Sunday, 24 August 2014

ইসলামের পর্দা বিধান : মুমিন-মুনাফিকের পরিচয় নিরুপণের ঐশী মানদন্ড

পর্দা যে ইসলামের একটি বিধান তা মুসলিম-সমাজের সকলেই জানেন। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, দ্বীনদার-দ্বীনহীন সবারই জানা আছে যে, বেগানা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইসলামে পাপ। সমাজের ব্যাপক পর্দাহীনতার কারণে এই পাপের অনুভূতি ক্রমশ লোপ পেলেও মূল বিধানটি সবারই জানা আছে। এ ধরনের বিধানকে, যার সাথে মুসলিম-সমাজের ছেলেবুড়ো সবাই পরিচিত, পরিভাষায় জরুরিয়াতে দ্বীন বলে। অর্থাৎ দ্বীন-ধর্মের সর্বজনবিদিত ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়।  
জরুরিয়াতে দ্বীনের প্রসঙ্গটি অতি সংবেদনশীল। এটি ব্যক্তির ঈমান ও ইসলামের মানদন্ড। ইসলাম তো আর কিছু নয়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস ও সমর্পণেরই পারিভাষিক নাম। তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যে বিধান ও শিক্ষা দ্ব্যর্থহীন ও সর্বজনবিদিত তা সমর্পিত চিত্তে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো ব্যক্তি কীভাবে মুমিন-মুসলমান থাকতে পারে?  
মুসলিম হওয়ার মাণদন্ড জ্ঞান নয়, সমর্পণ। জ্ঞান তো কাফিরদেরও ছিল এবং আছে। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-(তরজমা) তারা নিশ্চিতভাবে জানার পরও অন্যায় ও অহংকারবশত তা অস্বীকার করেছে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, (তরজমা) তারা তাঁকে তেমন (নিশ্চিতভাবে) চেনে যেমন চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে।
সুতরাং নিছক জ্ঞান মুসলিম হওয়ার পক্ষে যাথেষ্ট নয়; মুসলিম সে-ই, যে আল্লাহর বিধানের সামনে সমর্পিত হয়। তো অন্য অনেক বিধানের মতো পর্দার বিধানও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান-এ সম্পর্কে কোনোরূপ অস্পষ্টতা নেই। পর্দার সকল মাসআলা সবার জানা না-ও থাকতে পারে, কোনো কোনো মাসআলায় ইমামদের মতভেদও থাকতে পারে, কিন্তু মূল পর্দা-বিধান সম্পর্কে কোনোরূপ অস্পষ্টতা নেই এবং এ বিষয়ে কারো কোনো মতভেদও নেই। এখন এটা এক ঈমানী পরীক্ষা যে, এই বিধানের সামনে নিজেকে বিনীত ও সমর্পিত করতে পারছি কি না?
দুই. পর্দা একটি কুরআনী বিধান। কুরআন মজীদের অনেকগুলো আয়াত পর্দা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। পর্দা ইসলামের ঐসকল বিধানের অন্যতম, যেগুলোর বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে কুরআন মজীদে আছে। তেমনি হাদীস শরীফেও এর আরো দিক পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে। তো পর্দার বিধান হচ্ছে ইসলামের একটি অটল ও অকাট্য বিধান।
তিন. পর্দার বিধান পরিষ্কারভাবে কুরআন-সুন্নাহয় ঘোষিত হওয়ার কারণে এ বিষয়ে গোটা মুসলিম উম্মাহর ইজমাও রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন যুগে মুসলিমসমাজের ব্যবহারিক জীবনেও তা ছিল প্রতিষ্ঠিত। বস্ত্তত পর্দার বিধান হল কুরআনের ভাষায় সাবীলুল মুমিনীন, যা পরিত্যাগকারীকে জাহান্নামের কঠিন হুঁশিয়ারি শোনানো হয়েছে।
সুতরাং মুমিনমাত্রেরই অপরিহার্য কর্তব্য, পর্দা বিধানের সামনে আত্মসমর্পণ করা। নিজের ও অধীনস্তদের বাস্তব জীবনে তা প্রতিষ্ঠিত করা।
পর্দা-প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ ধারণা। পর্দা-বিধানের প্রতি অনেক মুসলমানের মানসিক আনুগত্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেই। বহু ভ্রান্ত ও খন্ডিত ধারণা পর্দা সম্পর্কে দেখা যায়। পর্দা বিধানকে আমরা বলতে পারি, পর্দা-ব্যবস্থা। এর অনেকগুলো দিক আছে, অনেক নীতি ও বিধান আছে, যা মুসলমানের ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সবগুলোর সমষ্টির নাম পর্দা বিধান। সুতরাং তা অন্যান্য সাধারণ বিধানের মতো নয়। একজন সমর্পিত মুসলিমের কর্তব্য, ইসলামের এই পর্দা-ব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা অর্জন করা। এরপর নিজের ও অধীনস্তদের জীবনে তা বাস্তবায়িত করা।
পর্দা সম্পর্কে খন্ডিত ধারণার কারণে অনেকে মনে করেন যে, পর্দা শুধু নারীদের বিধান, পুরুষ এই বিধান থেকে মুক্ত। এই ধারণা ঠিক নয়। নারী-পুরুষ উভয়কেই পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে। এমনকি কুরআন মজীদেও শুধু নারীকে নয়, নারী-পুরুষ উভয়কেই সম্বোধন করা হয়েছে। তবে নারী-পুরুষের স্বত্তা ও স্বভাবগত ভিন্নতা এবং কর্ম ও দায়িত্বগত পার্থক্যের কারণে অন্য অনেক বিষয়ের মতো পর্দার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা ও পার্থক্য হয়েছে। আমরা যদি ইসলামের সামগ্রিক পর্দা-ব্যবস্থাকে পর্যালোচনা করি তাহলে তিন ধরনের বিধান পাই : ১. কিছু বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। যেমন সতরের বিধান, নজরের বিধান, নারী-পুরুষের মেলামেশার বিধান ইত্যাদি। ২. কিছু বিধান শুধু নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন গৃহে অবস্থানের বিধান, প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় নিজেকে আবৃত করার বিধান, সজ্জা ও অলংকার প্রদর্শন না করার বিধান ইত্যাদি। ৩. কিছু বিধান মৌলিকভাবে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন পরিবারের কর্তা হিসেবে অধীনস্তদের পর্দা সম্পর্কে অবগত করার বিধান এবং তাদের পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের বিধান এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিচালক হিসেবে সর্বশ্রেণীর মুসলিম নর-নারীর জন্য পর্দার বিধান জানা ও মানার ব্যবস্থা, পর্দা-বিরোধী সকল অপতৎরতা বন্ধ এবং সমাজে পর্দাহীনতা ও অশ্লীলতা বন্ধে সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করার বিধান ইত্যাদি।
মোটকথা, ইসলামের পর্দা বিধান শুধু নারীর জন্য নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য। তেমনি পর্দা-বিধান শুধু ব্যক্তিজীবনের বিষয় নয়। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেরও বিষয়।
ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থা যদি পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়িত হয় তাহলে মুসলিম নর-নারীর ব্যক্তি জীবনের সাথে সাথে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনও সুস্থ ও পবিত্র হবে। পক্ষান্তরে পর্দা-বিধান কার্যকর না থাকলে যেখানে যেখানে তা অনুপস্থিত সেখানে সেখানেই পঙ্কিলতা ও অস্থিরতার অনুপ্রবেশ ঘটবে। এ কারণে ইসলামের পর্দা বিধান হল ব্যক্তি ও সমাজের রক্ষাকবচ। এই সত্য আমরা যত দ্রুত উপলব্ধি করব তত দ্রুত  কল্যাণ লাভ করব। এ কারণেই ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থার যারা বিরোধী তারা শুধু দ্বীন-ধর্মেরই বিরোধী নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও বিরোধী; তারা মানব ও মানবতার মুক্তি ও কল্যাণেরও বিরোধী। সঙ্গত কারণেই পর্দা-বিধানকে বলা যায় বর্তমান মুসলিমসমাজের জন্য আসমানী ফুরকান তথা এমন এক ঐশী মানদন্ড, যা মুমিন-মুনাফিকের মাঝে টেনে দেয় পরিষ্কার পার্থক্যরেখা।
আজ সকল মুসলিমের ঈমানী কর্তব্য, পর্দার বিধানের দিকে ফিরে আসা। ব্যক্তি ও পরিবার এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং স্বস্থি ও পবিত্রতা রক্ষার এ ছাড়া দুসরা কোনো পথ নেই। মেহেরবান আল্লাহ আমাদের সকলকে সত্যকে সত্য জানার এবং সমর্পিত চিত্তে তা অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন ইয়া রাববাল আলামীন।

মাসিক

পর্দার বিধান

পর্দা শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম । এ হুকুমের উপর আমল নারীর ইজ্জত সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি করে। দুনিয়ার জীবনে তাকে সুসংহত ও নিরাপদ করে  । পর্দা নারীর ভূষণ, নারীর পবিত্রতা, তার স্বকীয়তা, আত্মমর্যাদাবোধ, লজ্জা ও ঈমান । মুসলিম সমাজে পর্দার রেওয়াজ আছে। কিন্তু পরিপূর্ণ শরয়ী পর্দা খুবই কম । ব্যাপকভাবে পর্দার ব্যাপারে বিভিন্ন দিক দিয়ে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় । নি¤েœ এ সম্পর্কিত কিছু বিষয় তুলে ধরা হল যেন মুসলিম মা-বোনেরা পরিপূর্ণ শরয়ী পর্দা করতে সক্ষম হয় ।

চেহারাও পর্দার অন্তর্ভুক্ত

এক শ্রেণীর লোক নারীর চেহারাকে পর্দার অন্তর্ভুক্ত মনে করে না । অথচ চেহারা পর্দার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চেহারা পর্দার অন্তর্ভূক্ত না হওয়ার ব্যাপারে সূরা নূরের ৩১ নং আয়াত উল্লেখ করা হয়। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তবে যা সত্যই প্রকাশমান’। অথচ হিজাবের মূল আয়াত এটি নয়। পর্দার বিষয়ে এই আয়াত দ্বারা দলীল দেওয়া এবং এই আয়াতকেই একমাত্র দলীল মনে করা ভুল । মূলত পর্দার আয়াত হল সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াত ।
‘হে নবী আপনার স্ত্রী ও অন্যদেরকে এবং মুমিনদের স্ত্রীদেরকে বলুন, তারা যেন চাদর নিজেদের উপর টেনে নেয়’।
ইমাম সূয়ূতী র. বলেন, এটি সকল নারীর জন্য হিজাবের আয়াত । এতে মাথা ও চেহারা ঢাকা ওয়াজিব করা হয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের স্ত্রীদের আদেশ করেছেন তারা যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় উপর দিয়ে পর্দা ঝুলিয়ে চেহারা ঢেকে রাখে এবং শুধু এক চোখ খোলা রাখে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৩/৮২৪)
প্রখ্যাত ফকীহ তাবেয়ী উবাদা আসলামী রা. দেখিয়েছেন, কীভাবে নারীগণ এই আয়াতের উপর আমল করেন। তিনি তাঁর চাদর দিয়ে এমনভাবে মুখমন্ডল আবৃত করলেন যে, নাক ও বাম চোখ আবৃত হয়ে গেল। শুধু ডান চোখ খোলা থাকল। তদ্রƒপ মাথার উপর থেকে কপাল ও চোখের ভ্রুও আবৃত হল । তাফসীরে তাবারী, আদ্দুররুল মানসুর ৫/২২১, আহকামুল কোরআন- জাসসাস: ৩/৩৭১; তাফসীরে কাশশাফ ৩/২৭৪; আহকামুল কোরআন- ইবনুল  আরাবী ৩/১৫৮৫-১৫৮৭; যাদুল মাসীর ফী ইলমিত তাফসীর ৬/৪২২; আদ্দুররুল মানসুর ৫/২২১; আনওয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তাবীল ২/২৮০; তাফসীওে কুরতুবূ ১৪/২৪৩-২৪৪।
উল্লেখ্য, সূরা নূরের ৩১ নং আয়তে মূলত সতরের সীমারেখা বর্ণনা করা হয়েছে। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে হাত এবং মুখ খোলা রাখার তথাও বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনাগুলোর অধিকাংশই নেহায়েত দুর্বল । দু’একটি গ্রহণযোগ্য বর্ণনা রয়েছে। সে হিসাবে এটি এ আয়াতের একটি ব্যাখা ।
আয়াতের অন্য আরেকটি ব্যাখ্যা হল, ‘মা যাহারা মিনহা’ দ্বারা উদ্দেশ্য কাপড় । প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. এই ব্যাখ্যাই করেছেন । ইমাম ইবনে কাসীর র. এই মতকে প্রধান্য দিয়ে বলেন, হযরত হাসান, ইবনে সীরিন, আবুল জাওযা, আব্দুর রহীম নাখয়ী, হযরত ইবনে মাসঊদ রা. এর অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন।
ইবনে জাওযী র. আরো বলেন, ইমাম আহমদ র.ও  বলেছেন যে, প্রকাশ্য সৌন্দর্য হল কাপড়, আর নারীরর শরীরের সব কিছু এমনকি নখও পর্দার অন্তর্ভুক্ত । ( যাদুল মাসীর ৬/৩১)
আর ইবনে আব্বাস রা. এর ব্যাখ্যা গ্রহণ করলেও এই আয়াত পরবর্তীতে নাযিলকৃত  হিযাবের আয়াত দ্বারা মানসুখ হয়েছে । শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া র. সহ আরো কিছু মনীষীও এই মত পোষণ করেন।
আয়েশা রা. এর ‘ইফক’এর ঘটনায়  উল্লেখিত হাদীস নসখেন সুস্পষ্ট প্রমাণ। আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি যখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তখন সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আমার নিকটে এসে আমাকে দেখে চিনে ফেলল। কেননা, সে আমাকে হিজাবের হুকুম নাযিল হওয়ার আগে দেখেছিলেন। সে তখন ইন্নালিল্লাহ বলল । আমি তার ইন্নালিল্লাহ বলার শব্দে জেগে উঠি । তখন আমি ওড়না দিয়ে আমার মুখ ঢেকে ফেলি’। সহীহ বুখারী ৫/৩২০; সহীহ মুসলিম হাদীস ২৭৭০; জামে তিরমিযী হাদীস ৩১৭৯) প্রকাশ থাকে যে, সাহাবায়ে কেরাম হিজাবের আয়াত নাযিল হওয়ার পর চেহারায় পর্দা করতেন, যা আম্মাজান আয়েশা রা. এর উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । এছাড়া এ সংক্রান্ত আরো প্রমাণ পরবর্তী আলোচনায় আছে।

 এহরাম অবস্থায় মহিলারা চেহারা খোলা রাখা

অনেকে মনে করে, ইহরাম অবস্থায় চেহারার পর্দা নেই। ফলে তারা অন্য সময় পর্দা করলেও ইহরাম অবস্থায় চেহারার পর্দা করেন না। প্রকৃত বিষয় এই যে, ইহরাম অবস্থায় চেহারায় কাপড় লাগানো নিষেধ, কিন্তু পর্দা করা নিষেধ নয় । উম্মুল মুমিনীন ও একাধিক সাহাবী থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তারা ইহরাম অবস্থায়ও চেহারার পর্দা করতেন । আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম । পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত । তারা আমাদের নিকট আসলে আমরা মাথার উপর থেকে নেকাব চেহারায় ফেলে দিতাম । তারা চলে গেলে নেকাব উঠিয়ে নিতাম। ( সুনানে আবূ দাঊদ হাদীস ১৮৩৩; ফাতহুল বারী ৩/৪৭৪)
হযরত ফাতেমা বিনতে মুনযির র. বলেন, অর্থ আমরা ইহরাম অবস্থায় চেহারা আবৃত করে রাখতাম । আবূ বকর সিদ্দীক রা. এর কন্যা আসমা রা. এর সাথে আমরা ছিলাম । তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেননি । (মুয়াত্তা মালেক: পৃঃ ২১৭২) মোটকথা, সাহাবা-তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীনের মাঝে কোন দ্বিমত ছিল না । এ ব্যাপারে তাদের মাঝে ব্যাপক আমল ছিল । এমনকি ইহরাম অবস্থায় যখন চেহারায় কাপড় লাগানো মহিলাদের জন্যও নিষিদ্ধ তখনও তারা চেহারার পর্দা করতেন ।

 চোখ ঢাকাও পূর্ণ পর্দার অংশ

অনেকে অর্ধমুখ খোলা রাখেন । ভ্রƒর উপর থেকে নাকের অর্ধেক পর্যন্ত খোলা রাখেন । এটাও ঠিক নয় । হযরত আয়েশা রা. ও ফাতিমা বিনতে মুনযির রা. এর উপরোক্ত বর্ণনায় পূর্ণ চেহারা ঢাকার কথা আছে। এছাড়া সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে আব্বাস রা. এবং উবাদা আসলামী রা. যা বলেছেন, তা আরো স্পষ্ট যে, তিনি বাম চোখও ঢেকে নিয়েছেন। শুধু ডান চোখটি দেখার স্বার্থে বের করে রেখেছেন । আর মাথার উপর থেকে নেকাব এমনভাবে ঝুলিয়েছেন যে, চোখও ভ্রু ঢেকে আছে। আজকাল নেকাবের জন্য পাতলা কাপড় পাওয়া যায় । যা ব্যবহারে ঢেকে যায় । আবার চলাচলেরও অসুবিধা হয় না।

মাহরাম ছাড়া সফর করা

আজকাল অনেক মহিলারা দূর দূরান্ত থেকে মাহরাম ছাড়া একাকী সফর করে । দেশে এক শহর থেকে অন্য শহর এমনকি বিদেশ সফরও একাকী করে থাকে । এটা নাজায়েজ । শরীয়তের বিধান হল ৪৮ মাইল বা ততোধিকের সফর মহিলারা মাহরাম ছাড়া করবে না। অন্য মহিলাদের সঙ্গী হয়ে যায়ার ও অনুমতি নেই । অনেক মহিলারা মাহরাম ছাড়া হজ্বের সফরেও যায় । অন্য মহিলার সঙ্গী হয়ে যাওয়াকে বৈধ মনে করে । বিশেষ করে জিদ্দা থেকে কোন মাহরাম সঙ্গী হওয়ার মতো ব্যবস্থা থাকলে এবং দেশে বাড়ি থেকে এয়ারপোর্ট পৌঁছে দিলে পথিমধ্যে একাকী সফরকে দোষনীয় মনে করা হয় না । অথচ একাকী সফর করার বাপারে হাদীস শরীফে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হজ্জের সফরেও একাকী যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ এসেছে।
(সহীহ মুসলিম ৯/১১০; সুনানে দারাকুতনী ২/২২৩)
নিয়মিত বাইরের ব্যস্ততা সমীচীন নয়
অনেক মহিলারা ঘরের বাইরের ব্যস্থতা নিয়মিত রাখে । যেমন চাকরি, স্কুল-কলেজে পড়া লেখা ইত্যাদি। নিয়মিত বাইরের ব্যস্ততা রাখা ঠিক নয়। বিশেষত একাকী যাতায়াত করা আরো খারাপ। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান কর ।’
এই আয়তের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, অতি প্রয়োজন ছাড়া মহিলাদের বের হওয়া ঠিক নয় । আর নিয়মিত বাইরের ব্যস্ততায় ফিতনার আশংকা রয়েছে। এজন্য মসজিদের জামাতে অংশগ্রহণ করতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাই পড়া-শুনা বা প্রয়োজনীয় কোন কাজে নিয়মতি বের হলে পূর্ণ শরঈ পর্দার সাথে মাহরামসহ বের হবে ।

 মহিলাদের একাকী বাজার করা অনুচিত

অনেক পর্দাশীল মহিলা একাকী বাজার করে । অথচ একাজগুলো বাড়ির পুরুষদের দিয়ে সুন্দরভাবে হয়ে যায়। এ কাজ মহিলাদের নিজে নিজে করা কোরআনে কারীমের আয়াত-‘তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান কর’-এর খেলাফ । দ্বিতীয়ত কেনাকাটা করতে গিয়ে দোকানী পুরুষদের সাথে সরাসরি কথাবার্তা বলতে হয়, পুরুষদের ভীড়ের মধ্য দিয়ে চলাফেরা করতে হয় । এভাবে শরীয়তের হুকুম লঙ্ঘন করা হয়। এজন্য মহিলাদের এভাবে একাকী বাজার করা অনুচিত ।

বাইরে সুগন্ধি ব্যবহার করা নাজায়েয

অনেক মহিলা বাইরে বের হওয়ার সময় পর্দা করে বের হয় বটে, কিন্তু পারফিউম বা অন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে । মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার সময়  সুগন্ধি ব্যবহার করা নাজায়েয। এতে পর্দা লঙ্ঘন হয় । শরঈ পর্দা আদায় হয় না  । হাদীস শরীফে ওই সব মহিলার  উপর অভিসম্পাদ করা হয়েছে যারা সুগন্ধি মেখে বের হয় ।
এক হাদীসে এসেছে, অর্থ: যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে বের হল, অতঃপর লোকদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল যে, তারা যেন সুঘ্রাণ পায় সে ব্যভিচারিনী । (মুসনাদে আহমাদ ৪/৪১৪; মুসতাদরাকে হাকেম ২/৩৯৬; সুনানে আবূ দাঊদ ৪১৭৫)

আঁটসাঁট বোরকা পরা

কিছু মহিলা এমন বোরকা পরে যে, বোরকার উপর দিয়ে শরীরের আকার- আকৃতি বোঝা যায় । কেউ কেউ একেবারে টাইটফিট বোরকা পরে । এমন পোশাক পরে বাইরে রেব হয়, যা পরিধান করে বাইরে বের হওয়া নাজায়েয । এতে বোরকার হক আদায় হয় না । শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে উঠে এমন পোশাকে যারা বের হয় তাদেরকে হাদীস শরীফে কঠিন ভাবে সাবধান করা হয়েছে। এক হাদীসে তাদের উপর লানত করা হয়েছে। আর এক হাদীসে বলা হয়েছে, দুই শ্রেণীর লোক জাহান্নামী তার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী লোক হচ্ছে, ঐ সকল নারী, যারা পোশাক পরিধান করা স্বওে¦ও বিবস্ত্র । অন্যকে নিজের প্রতি আকর্ষণকারিনী ও নিজেও আকৃষ্ট। বুখতি উটের উঁচু কুঁজের মতো তাদের চুলের খোপা । এসব নারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক দূর থেকে পাওয়া যাবে’।

আকর্ষণীয় ও কারুকার্যময় বোরকা পরিধান করা

আজকাল জাঁকজমকপূর্ণ বোরকার প্রচলন বেরেছে। বিভিন্ন ডিজাইনের আকর্ষণীয় বোরকা । এধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আকর্ষণীয় বোরকা পরা ঠিক নয় । মহিলাদরে বাইরে বের হওয়ার একটি মূলনীতি হল, বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী কোন কিছু ব্যবহার না করা । এজন্য সুগন্ধিসহ সকল আকর্ষণ সৃষ্টিকারী বস্তু ব্যবহার নাজায়েজ । কেউ কেউ পেন্সিল হিল ব্যবহার করে । এর ব্যবহারও এড়িয়ে চলা জরুরী ।

 পুরুষদের সঙ্গে সহাবস্থান

পুরুষদের সাথে একত্রে চাকরি বা পড়া-শুনার ক্ষেত্রে বোরকা পরাকেই যথেষ্ট মনে করা হয় । অথচ গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে সান্নিধ্য ও তাদের সঙ্গে ওঠাবসা থেকে মহিলাদের দূরে থাকা কর্তব্য । তাই পুরুষের সহাবস্থানে শুধু বোরকা দ্বারা পর্দার হক আদায় হয় না । কেননা পর পুরুষের সাথে উঠা-বসা, লেনদেন জিনিসপত্রের আদান-প্রদান এবং অফিসিয়াল প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে অপরিচিতদের সাথে কথাবার্তা বলতে হয় ।  এতেও পর্দার খেলাফ হয় । এসকল ক্ষেত্রে বোরকা পরে থাকলেও পর্দার খেলাফ হয় । অবশ্য বোরকা পরিধানের কারণে বোরকা ছাড়া মহিলাদের চেয়ে গুনাহ কম হবে।

 অন্যদের সাথে কোমলতা প্রদর্শন ঠিক নয়

গায়রে মাহরামের সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলা নিষেধ নয় । কিন্তু এক্ষেত্রেও কোমলতা বর্জন করা কোরআনের নির্দেশ। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পর পুরুষের সাথে কোমল স্বরে কথা বলো না । ফলে সে ব্যক্তি কুবাসনা করবে যার অন্তরে ব্যধি রয়েছে।’ (সূরা আহযাব:৩২)
সুতরাং প্রয়োজনীয় কথা-বার্তার ক্ষেত্রে কোমলতা বর্জন না করাও পর্দার খেলাফ। আর প্রয়োজন ছাড়া গায়রে মাহরামের সাথে কথা না বলাই কাম্য। বিশেষ কোন ফেতনার আশংকা থাকলে কথা বলা জায়েয হবে না। (শরহে মুসলিম- নববী কৃত ২/১২১আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৬; আল মুফাসসাল৩/২৭৬)

 শরঈ পর্দার শর্তাবলি

শর্তগুলো উপরে বিক্ষিপ্তভাবে এসেছে সহজকরণের লক্ষে তা সংক্ষিপ্তভাবে আবারো প্রদত্ত হল। অনেক মা-বোনই পর্দা করে কিন্তু অনেকে জানেনই না পূর্ণ পর্দা কাকে বলে? এর জন্য কি কি শর্ত রয়েছে? তাই পূর্ণ পর্দার শর্তাবলি উল্লেখ করা হল।
১.কোন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া। এক্ষেত্রে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পূর্ণ শরীর আবৃত করা, মুখ ও চোখের উপর নেকাব রাখা, হাত মোজা ও পা মোজা পরিধান করা।
২.বোরকার কাপড় ভালো ও শালীন হওয়া, আকর্ষণীয় কারুকাজ ও নকশা না থাকা। অর্থাৎ বোরকা আকর্ষণীয় না হওয়া। আজকাল বিভিন্ন প্রিন্টের বোরকা পাওয়া যায় যথা সম্ভব এ থেকে এড়িয়ে থাকা। তদ্রƒপ কালো কাপড়ের উপর আকর্ষণীয় কাজও যেন না হয়।
৩.বোরকার কাপড় মোটা হওয়া। এমন পাতলা না হওয়া যে, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ  দেখা যায়।
৪.অধিক ঢিলাঢালা বোরকা হওয়া। এমন আঁটসাঁট না হওয়া যে, বোরকা শরীরের সাথে লেগে থাকে কিংবা পরিধানের পর শরীরের কোন অঙ্গ প্রকাশ পায়।
৫.বাইরে বের হওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার না করা। এটাও শরঈ পর্দার অংশ।
৬.এমন অলংকার পরে বাইরে না যাওয়া, যা পরিধান করে চললে আওয়াজ হয়। যেমন-নুপুর, কাঁচের চুড়ি ইত্যাদি।
৭.চিকন ও লম্বা হিল বিশিষ্ট জুতাপরিধান না করা। যেন চললে স্বাভাবিকতা বজায় থাকে।
৮.উঁচু করে খোপা বা চুল না বাঁধা।
৯.গায়রে মাহরামের সাথে অপ্রয়োজণীয় কথা বলা ও সালাম দেওয়া-নেওয়া থেকে বিরকত থাকা। প্রয়োজনে বলতে হলে কোমলতা পরিহার করা।
১০.সফরসম দূরত্বে কিংবা ফেতনার আশংকা থাকলে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে যাওয়া।

 মহিলাদের নাম সতর নয়

কেউ কেউ মনে করে মহিলাদের নামের পর্দা আছে। পর পুরুষের সামনে বলা গুনাহ । এধারণা ঠিক নয়। এতে গুনাহ নেই । তবে মহিলাদরে নাম অন্যকে বিনা প্রয়োজনে না বলাই ভালো। ফিতনামুক্ত থাকার জন্য এটি সহায়ক হতে পারে।

 চাচী, মামী ও ভাবীর সঙ্গে পর্দা করা আবশ্যক

কেউ কেউ মনে করে চাচী, ভাবী, মামী এ ধরনের গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের সাথে দেখা দেয়া যায়। বিশেষত যখন তাদের কাছেই বড় হয় কিংবা তারা বয়স্কা হয়ে যান। কিন্তু যেহেতু ইসলামে তাঁদের সঙ্গেও পর্দার বিধান রয়েছে তাই শুধু উপরোক্ত যুক্তিতে দেখা জায়েয হবে না।  সর্বাবস্থায় তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হারাম।

 উকিল বাবার সাথে পর্দা করা আবশ্যক

বিয়ের সময় যাকে উকিল বানানো হয় তাকে সমাজে পাত্র-পাত্রীর উকিল বাবা বলা হয়। তার সাথে পরবর্তীতে অবাধে দেখা-সাক্ষাত করা হয়। এমনকি মাহরামের অন্তর্ভুক্তও মনে করা হয়। এটা সম্পূর্ণ ভুল। গায়রে মাহরামকে উকিল বানানো হলেও তার সাথে দেখা-সাক্ষাত পূর্বের মতোই হারনাম।

 ধর্মের বোন ডাকা ও পর্দা না করা

অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে গায়রে মাহরাম মহিলাকে বোন ডাকে। সমাজে একে ‘ধর্মের বোন’ বলে  অভিহিত করা হয়। ধর্মের বোনের সাথে আপন বোনের মতোই আচরণ করা হয়  পর্দা করা হয় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মীরাসও দেওয়া হয়। গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে এ ধরনের সম্পর্ক বৈধ নয়। ধর্মের বোন বলতে যা বোঝানো হয় শরীয়তে তা স্বীকৃত নয়। তাদের পরস্পর দেখা-সাক্ষাত নাজায়েয।

মহিলাদের মসজিদে গমন

কিছু কিছু পর্দাশীন নারী মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করে থাকে। বিশেষত জুমআ পড়ে থাকে। এভাবে মসজিদে গিযে নামায আদায় করলে নামায হয়ে যাবে কিন্তু তাদের জন্য মসজিদে শরীক হয়ে নামায পড়া মাকরুহ।
(ফাতাওয়া শামী ১/৫৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭১/৩৮৮)
মহিলাদের মসজিদে যাওয়াকে রাসূল সা. নিরুৎসাহিত করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ ৬/৩৭১)
পরবর্তীতে আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. সহ অনেক সাহাবী  মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন। সহীহ বোখারী ১/১২০; সহীহ মুসলিম১/১৮৩ মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা ৫/২২-২০৩)
মহিলাদের মসজিদে নামায আদায়ের মধ্যে বিশেষত বর্তমান যুগে পর্দার হক আদায় হয় না।

 মাহরাম পুরুষের সামনে সতরের ব্যাপারে উদাসীনতা

আমাদের দেশে মহিলাদের অনেকে শাড়ী পরে থাকে। এতে অনেক সময় পেট ও পিঠ খোলা থাকে ঘরে মাহরাম পুরুষের সামনে একে গুনাহ মনে করা হয় না। অথচ এর দ্বারা সতর খোলার গুনাহ হয়। মহিলাদের পেট-পিঠ সতরের অন্তুর্ভুক্ত। মাহরাম পুরুষের সামনেও তা ঢেকে রাখা ফরয।

 জাহেলী যুগের মতো ওড়না ব্যবহার

জাহেলী যুগে ওড়না ব্যবহারের নিয়ম ছিল, নারীরা মাথায় ওড়না দিয়ে তার দুই প্রান্ত পৃষ্ঠদেশে ফেলে রাখত। ফলে গলা ও বক্ষদেশ অনাবৃত থাকত। ইসলামের প্রথমযুগে আল্লাহ তা‘আলা জাহেলী যুগের এই কু-প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। কোরআন মজীদে এসেছে-‘তারা যেন বক্ষদেশে ওড়না ফেলে রাখে’ (সূরা নূর;৩১)
আম্মাজান  হযরত আয়েশা রা. বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হয়, তখন (তৎক্ষণাৎ আমলের জন্য মহিলা সাহাবিগণ নিজেদের-পেটিকোট) নিয়ে তার পাশ থেকে কেটে তা ওড়না রূপে পরে নেয়।’ (সহীহ বুখারী ৮/৩৪৭)
বর্তমান জাহেলীযুগ পূর্বের জাহেলী যুগও ছেড়ে গেছে। অতি আধুনিক মেয়েরা তো ওড়না ব্যবহারই করে না। কেউ কেউ ব্যবহার করলেও জাহেলী যুগের মতো গলাও বক্ষদেশ খোলা রাখে। সুতরাং ঘরে-বাইরে সর্বত্র মহিলাদের ওড়না পরিধানের নিয়ম এটিই। এমনকি ফাতাওয়া শামীতে ঘরের মাহরামদের সামনে মহিলাদের মাথায় কাপড় রাখাকে মুস্থাহাব বলা হয়েছে। (ফাতাওয়ায়ে শামী: ১/৪০৪)

 পালক সন্তানের সাথে পর্দা করা

পালক সন্তান আপন সন্তানের মতো নয়। তার সাথে পর্দা করা ফরজ। হ্যাঁ, সন্তানের দুই বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে যদি নিজের বুকের দুধ খাওয়ায়  সেক্ষেত্রে সন্তানও হয়ে যায়। আর দুধ সন্তানের সাথে দেখা দেওয়া জায়েয । দুধ পান না করিয়ে থাকলে পালক সন্তানের সাথে দেখা দেয়া জায়েয হবে না। পালক সন্তান নিজের সন্তানের মতো নয়  তা সূরা আহযাবের ৪ও৫নং আয়াতে সুস্পষ্ট বলা হয়েছে।

 মেয়েদের পর্দার বয়স

অনেকে মনে করে ¯্রাব না দেখা দেয়া পর্যন্ত পর্দার বয়স হয় না। এই ধারণা ঠিক নয়। মেয়েরা বড় হয়ে ওঠলেই পর্দার বয়স শুরু হয়ে যায় । ফাতাওয়ায়ে শামীসহ অন্যান্য ফাতাওয়া গ্রন্থে নয় বছর অতিক্রম করলেই পর্দার বয়স হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই এই বয়স থেকেই পর্দা করা জরুরূ।
(ফাতাওয়ায়ে শামী:১/৪০৮;৩.৩৭ আহসানুল ফাতাওয়া :৮/৩৮)

ছেলেদের পর্দার বয়স

ছেলেদের যখন নারীদের সৌন্দর্য সম্পর্কে সচেতন হতে আরম্ভ করে তখন থেকেই তার সঙ্গে পর্দা করতে হবে। সূরা নূরের ৩১নং আয়াতে এসেছে তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে কিন্তু তাদের স্বামীর নিকট অথবা যৌন কামনামুক্ত পুরুষ ও বালক যারা নারীদের আবৃত অঙ্গ-প্রতঙ্গ সম্পর্কে সচেতন নয়।” (সূরা আন নূর ৩১)
এই চেতনা সাধারণত কত বছর বয়সে হয় এ নিয়ে ফকীহগণের বিভিন্ন মত আছে। ইমাম আহমদ র. সহ অনেকেই দশ বছর বলেছেন। তবে ফাতাওয়া শামীতে বয়োপ্রাপ্তির ন্যূনতম সীমা ১২ বছর বলা হয়েছে। সুতরাং ছেলের ১২ বছর বয়স হলেই তার সাথে নারীদের পর্দা করতে হবে। তবে দশ বছর বয়স থেকেই শুরু করা ভাল।
প্রসঙ্গত বর্তমানে এ বিষয়ে অনেক বেশী সতর্ক ও সচেতন হওয়া উচিত। ফাতাওয়ায়ে শামী : ৩/৩৫; আলমুফাসসাল: ৩/১৮০-১৮১)

মেয়েদের সাথে মেয়েদের পর্দা

অন্য নারীর সামনে একজন নারীর সতর নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত । এ অংশ কোন বিশেষ ওযর ছাড়া কোন নারীর সামনেও খোলা জায়েয নয়। আর পেট, পিঠ, বুক এগুলোও প্রয়োজন ছাড়া অন্য নারীর সামনে অনাবৃত করা অনুচিত। আর ফিতনার আশংকা হলে তা আবৃত রাখা জরুরী। ( আল মুফাসসাল: ৩/২৬৫; ফাতাওয়া শামী: ৬/৩৭১)

বিধর্মী নারীর সাথে মুসলিম নারীর পর্দা না করা গুনাহ

বিধর্মী নারীর সামনে মুখ, হাত ও পা ছাড়া পুরো শরীর এমনকি চুলও ঢেকে রাখা জরুরী। তাদের সামনে শরীরের সৌন্দর্য প্রকাশ করা গুনাহ। (ফাতাওয়ায়ে শামী: ৬/৩৭১; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/১৯৬)

পুরুষদের প্রতি নজর করা

এ প্রসঙ্গে সূরা নূরের ৩১ নং আয়াত স্মরনীয়। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, অর্থ-‘হে নবী! আপনি মুমিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন দৃষ্টিকে অবনত রাখে।’অর্থাৎ পর পুরুষের দিকে না তাকায়। হযরত উম্মে সালমা রা. বলেন, আমি রাসূল সা. এর কাছে ছিলাম, হযরত মায়মুনা রা. ও ছিলেন। ইতিমধ্যে অন্ধ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম এলেন। এটা ছিল হেজাবের হুকুম নাযিল হওয়ার পরের ঘটনা। তখন নবী কারীম সা. ইরশাদ করলেন.
অর্থ: তোমরা দু’জন তার থেকে পর্দা কর। আমরা বললাম, সে তো অন্ধ। আমাদেরকে দেখছে না এবং আমাদেরকে চিনেও না। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখতে পাচ্ছ না? (সুনানে আবূ দাঊদ হাদীস ৪১১২)
উক্ত আয়াতও হাদীসের আলোকে ফকীহগণ বলেন, কুনজরে পুরুষের দিকে তাকানো মহিলাদের জন্য নাজায়েয। তদ্রƒপ আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এমন গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করাও নিষেধ। আর কোন ধরনের ফিতনার আশংকা না হলে সাধারণ দৃষ্টিতে পর পুরুষের দিকে তাকানো নাজায়েয নয়। তবে এক্ষেত্রে না তাকানোই ভালো। (ফাতাওয়া শামী: ৬/৩৭১; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/২২৭; আল মুফাসসাল: ৩/২২৭; জামেউ আহকামিন নিসা: ৪/২৮৩; বেহেশতী জেওর: ৩/৬৫)

 পুরুষদের নিকট গায়রে মাহরাম নারীদের সৌন্দর্য বর্ণনা করা

একাধিক হাদীসে গায়রে মাহরাম নারীর সৌন্দর্য বর্ণনা করতে েিষধ করা হয়েছে। এতেও নারীর পর্দার এক প্রকার লঙ্ঘন আছে। সাধারণত মেয়েরা তার স্বামী, ভাই ইত্যাদির কাছে গায়রে মাহরাম মহিলাদের সৌন্দর্য গুণাবলি বর্ণনা করে থাকে। যেমন- কোন পর্দাশীন মেয়েদের সাথে সাক্ষাৎ হলে, নতুন করে তার কথা বলে ইত্যাদি। এটি গুনাহ । এর দ্বারাও এক প্রকার পর্দার লঙ্ঘন হয়। হাদীস শরীফে এসেছে, নারীগণ যেন পরস্পর এ ইদ্দেশ্যে একত্রিত না হয় যে, স্বামীর কাছে অন্যদের গুণাবলি এমনভাবে বলবে যেন সে ঐ মহিলাকে দেখছে। (ফাতহুল বারী: ৯/৩৩৮; জামিউল আহকামিন নিসা : ৪/৩৩৭


Sunday, 17 August 2014

'দাড়ি বাড়াও , গোঁফ কাট এবং এ ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা'

দাঁড়ির হুকুম ও পরিমাপ: 
ইসলামী শরীয়তে একমুষ্টি পরমান লম্বা দাঁড়ি রাখা ওয়াজিব বা আবশ্যক। দাঁড়ি এক মুষ্টির কম রাখা বা একেবারে তা মুন্ডিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে হারাম এবং কবীরা গুনাহ। স্বয়ং হুজুর স. এর দাঁড়ি রাখা এবং তার অসংখ্য হাদীসে উম্মতের প্রতি দাঁড়ি রাখার সাধারণ নির্দেশই প্রমান করে যে, দাঁড়ি রাখা ওয়াজিব এবং না রাখা হারাম। কারন, শরীয়ত প্রবর্তক কর্তৃক কোন বিষয়ের প্রতি সাধারন নির্দেশ হলে তা পালন করা ওয়াজিব এবং বিপরীত করা হারাম হয়ে যায়। আরে এটা ফিক্বাহ শাস্ত্রের একটি মূলনীতিও বটে। এছাড়া সাহাবা, সালফে সালেহীন এবং ফুক্বাহাগণের দাঁড়ি রাখার নিরবচ্ছিন্ন আমল এবং তাদের বিভিন্ন উক্তিসমূহের দ্বারাও এক মুষ্টি পরিমাপ লম্বা দাঁড়ি রাখা ওয়াজিব এবং এর বিপরীত করা হারাম প্রমাণিত হয়।

নিম্নে দাঁড়ি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস, সাহাবাগণের আমল ও ফুক্বাহাগণের উক্তিসমূহ উল্লেখ করা হল:

হাদীস শরীফে দাঁড়ি:
১. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূল স. ইরশাদ করেছেন, দশটি বিষয় সকল নবী রাসূলগণের সুন্নাত। তন্মধ্যে গোঁফ ছোট করা এবং দাঁড়ি লম্বা করা অন্যতম।
(মুসলিম শরীফ,১/১২৯)

২. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. ইরশাদ করেছেন, তোমরা গোঁফ কাট এবং দাঁড়ি লম্বা কর, আর অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা কর।
(মুসলিম শরীফ,১/১২৯)

৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল স. ইরশাদ করেন, মুশরিকদের বিরোধিতরা কর, দাঁড়ি লম্বা কর, আর গোঁফ ছোট কর।
(বুখারী শরীফ- ২/৮৭৫, মুসলিম)

৪. হুজুর স. বলেছেন যে, তোমরা ভালভাবে গোঁফ কাট এবং দাড়ি বাড়াও। (বুখারী শরীফ)

৫. হুজুর স. এরশাদ করেন যে, গোঁফ কাট এবং দাড়ি ছড়িয়ে রাখ। (কাজী এয়াজ শরহে মুসলিম নববী)

৬. হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম স. ইরশাদ করেন, দাড়ি বাড়াও , গোঁফ কাট এবং এ ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা। (মাসনাদে আহমদ)

৭. নবী করীম স. এর আমল দ্বারাও দাড়ি প্রমান পাওয়া যায়। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, সাহাবী হযরত খাব্বাব রা.-কে কেউ জিজ্ঞেস করেন, হুজুর পাক স. কি জোহর ও আছর নামাযে কেরআত পাঠ করতেন? তিনি বলেন, হ্যা, পাঠ করতেন। লোকটি পুন:প্রশ্ন করেন, আপনি কিভাবে তা বুঝতেন ? তিনি বলেন হুজুর স.-এর দাড়ি মুবারকের দোলায় আমরা বুঝতাম যে, তিনি কিরআত পাঠ করছেন। (তাহাবী শরীফ)

বলাবাহুল্য, কেরআত পাঠকালে ঐ দাড়ি দোলাই পরিদৃষ্ট হবে, যা যথেষ্ট দীর্ঘ হয়, ছোট ছোট দাড়ি কখনো দুলবে না।

এক নজরে দাড়ি:
১. দাড়ি বাড়াও। (বুখারী, মুসলিম শরীফ)
২. দাড়ি পূর্ণ কর। (মুসলিম শরীফ)
৩. দাড়ি ঝুলন্ত ও লম্বা রাখ। (মুসলিম শরীফ)
৪. দাড়ি বহার রাখ। (মাজমাউল বিহার)
৫. দাড়ি বেশী রাখ (বুখারী, মুসলিম)
৬. দাড়িকে ছাড়, অর্থাৎ কর্তন করো না। (তাবরানী)

দাঁড়ি ও সাহাবায়ে কেরামের আমল :
১.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.যখন হজ্জ্ব বা উমরা আদায় করতে, তখন স্বীয় দাঁড়ি মুষ্টি করে ধরতেন, অতঃপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।
(বুখারী শরীফ- ২/৮৭৫)

২. হযরত আবু হুরায়রা রা. স্বীয় দাঁড়ি ধরতেন, অতঃপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।
(মুসান্নাফ লি-ইবনি আবি শাইবা- ১৩/১১২)

দাঁড়ি ও ফুক্বাহাদের উক্তি:
১. হানাফী মাযহাবের কিতাব শরহে মুনহাল ও শরহে মানজুমাতুর আদবের মধ্যে লিখেছেন, নির্ভরযোগ্য ফতোয়া হল দাড়ি মুন্ডানো হারাম।

২.মাওলানা আশেকে এলাহী মিরাঠী রহ. তার প্রণিত “’”দাড়ি কী কদর ও কীমত” কিতাবে চার মাজহাবের ফক্বীহগণের মতামত শাফেয়ী মাজাহাবের প্রামান্য গ্রন্থ “আল ওবাব” হতে উদ্বৃত করেছেন :
ইমাম ইবনুর রাফ’আ বলেন, ইমাম শাফেয়ী রহ. “আলউম্ম” কিতাবে লেখেন যে, দাড়ি কাটা হারাম।

৩. মালেকী মাজহাব মতেও দাড়ি মুন্ডন করা হারাম। অনুরূপভাবে ছুরত বিগড়ে যাওয়া মত ছেটে ফেলাও হারাম। (কিতাবুল ওবদা)

৪. হাম্বলী মাজহাবের কিতাব “শাহহুল মুন্তাহা” ও “শরহে মুজ্জুমাতুল আদব” এর উল্লেখ হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য মত হল দাড়ি মুন্ডন করা হারাম।

অনুরূপ অন্যান্য গ্রন্থাকারও দাড়ি রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মাননীয় ইমামদের ইজমা (ঐকমত) বর্ণনা করেছেন।

দাড়ি কর্তনকারী আল্লাহ পাকের দুশমনদের মধ্যে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা:

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. নিজ রচিত “কিতাবুজ্জুহুদে” আকীল ইবনে মোদরেক সালামী হতে উদ্ধৃতি করেন যে, আল্লাহ জাল্লা শানুহু বনী ইস্রাইলের এক নবীর নিকট এই অহী প্রেরন করেন যে, তিনি যেন নিজ কওম বনী ইস্রাইলকে এ কথা জানিয়ে দেন যে, তারা যেন আল্লাহ তা’য়ালার দুশমনদের বিশেষ খাদ্য শুকরের গোশত না খায় এবং তাদের বিশেষ পানীয় অর্থাৎ শরাব(মদ) পান না করে এবং তাদের শিক্ল ছুরত (আকৃতি) না বানায়। যদি তারা এমন করে অর্থাৎ শুকরের গোশত খায়, বা মদ পান করে, অথবা দাড়ি মুন্ডায় বা ছোট করে (ফ্রেন্সকাট করে) অথবা বড় বড় মোচ রাখে, তা’হলে তারাও আমার দুশমন হবে, যেমন তারা আমার দুশমন। (দালায়েলুল আসর)

কওমে লূতের নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য ও ধ্বংসের কারন:

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে আসাকেরসহ আরো কতিপয় মুহাদ্দিস হযরত হাসান রা. হতে নবী করীম স. এর এই মুবারক হাদীস বর্ণনা করেন যে, দশ প্রকার পাপে লূত সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছিল; তন্মধ্যে দাড়ি কাটা, গোঁফ বড় রাখা অন্যতম।

আল্লাহ সুবানুহুতা’'য়ালা আমাদের সকলকে দাঁড়ি রাখার গুরুত্ব অনুধাবন করে যারা এখন দাঁড়ি রাখিনি তাদের দাঁড়ি রাখার তৌফিক দান করুন 
এবং যারা দাঁড়ি সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করেন তাদের হেদায়াত দান করুন ।

আমীন।

Saturday, 9 August 2014

সাওয়াল মাস বিবাহের উত্তম-বরকতময় মাস

রমযানের পর পরেই সাওয়াল মাস। এই সাওয়াল মাস রমযানের সাথে লেগে থাকার কারণে, ছূয়া-স্পর্শ হওয়ার কারণে আল্লাহপাক এই মাসকে দামী করেছেন,মূলবান করেছেন। এই মাসে অনেক ইবাদত রেখেছেন। যার মধ্যে একটি হচ্ছে বিবাহ-শাদী করা। বিবাহ-শাদী ১২ মাসেই করা জায়িজ, ৭ দিনের ৭দিনে বিবাহ জায়িজ এবং দুনিয়ার যে কোন মজলিসে (যেখানে বিবাহ পড়ানো হয়) বিবাহ জায়িজ। বিবাহ জায়িজ হওয়ার দিক হতে মাস-দিন-মজলিস ব্যপক। তবে কেউ যদি ডিভিশন চায় রহমত-বরকত চায় তবে তার জন্য সাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদী করা সবচেয়ে খায়ের-বরকতের বিষয়।
১২ মাসের দিক দিয়ে এই মাসে বিবাহ করা সবচেয়ে বরকতের। যেমন মৃত্যুর দিক দিয়ে অনেকে মনে করে শুক্রুবার উত্তম। কিন্তু বুখারী (রহ:) হাদীস আনছেন সোমবারে মৃত্যু হওয়া উত্তম-বরকতময়। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে দুনিয়া হতে চলে যান। এই জন্য সোম বারের নাম হলো ‘পীড়’। কিন্তু সোমবারে বিবাহ হওয়া উত্তম নয়, বিবাহের উত্তম দিন হলো শুক্রুবার। বরকত হাসিলের জন্য ৭ দিনের মধ্যে শুক্রুবার হলো উত্তম। দুনিয়ার যে কোন মজলিসের মধ্যে মসজিদের মজলিস হলো সবচেয়ে উত্তম। তাই মসজিদের মজলিসে বিবাহ হওয়া বরকতময়-উত্তম।
তাহলে দেখা গেল যে কেউ যদি এই তিনটির ক.সাওয়াল মাস, খ.শুক্রুবার গ.মসজিদের মজলিস সম্বনয় করতে পারে তবে সে প্রথম ডিভিশন পেল। এর উপর আর কোন ডিগ্রি নেই। শরীয়াতের দৃষ্টিতে এইটি সর্বত্তম বরকত-রহমত-শান্তিশৃংখলা।
কেউ এই তিনটি এক সাথে পেল না দুটি পেল ক.সাওয়াল মাস, খ.মসজিদের মজলিস, তবে সে দ্বিতীয় ডিভিশন পেল। এতে সে সর্বত্তম না পেলেও খায়ের-বরকতের কোন একটির ভিতরে তো থাকবে। এই পাওয়া কম পাওয়া নয়
কেউ এই তিনটি দুটি পেল না একটি পেল ক.সাওয়াল মাস তবে সে তৃতীয় ডিভিশন পেল। এতেও সে সর্বত্তম না পেলেও খায়ের-বরকতের কোন একটির ভিতরে থাকবে।
যে বিয়ে-শাদী করলো তার অর্ধেক দ্বীন-দারী পূর্ণ হয়ে গেল।

বিবাহ-শাদীর প্রচলিত ভুলসমূহ
বিবাহ-শাদী মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যা মহান আল্লাতা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে বিশেষ নে’আমত হিসাবে দান করেছেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিবাহ-শাদী দুনিয়াবী কাজ বা মুবাহ মনে হলেও যথা নিয়মে সুন্নাত তরীকায় যদি তা সম্পাদন করা হয় তাহলে সেটা বরকতপূর্ণ ইবাদত ও অনেকে সওয়াবের কাজ হয়। এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দাম্পত্য জীবন সুখময় হয়। কিন্তু বর্তমান সমাজে বিবাহ-শাদী সুন্নত তরীকায় তো হয়ই না। উপরন্তু এটা বিভিন্ন ধরনের কুপ্রথা এবং বড় বড় অনেক গুনাহের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে পারিবারিক জীবনে অশান্তির ঝড় বয়ে চলছে। এজন্য নিম্নে বিবাহ-শাদী সম্পর্কিত কিছু ভুল এবং কুপ্রথা তুলে ধারা হল। যাতে এগুলো থেকে বাঁচা হয়।

বিবাহের পূর্বের ভুলসমূহ
 ১. বিবাহ শাদী যেহেতু ইবাদত, সুতরাং এখানে দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দিতে হবে। দুনিয়াদারগণ সৌন্দয, মাল, দৌলত ও খান্দানকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এটা রাসূলের সুন্নাতের বিপরিত হওয়ায় শান্তি বয়ে আনে না।  

২. কোন কোন জায়গায় অভিভাবক এবং সাক্ষী ছাড়া শুধু বর কনের পারস্পরের সন্তুষ্টিতেই বিবাহেরর প্রচলন আছে। অথচ এভাবে বিবাহ বিশুদ্ধ হয় না। বরং এট যিনা-ব্যভিচার বলে গণ্য হবে। সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও যদি মেয়ে পক্ষের অভিভাকের সম্মতি না থাকে, আর ছেলে সে মেয়ের “কুফু” তথা দ্বীনদারী মালদারী ও পেশাগত দিক থেকে সামঞ্জস্যশীল না হয় তাহলে বিবাহও শুদ্ধ হয় না।

৩. কেউ কেউ ধারণা করে যে মাসিক চলাকালীন সময় বিবাহ শুদ্ধ হয় না। অথচ এ অবস্থায়ও বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। অবশ্য এ অবস্থায় সহবাস জায়িয নেই।

৪. কেউ কেউ ধারণা করে যে মুরীদনীর সাথে পীর সাহেবের বিবাহ জায়িয নেই। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ সকলেই তাঁর মুরদনী ছিলেন।

৫. অনেকে অনেক বয়স হওয়ার পরও বিবাহ করে না কিংবা প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বা সে মৃত্যু বরণ করার পর আর ২য় বিবাহ করে না। অথচ শারীরিক বিবেচনায় তার বিবাহ করা জরুরী ছিল। এ অবস্থায় থাকা মানে যিনা-ব্যভিচারে জড়িত হওয়ার রাস্তা খুলে দেয়া।

৬. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় (উদাহরণ স্বরুপ) ৬০ বছরের বয়স্ক লোক অল্প বয়সী যুবতী মেয়েকে বিবাহ করে বসে। ফলে ঐ মেয়ে নিশ্চিত জুলুমের শিকার হয়।

৭. অনেকে স্ত্রীর খেদমতে অক্ষম হওয়া সত্ত্বেও দুর্বলতা লুকিয়ে লোক দেখানোর জন্য বিয়ে করে স্ত্রীর জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। এটা মারাত্নক গুনাহের কাজ।

৮. কোন কোন আধুনিক শিক্ষিত লোক আধুনিক শিক্ষা তথা ডাক্তারী প্রফেসারী ইত্যাদি ডিগ্রি দেখে মেয়ে বিয়ে করে। তাদের ভাবা উচিত বিয়ের দ্বারা উদ্দেশ্য কী? যদি তার স্ত্রীর দ্বারা টাকা কামানো উদ্দেশ্য হয় তাহলে এটা তো বড় লজ্জা জনক কথা যে, পুরুষ হয়ে মহিলাদের কামাইয়ের আশায় বসে থাকবে। মনে রাখতে হবে এধরণের পরিবারে শান্তি আসে না।

৯. কেউ কেউ পালক পুত্রের তালাক দেয়া স্ত্রী বিবাহ করাকে না জায়িয মনে করে। এটা জাহিলী যুগের বদ্‌রসম।

১০. কেউ কেউ বিধবা মহিলাদের বিবাহ করাকে অপছন্দ করে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ স্ত্রী বিধবা ছিলেন। (বুখারী হাঃ নং ৫০৭৭) 
বিবাহের সময়ের ভুলসমূহ
বর পক্ষের ভুলসমূহ
১. বিবাহ শাদী যেহেতু ইবাদত, সুতরাং বিবাহকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার গুনাহ না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে খায়ের বরকত লাভ হবে। যদি বিবাহকে গুনাহ মুক্ত করা না যায় তাহলে সেখানে অশান্তি হওয়া নিশ্চিত।
২. প্রথাগতভাবে অনেক লোকের বর যাত্রী হিসেবে যাওয়া।
৩. দাওয়াতকৃত সংখ্যার অধিক লোক নিয়ে যাওয়া।
৪. লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কন্যার জন্য যৌতুক পাঠানো এবং এটাকে জরুরী মনে করা।
৫. গায়ের মাহরাম পুরুষ দ্বারা মেয়ের ইজন বা অনুমতি আনা।
৬. বেগানা পুরুষদের কন্যার মুখ দেখা এবং দেখানো।
৭. নাচ-গান, বাজনা ইত্যাদি করা।
৮. সালামী গ্রহণ করা।
৯. মহরানা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পূবেই না করা, বরং করাকে দোষ মনে করা। অতঃপর বিবাহের সময় তর্ক-বিতর্ক করা।
১০. লোক দেখানোর জন্য বা গর্বের সাথে অলীমা করা।
১১. মহরানর বিষয়ে গুরুত্ব না দেয়া এবং মহরানা আদায়ে গাফলতী করা।
১২. ইচ্ছাকৃত এমন কর্মকান্ড করা যে কারণে কোন পক্ষের অদূরদর্শীতা প্রমাণিত হয় অথবা তাদের অস্থীরতার কারণ হয়। আর নিজেদের সুনাম প্রকাশ পায়।
১৩. বিবাহ অনুষ্ঠানের কারণে ফরয ওয়াজিবসহ শরীয়তের বিধানের ব্যাপারে উদাসীনতা এবং অনীহা প্রকাশ করা।

কন্যা পক্ষের ভুলসমূহ
১. বর যাত্রার চাহিদা।
২. ছেলের জন্য উপঢৌকন/যৌতুক প্রকাশ্যে পাঠানো, পাঠানোকে পছন্দ করা এবং জরুরী মনে করা।
৩. আত্নীয়-স্বজন মহল্লাবাসীদের জন্য প্রথাগত দাওয়াত এবং খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা।
৪. বিবাহের সরঞ্জাম, অলংকারাদী প্রকাশ্যে দেখা এবং অন্যদেরকে দেখানো।
৫. বিবাহের পর রসম হিসাবে জামাতাকে শরবত পান করানো।
৬. বেগানা মহিলারা জামাতার সামনে আসা।
৭. সালামী গ্রহণ করা। এটাকে জরুরী মনে করা এবং নেয়া দেয়া।
৮. যাতে মহল্লায় খুব প্রসিদ্ধ হয় সে জন্যে ইচ্ছাকৃত কোন কিছু করা।
৯. ফরয-ওয়াজিব ইত্যাদি বিষয়ে উদাসীন হওয়া। এছাড়াও বিবাহ উপলক্ষে অনেক বেপর্দা, যুবক যুবতীদের অবাধ মেলা-মেশা, অপব্যায়, ছবি এবং ভিডিও ইত্যাদি করা হয়, যাতে বিবাহের সকল খায়ের বরকত নষ্ট হয়ে যায়।

বিবাহের কিছু কুপ্রথা

১. মেয়ের ইযিন আনার জন্য ছেলেপক্ষ স্বাক্ষী পাঠিয়ে থাকে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর কোন প্রয়োজন নেই।

২. বিবাহের সময় অনেকে বর-কনের দ্বারা তিনবার করে ইজাব কবূল পাঠ করিয়ে থাকে এবং পরে তাদের দ্বারা আমীন বলানো হয়। শরীয়তে এর কোন ভিত্তি নেই।

৩. ঈজাব কবূলের মাধ্যমে আকদ সম্পাদন হওয়ার পর মজলিসে উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে সামনে দাঁড়িয়ে হাত উঠিয়ে বর যে সালাম করে থাকে তারও কোন ভিত্তি নেই।

৪. ঝগড়া-ফাসাদের আশংকা থাকা সত্ত্বেও খেজুর ছিটানোকে জরুরী মনে করা হয়। অথচ এ সম্পর্কিত হাদীসকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম যঈফ বলেছেন।
বিবাহ শাদীর আরো কতিপয় কুসংস্কার

১. অনেক জায়গায় বিবাহ রওয়ানা হওয়ার আগে এলাকার প্রসিদ্ধ মাযার যিয়ারত করে তারপর রওয়ানা হয়। শরীয়তে এর কোন ভিত্তি নেই।

২. বরের নিকট কনে পক্ষের লোকেরা হাত ধোয়ানোর টাকা, পান পাত্রের পানের সাথে টাকা দিয়ে তার থেকে কয়েকগুণ বেশী টাকা জোর জবরদস্তী করে আদায় করে থাকা। এটা না জায়িয।

৩. অনেক জায়গায় গেট সাজিয়ে সেখানে বরকে আটকে দেয়া হয় এবং টাকা না দেয়া পর্যন্ত ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। এটাও একটা গর্হিত কাজ।

৪. খাওয়া-দাওয়া শেষে কনে পক্ষের লোকেরা বরের হাত ধোয়ায়। পরে হাত ধোয়ানো বাবদ টাকা দাবী করে। অনেক জায়গায় এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। এটা একেবারেই অনুচিত। মূলতঃ এসব হিন্দুয়ানী প্রথা। দীর্ঘ দিন যাবত হিন্দুদের সাথে বসবাস করার কারণে আমাদের মধ্যে এই কুসংস্কারগুলি অনুপ্রবেশ করেছে।
  
৫. বিবাহ পড়ানোর আগে বা পরে যৌতুকের বিভিন্ন জিনিস-পত্র প্রকাশ্য মজলিসে সকলের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এটাও অন্যায় ও নির্লজ্জতার কাজ।

৬. বিবাহের পরে নারী-পুরুষ সকলের সামনে কনের পিতা বা মাতা জামাই-মেয়ের হাত একসাথে করে তাদেরকে দু‘আ দেয়। কনের পিতা জামাইকে বলে “আমার মেয়েকে তোমার হাতে সঁপে দিলাম, তুমি এক দেখে শুনে রেখো” এর কোন ভিত্তি শরীয়তে নেই।

৭. বিবাহ করে আনার পর শ্বশুর বাড়ীতে নববধূকে বিভিন্ন কায়দায় বরণ করা হয়। কোথাও ধান, দরবা ঘাস, দুধের স্বর ইত্যাদি দিয়ে বরণ করা হয় এবং নববধূর চেহারা সলকে দেখানো হয়; এসবই হিন্দুয়ানী প্রথা। কোন মুসলমানের জন্য এসব করা জায়িয নেই।

৮. অনেক জায়গায় মেয়ের বিয়ের আগের দিন আর কোথাও মেয়ে শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার পরের দিন মেয়ের বাড়ী থেকে ছেলের বাড়ীতে মাছ-মিষ্টি ইত্যাদি পাঠানো হয়ে থাকে। কোথাও এটাকে চৌথি বলা হয়। এটাও বিজাতীয় নাজায়িয প্রথা।

৯. বর বা কনেকে কোলে করে গাড়ী বা পালকী থেকে নামিয়ে ঘরে তোলাও চরম অভদ্রতা বৈই কিছু নয়।

১০. ঈদের সময় বা অন্য কোন মৌসুমে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে চাল, আটা, ময়দা, পিঠা ইত্যাদি পাঠানো এবং এ প্রচলনকে জরুরী মনে করার প্রথা অনেক জায়গায় চালু আছে। আবার অনেক জায়গায় আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাইকে এবং তার ভাই-বোনদেরকে কাপড়-চোপড় দেয়ার প্রথা আছে। এমনকি এটাকে এতটাই জরুরী মনে করা হয় যে, ঋ করে হলেও তা দিতে হয়। এটা শরীয়তের সীমালংঘন ছাড়া আর কিছু নয়।

১১. আজকাল বিবাহ অনুষ্ঠানে বেগানা মহিলাদের সাজ-সজ্জা করে নিজেকে বিকশিত করে একত্রিত হতে দেখা যায় এবং যুবক যুবতীদের অবাধ মেলা-মেশা করতেও দেখা যায়। এধরনের বেপর্দা আর বেগায়াপনার কারণে উক্ত মজলিসে উপস্থিত নারী পুরুষ সকলেই গুনাহগার হবে।

১২. বিবাহ উপলক্ষে গান-বাজনা, ভিডিও, ভিসিআর ইত্যাদি মহামারী আকার ধারণ করেছ। আর কোন কোন এলাকায় তো যুবতী তরুণী মেয়েরা একত্রিত হয়ে নাচ গানও করে থাকে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এসব হারাম ও নাজায়িয।

১৩. আজকাল বিবাহ অনুষ্ঠান মানেই গুনাহের ছড়াছড়ি। এমন এমন গুনাহ সেখানে সংঘটিত হয় যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ছবি তোলা ও ভিডিও করা। শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন প্রাণীর ছবি তোলা চাই ক্যামেরার মাধ্যমে হোক কিংবা ভিডিও এর মাধ্যমে হোক বা অংকন করা হোক সবই হারাম।
১৪. বিবাহের পরে মেয়েকে উঠিয়ে দেয়ার আগ মুহূর্তে মেয়ের বাড়ীতে পাড়া-প্রতিবেশী মেয়েরা একত্রিত হয়, আর বরকে অন্দর মহলে এনে সকলে মিলে হৈ হল্লা করে তার মুখ দর্শন করে। মেয়েরা হাসি মজাক করে বিভিন্ন উপায়ে নতুন দুলাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে। এধরনের বেপর্দেগী শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

১৫. অনেক জায়গায় প্রথা চালু আছে যে, নববধূকে বর নিজে বা তার ভগ্নিপতি অথবা তার ছোট ভাই পালকী বা গাড়ী থেকে নামিয়ে কোলে করে ঘরে নেয়। তারপর উপস্থিত মহল্লাবাসীর সামনে নববধূর মুখ খুলে দেখানো হয়। এ সকল কাজ হারাম এবং না জায়েয।
  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।