আমি একজোড়া নর-নারী থেকে সমগ্র মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি এবং সেই নর হচেছন হযরত আদম (আ) ও নারী হচ্ছেন হযরত হাওয়া (আ)। আর দুনিয়ার সমস্ত মানুষ হচ্ছে নবীর আওলাদ। এখন কোন অমুসলিম যদি বানর থেকে মানুষ তৈরির দাবী করে, তাহলে আমাদের বলার কি আছে? আমরা [মুসলমানগণ] এতটুকুই শুধু বলব যে, বংশতালিকা বা বংশপরম্পরা বর্ণনা করার অধিকার প্রত্যেকেরই আছে। আজ হয়তো কেউ তার বংশপরম্পরা বানর থেকে বর্ণনা করছে, আগামীকাল কেউ তার বংশপরম্পরা শুকর থেকে বর্ণনা করবে। আমরা মুসলমান জাতি। আমাদেরও বংশপরম্পরা বর্ণনা করার অধিকার আছে। সেই হিসেবে আমরা বলব যে, আল্লাহ তা‘আলা ঈমানের দৌলতে আমাদেরকে হেফাযত করেছেন। তিনি আমাদেরকে কোন জানোয়ারের বাচ্চা না বানিয়ে তাঁর প্রিয়নবী হযরত আদম (আ) এর সন্তান বানিয়েছেন।

সারকথা, যারা ডারউইনের মতবাদ বিশ্বাস করে, তারা কুরআনের এ সমস্ত আয়াত বিশ্বাস করে না। তেমনিভাবে যারা বিজ্ঞানীদের এ দর্শন ‘সূর্য ঘুরে না, বরং নিজের স্থানে স্থির রয়েছে’ বিশ্বাস করে, তারা সূরাহ ইয়াসীনের ৩৮ নং আয়াত।

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا

অর্থাৎ: “ সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে, বিশ্বাস করে না। যারা সুদভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে উন্নতির বিশ্বাস রাখে, তারা সূরাহ বাকারার ২৭৬ নং আয়াত।

يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ

অর্থাৎ: “ আল্লাহ তা‘আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করনে এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন” বিশ্বাস করে না। অথচ স্মরণ রাখা উচিৎ যে, কুরআনের কোন একটি আয়াত অবিশ্বাস করলে ঈমান চলে যায়। এখানে শুধু নমুনা হিসাবে ২/৪ টা বিষয়ের উপর আলোচনা করা হলো। স্কুল-কলেজের পাঠ্য-পুস্তকে এ ধরণের অনেক বিষয় আছে, যা সরাসরি কুরাআনের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ। সুতরাং সংশ্লিষ্ট লোকদের কর্তব্য হচ্ছে, এসব পশ্চিমা দর্শন বিশ্বাস না করা এবং এতে প্রভাবান্বিত না হয়ে হাক্কানী উলামায়ে কিরাম থেকে ইসলামের দৃষ্টিতে এতদসম্পর্কিত বিধান জেনে ঐ সকল ভ্রান্ত আকীদার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে কলিজার টুকরো সন্তানদের দ্বীন-ঈমানের হেফাযত করা। দ্বীনদার শিক্ষকগণ এ ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারেন


  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ থেকে গাইব জানতেন না

অধিকাংশ বিদ‘আতী লোকেরা বিশ্বাস করে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাযির-নাযির এবং তিনি গাইব জানতেন। তেমনিভাবে অনেকে তাদের ভন্ডপীর সম্পর্কেও এরূপ আকীদা পোষণ করে যে, তাদের খাজাবাবা গাইব জানে এবং অনেক দূর-দূরান্ত থেকে বিপদগ্রস্ত মুরীদদের বিপদের কথা নিজে জেনে তাকে বিপদমুক্ত করতে পারে।

জবাব :

লোকদের এ ধারণাও স্পষ্ট কুফর ও শিরক। কারণ সদা সবর্ত্র হাযির-নাযির ও আলিমূল গাইব হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। কোন নবী-রাসূল, পীর বুগুর্গ সদা সর্বত্র হাযির-নাযির বা আলিমুল গাইব হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা কুরাআনে কারীমে ইরশাদ করেন: “তাঁর কাছেই গায়েবের বা অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এগুলো তিনি ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।”
وَعِندَهُ مَفاتِحُ الغَيبِ لا يَعلَمُها إِلّا هُوَ ۚ وَيَعلَمُ ما فِى البَرِّ‌ وَالبَحرِ‌ ۚ وَما تَسقُطُ مِن وَرَ‌قَةٍ إِلّا يَعلَمُها وَلا حَبَّةٍ فى ظُلُمـٰتِ الأَر‌ضِ وَلا رَ‌طبٍ وَلا يابِسٍ إِلّا فى كِتـٰبٍ مُبينٍ ﴿٥٩﴾
[সূত্র : সূরাহ আনআম, আয়াত ৫৯।]

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, “হে নবী! আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের বা ক্ষতি সাধনের মালিক নই; তবে আল্লাহ যা চান, তা-ই হয়। আর আমি যদি গাইবের কথা জানতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করতে পারতাম। তখন কখনো আমার কোন অমঙ্গল হতে পারত না। আমি তো ঈমানদারদের জন্যে শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।”
قُل لا أَملِكُ لِنَفسى نَفعًا وَلا ضَرًّ‌ا إِلّا ما شاءَ اللَّهُ ۚ وَلَو كُنتُ أَعلَمُ الغَيبَ لَاستَكثَر‌تُ مِنَ الخَيرِ‌ وَما مَسَّنِىَ السّوءُ ۚ إِن أَنا۠ إِلّا نَذيرٌ‌ وَبَشيرٌ‌ لِقَومٍ يُؤمِنونَ ﴿١٨٨﴾
[সূত্র : সূরাহ আরাফ, আয়াত ১৮৮]


এ ধরনের অনেকগুলো আয়াত কুরআনুল কারীমে বিদ্যমান আছে। তেমনিভাবে অনেক সহীহ হাদীসেও এর প্রমাণ রয়েছে। যেমন, এক হাদীসে এসেছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমি তোমাদের পূর্বে হাউজে কাউসারে অবস্হান করবো। আমার নিকট যারা পৌঁছবে, তারা হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করবে এবং যারা সেখান থেকে পানি পান করবে, বেহেশতে পৌঁছার পূর্বে আর কখনো তারা পিপাসিত হবে না। তখন কিছু লোক আমার নিকট পৌঁছবে। কিন্তু তাদেরকে তৎক্ষণাত বাধা দেয়া হবে। তখন আমি বলব, এ লোকগুলো তো আমার উম্মত! আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হবে, আপনার পরে এরা দ্বীনের মধ্যে যে কত প্রকার নতুন জিনিস দাখিল করেছে, তা আপনি জানেন না। তখন আমি বলব, ধ্বংস ঐ ব্যক্তির জন্যে, যে আমার পরে দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তন সাধন করেছে।
[সূত্র : বুখারী শরীফ, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৯৪৭, মুসলিম শরীফ, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-২৪৯]
এছাড়াও শাফা‘আতে কুবরার ব্যাপারে বিস্তারিত বিবরণসহ যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানুষ সকল নবীগণের (আ) থেকে নিরাশ হয়ে হাশরের ময়দানে হিসেব শুরু হওয়ার সুপারিশ নিয়ে যখন আমার নিকট পোঁছাবে, তখন আমি সিজদায় পড়ে এমন শব্দ দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার ছানা-সিফাত বর্ণনা করবো, যা আল্লাহ তা‘আলা ঐ সময় আমাকে শিক্ষা দিবেন এবং তা এমন প্রশংসাবাণী হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা পূর্বে তা কাউকে শিক্ষা দেন নি।
[সূত্র : খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৬৮৫, বুখারী ও মুসলিম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা -১০৯।]

উভয় হাদীসে স্পষ্ট বক্তব্য বিদ্যমান রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ থেকে গাইব জানতেন না। হাদীসে এ বিষয়ে এরূপ শত শত প্রমাণ বিদ্যামান রয়েছে। হযরত আয়েশা (রাযি) এর ওপর যখন মুনাফিকরা যিনার অপবাধ দিয়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ এক মাস অস্থির ছিলেন। তারপর ‘সূরাহ নূর’ এর প্রথমাংশ নাযিল হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন।
[সূত্র : বুখারী শরীফ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৯৬।]

হযরত আবু হুরাইরা (রাযি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যখন খাইবার বিজিত হলো, তখন ইহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাওয়াত দিল এবং বিষ মিশ্রিত বকরীর গোশত নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খেতে দিল। তখন জিবরাঈল (আ কে পাঠিয়ে আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে সতর্ক করার পর তিনি মুখ থেকে গোশত ফেলে দিলেন।
[সূত্র : বুখারী শরীফ, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৬১০।]

গাইব জানার অর্থ : কারোর জানিয়ে দেয়া ব্যতীত নিজে নিজে জানা এবং সর্বপ্রকার গাইবের সংবাদ জানা। এ ধরণের জ্ঞান কোন মাখলুককেই দেয়া হয়নি। তবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব গাইবের খবর জানতেন, সেগুলো আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। এগুলোর একটিও তিনি নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা জানতেন না। আর এটা তার নবুওয়াত বা মর্যাদার পরিপন্থী নয়। কারণ, নবী হওয়ার জন্যে গাইবজান্তা হওয়ার কোন শর্ত নেই। নবীগণ গাইবজান্তা হলে অহীর কী প্রয়োজন ছিল?
দ্বিতীয়ত : তিনি সকল প্রকার গাইব জানতেন না। যেমন, ইতিপূর্বে এতদসংক্রান্ত অনেক ঘটনা ও হাদীস পেশ করা হয়েছে। সুতরাং, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাত-জাহান্নাম, কবর-হাশর, আরশ-কুরসী ইত্যাদি সম্পর্কে যত বর্ণনা প্রদান করেছেন, সেগুলোর ইলম আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে দান করা হয়েছিল। অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলিমুল গাইব’ বলে বিশ্বাস করে আল্লাহর বিশেষ গুনাবলির মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শরীক করে নিজের ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।

সাহাবায়ে কিরাম তৎকালীন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট তৎকালীন সময় নানা ধরণের প্রশ্ন করতেন, সেগুলোর জবাবের জন্যে তিনি অহী আগমনের অপেক্ষায় থাকতেন। কুরআনে এ ধরণের অনেক ঘটনা বর্ণিত আছে। সুতরাং, যদি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলিমুল গাইব হতেন, তাহলে জবাবের জন্যে অহী নাযিলের অপেক্ষা করার কী প্রয়োজন ছিল? তাছাড়া কুরআন নাযিল হওয়ারই বা কী প্রয়োজন ছিল? আর নবী রাসূলগণ (আ) যখন গাইব জানতেন না, তখন কোন পীর কিংবা খাজাবাবা গাইব জানেন-এরূপ ধারণা অন্তরে পোষণ করা যে কতবড় মুর্খতা, তা বলাই বাহুল্য।

অনেক মূর্খ্য লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাযির-নাযির বলে বিশ্বাস করে। তারা মীলাদ মাহফিলের মধ্যে চেয়ার খালি রেখে দেয় এবং হঠাৎ একসময় সকলে সম্মিলিতভাবে দাঁড়িয়ে যায়। এগুলো সব মনগড়া কাজ। এর সপক্ষে শরী‘আতে কোন দলিল নেই। হুযূর সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম-এর তিরোধানের পর সাহাবায়ে কিরাম (রাযি) কত দ্বীনি মজলিস করেছেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি আমাদের চেয়ে বহুগুণ বেশি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং আমাদের চেয়ে অনেক বেশি মুহাব্বত রাখতেন। কিন্তু তাঁরা কখনো তাঁদের মজলিসে এরুপ কিয়াম করেন নি। এটা একটা আজব ব্যাপার যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম এর প্রকৃত মুহাব্বতকারী সাহাবায়ে কিরাম (রাযি) দুরুদ পড়ার সময় কখনো কিয়াম না করলেও এসব বিদ‘আতীরা দুরুদ পড়তে পড়তে একসময় দাঁড়িয়ে যায়। এখন প্রশ্ন জাগে, তারা যখন দাঁড়ায়, তখন কিভাবে বুঝতে পারে যে, এ মুহুর্তে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসছেন-যদ্দরুন এখন দাঁড়ানো প্রয়োজন? এবং যখন একটু পরে তারা বসে পড়ে, তখন কী করে তারা বুঝতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখন চলে গেছেন? সুতরাং, এখন বসা দরকার। হাস্যকর ব্যাপার যে, তারা যখন বলে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বত্র হাযির-নাযির, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রস্থান অনুমান করে বসে যায় কিভাবে? যিনি সদা সর্বত্র হাযির-নাযির, আবার প্রস্থান হয় কি করে? কেননা, তিনি তো সদা হাজিরই থাকবেন। দেখা যাচ্ছে-তাদের কথা ও কাজ পরস্পর বিরোধী। বলা বাহুল্য, মিলাদ মাহফিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমন-প্রস্থানের এ ধরণের আকীদা পোষণ করা শিরক-মহাপাপ
শরী‘আতের দৃষ্টিতে, দাঁড়িয়ে বা বসে সব অবস্থায়ই দুরুদ শরীফ পড়া যায়। তবে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলকে নামাযের মধ্যে বসা অবস্থায় দুরূদ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যে কারণে নামাযের আখিরী বৈঠকে তাশাহহুদের পর বসাবস্থায়ই দুরূদ শরীফ (আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা......) পড়া হয়ে থাকে। সুতরাং বসে দুরূদ শরীফ পড়া যে উত্তম, তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকতে পারে না। আর সম্মিলিতভাবে একই সুরে অশুদ্ধ উচ্চারণে দরূদ পড়ার পদ্ধতিও শরী‘আতে প্রমাণিত নয় এবং শব্দ ও অর্থগত ভুলসহ ‘ইয়া নবী’ অলা দরূদ-সালাম পড়াও ঠিক নয়। হাদীসের কিতাবে সহীহ দরূদের কোন অভাব আছে কি? তাছাড়া মীলাদের নামে একটা মাহফিলে দ্বীনের কোন আলোচনা নেই, সুন্নাতের কোন বর্ণনা নেই, অথচ আরবী ফারসী বাংলা ও উর্দু ভাষার কিছু কবিতা পাঠ করা হলো, কয়েকবার ভুল-অশুদ্ধ উচ্চারণে ও গলদ তরিকায় কয়েকবার দুরূদ-সালাম পড়া হলো, আর তাকে মহা ইবাদত ও পূণ্যের কাজ মনে করা হলো, ব্যস। বস্তুত এটা দ্বীনের নামে আত্মপ্রবঞ্চনা এবং কিছু অর্থলোভী মৌলোভীদের রোজগারের হাতিয়ার মাত্র। দ্বীনের সাথে এগুলোর আদৌ কোর্ন সম্পর্ক নেই। আর আখিরাতে এসব আমলের বিনিময়ে কোন সওয়াবের আশা করাও অবান্তর। বরং ভুয়া ইশকে রাসূলের নামে এ সকল গহির্ত বিদ‘আতী কর্মকান্ডের কারণে পরকালে তারা ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে, সুতরাং এ জাতীয় দ্বীনের নামে ধোঁকামূলক যাবতীয় কার্যকলাপ হতে সকল মুসলমানের বেঁচে থাকা কর্তব্য 
  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

কাদিয়ানী ইহুদী-খ্রিষ্টানদের মতো কাট্টা কাফির ও বেঈমান

কাদিয়ানী জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী দাবি করেছে যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নবী নন!। বরং তাঁর পরেও আরো নবী আসতে পারেন। এর কিছুদিন পর সে নিজেই নিজেকে নবী বলে দাবী করেছে। আর অনেক মূর্খ লোক তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়েছে।

জবাব :

মিথ্যা নবুওয়াতের দাবী করা বা এরূপ সমর্থন করা প্রকাশ্য কুফর। নবুয়াত দাবি করে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজে কাফির হয়েছে এবং এ দাবী মেনে নেওয়ার কারণে তার অনুসারীরাও কাফির হয়েছে। নিঃসন্দেহে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাতামুন নাবিয়্যীন বা সর্বশেষ নবী। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। মুফতী আযম শফী (রহ) তৎপ্রণীত, ‘খতমে নবুওয়ত’ নামক কিতাবে প্রায় একশটি আয়াতে কুরআনী পেশ করেছেন
ما كانَ مُحَمَّدٌ أَبا أَحَدٍ مِن رِ‌جالِكُم وَلـٰكِن رَ‌سولَ اللَّهِ وَخاتَمَ النَّبِيّـۧنَ ۗ وَكانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَىءٍ عَليمًا ﴿٤٠﴾
[সূরাহ আহযাব, আয়াত ৪০]
وَالَّذينَ يُؤمِنونَ بِما أُنزِلَ إِلَيكَ وَما أُنزِلَ مِن قَبلِكَ وَبِالءاخِرَ‌ةِ هُم يوقِنونَ ﴿٤﴾

[সূরাহ সূরাহ বাকারাহ, আয়াত ৪]
ইত্যাদি এবং দু’শর বেশি সহীহ হাদীস পেশ করেছেন। [সূত্র :বুখারী শরীফ, পৃষ্ঠা ৫০১] ইত্যাদি।
যে গুলোর প্রত্যেকটি দ্বারা স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের নবীই শেষ নবী এবং তাঁর দ্বারা নবুওয়াতের ও ওহীর দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তা ছাড়া কুরআনের পূর্ববর্তী সকল আসমানী কিতাবেও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নবী হিসেবে আখ্যায়িত করা করা হয়েছে। এ জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইনতিকালের পর যখন ‘মুসাইলামাতুল কাযযাব’ নবুওয়াত দাবি করে, তখন এই মর্মে সমস্ত সাহাবায়ে কিরামের (রাযি) ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আমাদের নবীই শেষ নবী। তাঁর পরে কোনক্রমেই আর কোন নতুন নবীর আগমন ঘটতে পারে না। সুতরাং, যে কেউ এখন নবুওয়াতের দাবি করবে, সে কাফির সাব্যস্ত হবে। তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং তাকে কতল করা জরুরী। উল্লেখিত দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে সাহাবায়ে কিরাম (রাযি) ঐকমত্যের ভিত্তিতে মুসাইলামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে কতল করে উম্মতের ঈমান হেফাযতের ব্যবস্থা করেন।

পাঠক! লক্ষ্য করুন, উপরোক্ত দাবি প্রমাণের জন্যে যেখানে কুরআনের একটা আয়াতই যথেষ্ট ছিল, সেখানে প্রায় এক’শ আয়াত এবং দু’শর অধিক হাদীস প্রমাণ রয়েছে। এ কারণে বিশ্বের সকল হাক্কানী উলামায়ে কিরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এই যে, আমাদের নবীর পরে যে কেউ নবুওয়াতের দাবি করবে, সে কাফির এবং তাকে যে ব্যক্তি নবী হিসেবে স্বীকার করবে, সেও কাফির। এমনকি মিথ্যুক নবীর নিকট তার নবুওয়াতের দলিল জানতে চাওয়াও কুফরী কাজ। কারণ দলিল-প্রমাণ চাওয়ার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, এখনো নতুন নবী আগমনের সম্ভাবনা আছে। সুতরাং তোমার দলিল সঠিক হলে তোমাকে নবী হিসেবে স্বীকার করা যাবে। [নাউযুবিল্লাহ]

সুতরাং, মুসলমানগণ এ ব্যাপারে খুব সর্তক থাকবেন। আহমদিয়া বা কাদিয়ানী সম্প্রদায় এখন বাংলাদেশের বড় ও প্রসিদ্ধ শহরগুলোতে তাদের অফিস খুলে আস্তানা গেড়েছে। সেখানে তারা বড় বড় অক্ষরে কালিমায়ে তায়্যিবা লিখে রেখেছে। তাদের নাম মুসলমানদের নামের মতো। তারা মুসলমানদের মতো কুরআন তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মর্জি মত কুরআনের ব্যাখ্যা করে। তারা বই-পুস্তক রচনা করে বিনামূল্যে বিতরণ করে এবং নানারকম সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখায়। খবরদার ! কখনো তাদের ফাঁদে পা দিবেন না। তারা এমনও বলে যে, তোমাদের মাঝে তো হানাফী, শাফেঈ, মালেকী ইত্যাদি মাযহাব রয়েছে। আহমদিয়া জামাআতও তেমনি একটি মাযহাব। এটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার। চার মাযহাবের মধ্য মূল আকীদার বিষয়ে কোন প্রকার মতভেদ নেই। হ্যাঁ এ ধরণের মতভেদ রয়েছে যে, নামাযের মধ্যে আমীন আস্তে না জোরে পড়তে হবে, হাত বুকে না নাভির নিচে বাঁধতে হবে, ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা পড়তে হবে কি না? ঈদে ছয় তাকবীর না বারো তাকবীর ইত্যাদি। এ ধরণের ছোটখাট কয়েকটি মাসআলা নিয়ে কেবল তাদের মধ্যে মতভেদ, আর এসবই আমলের সাথে সম্পর্ক রাখে, ঈমান-আকীদার সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই, ঈমান-আকীদার ব্যাপারে সকল মাযাহাবই এক। সুতরাং সাবধান! আহমদিয়া জামা‘আত কখনো হানাফী, শাফেঈ মাযহাবের মতো নয়। বরং তারা ভ্রষ্ট ইহুদী-খ্রিষ্টানদের মতো কাট্টা কাফির ও বেঈমান।
তারা বলে থাকে যে, আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাতামুন নাবিয়্যীনরূপে বিশ্বাস করি, বরং আমাদের আকীদার সাথে দ্বিমত পোষণকারীদের চেয়ে এক’শ গুণ বেশি বিশ্বাস করি। কিন্তু খাতামুন নাবিয়্যীন শব্দের অর্থ-শেষ নবী নয়। কারণ এ অর্থ গ্রহণ করার দ্বারা মূলত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আধ্যাত্মিক ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা স্বীকার করা হয়।

মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ও তার অনুসারীদের এরূপ উক্তিও একটি মারাত্মক ধোঁকাবাজী ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ বহু হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেকে খাতামুন নাবিয়্যীন হিসেবে উল্লেখ করার সাথে সাথে এ কথাও বলেছেন যে, আমার পরে আর কোন নবীর আগমন ঘটবে না। এরূপ ব্যাখ্যা তিনি এ জন্যেই দিয়েছিলেন, যাতে করে কাদিয়ানীদের মত গোমরাহ দলসমূহ খাতামুন নাবিয়্যীন শব্দের মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়ার কোন সুযোগই না পায়। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আধ্যাত্মিক পূর্ণতা প্রমাণের জন্যে নতুন নবীর আগমনের দাবিও ভিত্তিহীন। বরং নতুন নবী না আসলে তাঁর আধ্যাত্মিক পূর্ণতা আরো বেশি প্রকাশ পায়।

অনেক নব্য শিক্ষিত লোক এমন রয়েছে, যাদের দ্বীনি জ্ঞানের পরিধি খুবই সীমিত। ফলে তারা কাদিয়ানী ও আহমদীদেরকে কাফির আখ্যায়িত করাটাকে উলামায়ে কিরামের সংকীর্ণতা বলে মনে করে। এটা তাদের চরম মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। আহমদী জামা‘আত বা কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সঙ্গে মুসলমানদের মতভেদ রয়েছে ঈমান ও আকীদার ব্যাপারে। কারণ কাদিয়ানী মতবিরোধিতাকে কখনো হানাফী, শাফেঈ ও মালিকীদের মতো পারস্পরিক[ফিকহী মাসাইল সম্পর্কিত] মতবিরোধিতার সাথে তুলনা করা যেতে পারে না। কারণ, কাদিয়ানীরা নিঃসন্দেহে কাফির। এদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই। এরা সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে পথভ্রষ্ট করছে। মুসলমানদের ঈমানের হিফাযত উলামায়ে কিরামের বিশেষ দায়িত্ব। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরকালের জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যিম্মাদারী আদায় করেছেন। সুতরাং তাদের এ যিম্মাদারী আদায়কে কিভাবে সংকীর্ণতা বলা যেতে পারে? বস্তুত কাদিয়ানী ভ্রান্ত সম্প্রদায় সম্পর্কে সর্তক করা আলিমগণের দ্বীনি দায়িত্ব।
                   
  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।

Saturday, 24 May 2014

নামায না পড়ার শাস্তি

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন  -জাহান্নাম নামক দোযখে বিরাট একটি গর্ত আছে তাহার নাম অয়েল। এই জায়গা এতই কঠিন আজাবে পরিপূর্ণ যে, অন্যান্য দোযখীগণ প্রত্যেক দিন সত্তর বার আল্লাহ পাকের নিকট আরজ করবে, হে আল্লাহ্ তাবারুক তায়ালা! তুমি আমাদিগকে ঐ অয়েল দোযখ হইতে রক্ষা করিও।
যাহারা নামায পড়িতে আলস্য করে সময়মত নামায পড়েনা, মাঝে মাঝে পড়ে এইরূপ ব্যক্তিদের কেমন শাস্তি হইতে পারে।
হাদীসে উল্লেখ আছে, প্রতি ওয়াক্ত নামায ছাড়িয়া দেয়ার জন্য আশি ছোকবা দোযখে থাকতে হবে। দুনিয়ার আশি বৎসর সমান এক ছোকবা হয়। তাহার আশি ছোকবা অর্থৎ ১৬০০ (এক হাজার ছয়শত) বৎসর এক ওয়াক্ত নামায কাযা করলে দোযখে থাকতে হবে। যাহারা মোটেই নামায পড়েনা এবং নামাযের প্রতি মিশ্বাসও রাখেনা তাদের অনন্তকাল দোযখে থাকতে হবে।
নবী করীম (সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুসলমান এবং কাফেরের মধ্যে পাথক্য এই, মুসলমান নামায পড়ে আর কাফের নামায পড়ে না। কাজেই বেনামাযী কাফেরের মধ্যে গণ্য হয়ে যায়। যদি কেহ বলে কিসের নামায, নামায পড়িয়া কি হইবে, সাথে সাথে সে কাফের হইয়া যাইবে। অনেক লোক বলে আমরা গরীব মানুষ রুজী রোজগার করতে হয়। নামায পড়ার সময় কোথায়? তাহারা চিন্তা করেনা দুনিয়ার সুখ শান্তি ক্ষণস্থায়ী আর আখেরাতের শান্তি অনন্তকাল। যাহারা অনন্তকালের সুখ শান্তি নষ্ট করে দুনিয়ায় দুদিনের শান্তির আশায় থাকে তাহাদের মত আহাম্মক আর নাই। রুজি রোজগার দেয়ার মালিক আল্লাহ পাক। তিনি যদি অনুগ্রহ করে রুজি না দেন তবে সারা জনম পরিশ্রম করে রুজি পাওয়া যাবে না। আর যদি আল্লাহ পাক দয়া করে দেন তবে মুহুর্তের মধ্যে তাহাকে সম্পদশালী করিয়া দিতে পারেন। কাজেই রুজির আসায় নামায পরিত্যাগ করা উচিৎ নয়।
অনেক মেয়ে লোক বলে, ছেলে-মেয়ে নিয়া সংসারের নানা কাজকর্ম করিয়া নামায পড়ার সময় থাকেনা। আবার বলে আমার নামায পড়ার মত কাপড় চোপর নাই। একখানা মাত্র কাপড় তাও আবার ঠিকমত পাক পবিত্র করতে পারিনা। নামায পড়ব কেমনে? এই সমস্ত বাজে অজুহাতের কোন মূল্য নাই আল্লাহ্ পাকের দরবারে। যাহাদের নামায পড়ার আগ্রহ আছে তারা নানা বাধা বিপত্তির মধ্যেও নামায পড়তে সক্ষম হয়। আর যাহারা নামায পড়বেনা তাহাদের ওজর আপত্তির সীমা নাই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ পাক যখন নিজে কাজীর আসনে বসবেন। তখন এই সমস্ত ওজর আপত্তি কোন কাজে আসবেনা।
যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক পনেরটি আজাব নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন। পনেরটি আজাবের মধ্যে ছয়টি দুনিয়ায়, তিনটি মৃত্যুর সময়, তিনটি কবরের মধ্যে, তিনটিহাশরের মধ্যে দেয়া হইবে।
দুনিয়াতে ছয়টি আযাব ১। তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত হইবেনা । ২। আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠাইয়া লইবেন। ৩ । যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তাহার ছওয়াব পাইবেনা। ৪। তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল হইবে না। ৫। আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবে। ৬। ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ হইতে বঞ্চিত করা হইবে।
মৃতু্যর সময় আজাব তিনটিঃ ১। অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃতু্যবরণ করিবে। ২। ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরন করিবে। ৩। মৃত্যুকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে, তাহার ইচ্ছা হইবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলিতে।
কবরের মধ্যে তিনটি আজাবঃ ১। তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাইবে। ২। তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন জ্বালাইয়া রাখা হবে। ৩। আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তানিযুক্ত করিবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে, দুনিয়ায় কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত, জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত এবং এশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। প্রত্যেক বার আঘাতের সময় বজ্রপাতের মত শব্দ হইবে এবং শরীর চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া পঞ্চাশ গজ মাটির নিচে চলিয়া যাইবে। সেই ফেরেশ্তা পুনরায় তাহাকে জীবিত করিয়া হাড় মাংস এক করিয়া আবার আঘাত করিতে থাকিবে। এই ভাবে কিয়ামত পর্যন্ত লোহার মুগুর দিয়া তাহাকে আঘাত করতে থাকবে।
হাশরের মাঠে তিনটি আজাবঃ ১। একজন ফেরেশতা তাকে পা উপরের দিকে এবং মাথা নিচের দিকে অবস্থায় হাশরের মাঠে লইয়া যাইবে। আল্লাহ পাক তাহাকে অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখবেন না। সে চির কালের জন্য দোযখী হইয়া নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে থাকবে।
নবী করিম (সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে আট শ্রেণীর লোকের উপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক অসন্তুষ্ট থাকবেন। তাহাদের মুখের আকৃতি অত্যন্ত কুশ্রী ও ভীষণাকার হইবে। হাশরের মাঠে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহাদিগকে দেখিয়া ঘৃণা করিবে। এই কথা শুনার পরে সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে সমস্ত লোক কাহারা? নবী করীম (সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বললেন —১। জ্বেনা-কার ২) অবি-চারক বাদশাহ্ বা হাকিম। ৩। মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান। ৪। সুদখোর ৫। পর-নিন্দাকারী ৬। অন্যায়কারী এবং অত্যাচারী ৭। মিথ্যা সাক্ষীদাতা। ৮ বে-নামাযী। ইহাদের মধ্যে বে-নামাযীর শাস্তিই বেশী হইবে। বে-নামাযীকে আগুনের পোশাক পড়াইয়া শিকলে বাঁধিয়া আগুনের কোড়া মারতে থাকবে। বেহেশত তাহাকে বলতে থাকবে তুমি আমার দিকে অগ্রসর হইওনা। দোযখ তাহাকে বলবে আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি। তোমার দ্বারা আমার পেটের ক্ষুধা নিবারণ করব। এই বলিয়া দোযখ তাহার জিহ্বা বাড়াইয়া ভিতরে নিয়া যাইবে।
নবী করীম (সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জাহান্নাম দোযখের মধ্যে লমলম নামে একটি কুপ আছে। উহা অসংখ্য সাপ বিচ্ছুতে ভর্তি। প্রত্যেকটা সাপ একটি পাড়ের সমতুল্য এবং একটা বিচ্ছু হাতির সমতুল্য হইবে। সেই সমস্ত সাপ বিচ্ছু সব সময় বে-নামাযীকে কামড়াইতে থাকিবে, একবার কামরাইলে সত্তর বৎসর পর্যন্ত তাহার যন্ত্রনা থাকিবে এবং কাহারও মৃত্যু হইবে না।

নামাজ না পড়ার শাস্তি

যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক পনেরটি আজাব নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন। পনেরটি আজাবের মধ্যে ছয়টি দুনিয়ায়, তিনটি মৃত্যুর সময়, তিনটি কবরের মধ্যে, তিনটি হাশরের মধ্যে দেয়া হইবে

#
দুনিয়াতে ছয়টি আযাব

, তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত হইবেনা
, আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠাইয়া লইবেন
, যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তাহার ছওয়াব পাইবেনা
, তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল হইবে না
, আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবে
, ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ হইতে বঞ্চিত করা হইবে

#
মৃত্যুর সময় আজাব তিনটিঃ

, অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃতু্যবরণ করিবে
, ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরন করিবে
, মৃত্যুকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে, তাহার ইচ্ছা হইবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলিতে

#
কবরের মধ্যে তিনটি আজাবঃ

, তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাইবে
, তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন জ্বালাইয়া রাখা হবে
, আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তা নিযুক্ত করিবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে, দুনিয়ায় কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত, জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত এবং এশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। প্রত্যেক বার আঘাতের সময় বজ্রপাতের মত শব্দ হইবে এবং শরীর চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া পঞ্চাশ গজ মাটির নিচে চলিয়া যাইবে। সেই ফেরেশ্তা পুনরায় তাহাকে জীবিত করিয়া হাড় মাংস এক করিয়া আবার আঘাত করিতে থাকিবে। এই ভাবে কিয়ামত পর্যন্ত লোহার মুগুর দিয়া তাহাকে আঘাত করতে থাকবে

#
হাশরের মাঠে তিনটি আজাবঃ

, একজন ফেরেশতা তাকে পা উপরের দিকে এবং মাথা নিচের দিকে অবস্থায় হাশরের মাঠে লইয়া যাইবে। আল্লাহ পাক তাহাকে অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখবেন না। সে চির কালের জন্য দোযখী হইয়া নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে থাকবে

নবী করিম (সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে আট শ্রেণীর লোকের উপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক অসন্তুষ্ট থাকবেন। তাহাদের মুখের আকৃতি অত্যন্ত কুশ্রী ভীষণাকার হইবে। হাশরের মাঠে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহাদিগকে দেখিয়া ঘৃণা করিবে
এই কথা শুনার পরে সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে সমস্ত লোক কাহারা?
নবী করীম (সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বললেন, জ্বেনা-কারী , অবি-চারক বাদশাহ্ বা হাকিম। , মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান। , সুদখোর , পর-নিন্দাকারী , অন্যায়কারী এবং অত্যাচারী , মিথ্যা সাক্ষীদাতা। বে-নামাযী
ইহাদের মধ্যে বে-নামাযীর শাস্তিই বেশী হইবে। বে-নামাযীকে আগুনের পোশাক পড়াইয়া শিকলে বাঁধিয়া আগুনের কোড়া মারতে থাকবে। বেহেশত তাহাকে বলতে থাকবে তুমি আমার দিকে অগ্রসর হইওনা। দোযখ তাহাকে বলবে আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি। তোমার দ্বারা আমার পেটের ক্ষুধা নিবারণ করব। এই বলিয়া দোযখ তাহার জিহ্বা বাড়াইয়া ভিতরে নিয়া যাইবে

নবী করীম (সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জাহান্নাম দোযখের মধ্যে লমলম নামে একটি কুপ আছে। উহা অসংখ্য সাপ বিচ্ছুতে ভর্তি। প্রত্যেকটা সাপ একটি পাড়ের সমতুল্য এবং একটা বিচ্ছু হাতির সমতুল্য হইবে। সেই সমস্ত সাপ বিচ্ছু সব সময় বে-নামাযীকে কামড়াইতে থাকিবে, একবার কামরাইলে সত্তর বৎসর পর্যন্ত তাহার যন্ত্রনা থাকিবে এবং কাহারও মৃত্যু হইবে না

আল্লাহু আকবার!!!
কি ভয়ংকর!!!
হে আল্লাহ, আমাদের সবাইকে পাঁচওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন আর আমাদের সবাইকে এইসব ভয়ংকর আজাব থেকে রক্ষা করুন, এবং আমাদের সবাইকে বিনা হিসাবে জান্নাত নসীব করুন.........আমীন.........