Monday, 21 April 2014

জেনে নিন কোন নবী কোন দেশে এসেছিলেন।

জেনে নিন কোন নবী কোন দেশে এসেছিলেন।

১. আদম (আঃ) - শ্রীলংকা
২. নূহ (আঃ) - জর্ডান
৩. শোয়াইব (আঃ) -সিরিয়া ৪.
সালেহ (আঃ) - লেবানন
৫. ইব্রাহীম (আঃ) -ইরাক
৬. ইসমাঈল (আঃ) - সৌদি আরব
৭. ইয়াকুব (আঃ) - ফিলিস্তিন
৮. ইয়াহ ইয়া (আঃ) - ফিলিস্তিন
৯. জাকারিয়া (আঃ) -ফিলিস্তিন
১০. ইসহাক (আঃ) - ফিলিস্তিন
১১. ইউসুফ (আঃ) -ফিলিস্তিন
১২. লুত (আঃ) - জর্ডান+ইরাক
১৩. আইয়ুব (আঃ) -জর্ডান
১৪. হুদ (আঃ) - ইয়েমেন
১৫. মুহাম্মাদ (সঃ) - সৌদি আর

Tuesday, 15 April 2014

কোয়ান্টাম মেথড ঈমান বিধ্বংসী মতবাদ

আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করার জন্য মুরাকাবা বা ধ্যান ইসলামে একটি স্বীকৃত বিষয়। অন্য ধর্মের ধর্মগুরুরাও নিজ আত্মার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ধ্যান করে থাকে। হিন্দুদের যোগধ্যান ও বৌদ্ধদের বিপাসনধ্যান এর অন্যতম। তবে ইসলামের মুরাকাবা বা ধ্যান এবং অন্য ধর্মের পন্ডিতদের ধ্যানের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। কারণ ইসলামের মুরাকাবার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ করা, আর হিন্দু যোগী বা বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের ধ্যানের উদ্দেশ্য হলো, আত্মার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুনিয়াবী কিছু ফায়েদা হাসিল করা।

পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা মুরাকাবার মৌলিক বিষয়গুলোর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখতে পেলেন যে, ধ্যানের মাধ্যমে অন্তরে যে বিষয় গেঁথে দেওয়া হয়, সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্তরের বিশ্বাস অনুযায়ী সে বিষয়ে সাড়া দেয়। তারা ৬০/৭০ দশকে ধ্যানের উপর ব্যাপকভাবে গবেষণা করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, মানসিক ও শারিরীক উভয় রোগের নিরাময়ে ধ্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই প্রকারের ধ্যানকে তারা ‘মেডিটেশন’ বলে আখ্যায়িত করেন।বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই রোগ নিরাময়ের জন্য মেডিটেশন করার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের কোয়ান্টাম মেথড ব্যতিক্রমধর্মী মেডিটেশনের কথা বলছে। মেডিটেশনের উৎপত্তি হয়েছিল মানসিক ও শারিরীক রোগ মুক্তির লক্ষে অথচ কোয়ান্টাম মেথড রোগ নিরাময়ের গন্ডি থেকে বেরিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহব্বান জানাচ্ছে। রোগ নিরাময়ের বিশ্বাসের স্থানে তারা মুক্ত বিশ্বাস নামে বিভিন্ন ধরণের কুফরী আকীদার প্রচার শুরু করেছে।

কোয়ান্টাম মেথডের প্রধান গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতক প্রথমে জ্যোতিষী ছিলেন। তিনিই কোয়ান্টাম মেথডের ব্যতিক্রমধর্মী মেডিটেশনের উদ্ভাবক। তিনি মূলত এ জাতীয় মেডিটেশনের মূল আবিষ্কারক ডা. বেনসন বা ডা. ডীন অরশীন এর বাতলানো ফর্মুলা থেকে সূত্র গ্রহণ করে নিজের গবেষণালব্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন দর্শন যোগ করে কোয়ান্টাম এর এই বিশেষ মেডিটেশন আবিষ্কার করেন।

তার আবিষ্কৃত এই নতুন ধরণের মেডিটেশনের প্রতি সব ধর্মের মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষত হিন্দু ও বৌদ্ধদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন রীতি-নীতি, ও আকীদা বিশ্বাসের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। তাই কোয়ান্টাম মেথড পশ্চিমা দেশে প্রচলিত মেডিটেশন নয়। বরং এটি একটি জীবন ব্যবস্থা ও মতবাদ, যেখানে বিজ্ঞান ও সব ধর্মের মিশ্রণে জীবনের সর্বক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, ঠিক যেমনটি করেছিল বাদশা আকবার ভ্রান্ত দ্বীনে ইলাহী আবিষ্কার করে।


শহীদ বোখারীর এই প্রচেষ্টা শুরু হয় প্রায় তিন যুগ আগে ১৯৭৩ সালে তদানিন্তন ‘মাসিক ঢাকা ডাইজেস্ট’ পত্রিকায় অতন্দ্রীয় বিষয়ে লেখালেখির মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রায়’ এ বিষয়ে অনেকগুলো লেখা প্রকাশ করা হয়। ১৯৮০ সালে তারা ঢাকার শান্তি নগরে অফিস খোলে। ১৯৮৩ সালে এই মেডিটেশনকে ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে ছড়ানোর জন্য ‘যোগ্য মেডিটেশন কেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়। ১৯৮৬ সালে এই কেন্দ্র ‘যোগ্য ফাউন্ডেশন’ নামে পরিচালিত হয়।


এদিকে মহাজাতক মানুষের মধ্যে পরিচিতির জন্য এই মেডিটেশন সম্পর্কে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে লিখতে থাকেন। এভাবে লেখালেখির এক পর্যায়ে যখন তিনি গণমানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে আগ্রহ লক্ষ করলেন তখন মেডিটেশন কোর্স চালু করা হয়। ১৯৯৩ এর ৭ জানুয়ারী মেডিটেশন এর সর্বপ্রথম কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কোয়ান্টাম মেথড নামে এরা মেডিটেশন কোর্স চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তারা ৩০০ এর অধিক কোর্স সমাপ্ত করেছে। মানুষ তার কাছে যায় রোগ নিরাময়ের আশায়, কিন্তু তিনি নিরাময়ের নামে তাদের বাদশাহ আকবরের দ্বীনে ইলাহীর মত সর্বধর্মের সমন্নয়ে গঠিত নতুন এক মতবাদ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, আর অবুঝ মুসলমানদের ঈমান হরণ করছেন। (তথ্যসূত্র, মাসিক আল-আবরার ফেব্রুয়ারী ২০১২)

আমাদের দেশের মুসলমানরা ধর্ম সম্পর্কে যতটা আবেগী ততটা জ্ঞানী নয়। ধর্ম সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানও রাখে না এই ধরণের মুসলমানের সংখ্যাও কম নয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জ্ঞানের দৈন্যতাকে পুজি করে যুগে যুগে অনেকেই মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ধবংস করার চেষ্টা করেছে। বর্তমান কোয়ান্টাম মেথড সেই একই পথ অবলম্বন করে খুব কৌশলে মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ধবংস করে যাচ্ছে। নিম্নে আমরা কোয়ান্টাম এর এমন কিছু মতবাদ তুলে ধরছি, যা বিশ্বাস করলে মুসলমানদের ঈমানই নষ্ট হয়ে যাবে।

১. ইসলাম কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো কিছু আকীদা-বিশ্বাস ও আমলের। তবে কেউ যদি ঈমান-আকীদা ঠিক রাখে আর আমল নাও করে, তবু সে একদিন না একদিন জান্নাতে যাবে। কিন্তু ঈমান-আকীদার মধ্যে যদি গলদ থাকে, তাহলে সারা জীবন নেক আমল করলেও জান্নাতে যাওয়া যাবে না। কোয়ান্টাম মেথড মুসলমানদের অমূল্যধন ঈমান  ধবংস করার পায়তারা চালাচ্ছে। কোয়ান্টাম মেথডের কোর্সে ভর্তির পর সর্ব প্রথম একটি প্রত্যয়ন পাঠ করা হয়, এই প্রত্যয়নই তাদের মূল চালিকা শক্তি। প্রত্যয়নটি এই, ‘ অসীম শক্তির অধিকারী আমার মন, যা চাই তাই পাবো যা খুশি তাই নেব’ তাদের এই প্রত্যয়নটি সম্পূর্ণরূপে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী। কেননা কুরআনের অনেক আয়াত আর অনেক হাদীস দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই অসীম শক্তির অধিকারী। তিনি ছাড়া আসমান-যমীনে যা কিছু আছে সবকিছুর শক্তিই স্বসীম। অতএব মানুষের মনকে অসীম শক্তির অধিকারী বলা স্পষ্ট কুফরী কথা। তাছাড়া ‘যা চাই তাই পাবো’ এই বিশ্বাসে আল্লাহর উপর ভরসার হুকুম স্পষ্টভাবে লংঘন করা হয়েছে। কুরআন শরীফে আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদেরকে যেকোনো কাজে আল্লাহর উপর ভরসা করতে বলেছেন। যেমনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ অতঃপর আপনি যখন কোনো কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আল ইমরানঃ১৫৯, আরো দ্রষ্টব্য, সূরা তাওবাঃ৫১, সূরা তাগাবুনঃ১৩, সূরা ইউসুফঃ৬৭, সূরা আল ফুরকানঃ৫৮ ইত্যাদি) অথচ কোয়ান্টামের এই কথা ‘যা চাই তাই পাবো’ এর মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হ্যাঁ তারা যদি কথাটা এভাবে বলত, ‘যা চাই তাই পাবো যদি আল্লাহ চান’ তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না।


২. ‘যা চাই তাই পাবো’ এখন প্রশ্ন হলো দিবে কে? এই প্রশ্নের জবাব কোয়ান্টাম কণিকা ২৩৯ পৃ. দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোয়ান্টামের মতে আল্লাহ/গড/ ভগবান/ প্রকৃতি যে কেউ দাতা হতে পারে।’ অথচ কুরআন সুন্নাহর আলোকে প্রকৃত দাতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। গড/প্রকৃতি/ভগবান এসবকে দাতা মানার অর্থই হলো আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্যকে শরীক করা। আর শিরক দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। অতএব কোয়ান্টামের এই মতবাদ সম্পূর্ণ ঈমান বিধবংসী মতবাদ।

তাছাড়া ‘যা চাই তাই পাবো’ একথা সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ চাওয়ার সাথে পাওয়ার শতভাগ সংযোগ হবে জান্নাতে। এই পৃথিবীতে শতভাগ চাওয়া পাওয়ায় পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন ‘মানুষ যা চায় তাই কি পায়?’ (সূরা আন নাজাম ২৪) যদি পৃথিবীতেই মানুষের শতভাগ চাওয়া পাওয়ায় রূপান্তরিত হত, তাহলে তো পৃথিবীই জান্নাত হয়ে যেত। মানুষের শতভাগ চাওয়া তথা আশা-আকাক্ষা শুধুমাত্র জান্নাতেই পুরা করা হবে, এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমরা সেখানে যা চাবে তাই পাবে’ (সূরা হামীম সেজদাঃ৩১)


৩. কোয়ান্টামের মতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইসলাম মোটকথা সব ধর্মের মৌলিক শিক্ষাই এক। কাজেই যেকোনো ধর্ম পালনই যথেষ্ট। কোয়ান্টামের মতে সকল ধর্মই গ্রহণযোগ্য। (কোয়ান্টাম উচ্ছাস পৃ.৯)

ইসলামে পূর্বের সকল নবী-রাসূল ও আসমানী গ্রন্থসমূহকে স্বীকৃতী প্রদান করা হয়েছে। এই স্বীকৃতীর অর্থ এই নয় যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পরও যদি কেউ নিজ ধর্ম অনুযায়ী আমল করে, তাহলে সে মুক্তি পেয়ে যাবে। বরং এই স্বীকৃতী অর্থ এই যে, পূর্বের নবী-রাসূলগণ বাস্তবেই সত্য নবী-রাসূল ছিলেন এবং তাদের যমানায় তাদের কিতাবও সত্য ছিল। কিন্তু কুরআন অবতীর্ণ হওয়ায় পূর্বের সমস্থ আসমানী কিতাব রহিত হয়ে গেছে। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট ভাষায় কুরআনে বলে দিয়েছেন ‘যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পালন করবে কস্মিনকালেও তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না, আর আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্তভুক্ত হবে। (সূরা আল ইমরানঃ৮৫)

যেখানে কুরআনে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হলো, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পরকালীন মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়, সেখানে কোয়ান্টাম মেথড কীভাবে অন্য ধর্মকেও গ্রহণযোগ্যতার সনদ দিতে পারে? কোয়ান্টামের কী অধিকার আছে যে সে অন্য ধর্মকে গ্রহণযোগ্যতার সনদ দিবে? একই সময়ে একাধিক ধর্মকে গ্রহণযোগ্য বলা যুক্তি বিরুদ্ধ কথাও বটে। কেননা ধর্ম হলো মানুষের জীবনযাপনের আসমানী সংবিধান। একই দেশে একই সময়ে একাধিক সংবিধান যেমন কার্যকর নয়, তেমনিভাবে আল্লাহর এই পৃথিবীতে একই সময়ে একাধিক ধর্ম বা সংবিধান কার্যকর হওয়া বা গ্রহণযোগ্য হওয়া সম্ভব নয়। ইসলাম যেহেতু সর্বশেষ আসমানী সংবিধান তথা আল কুরআন নিয়ে এসেছে, তাই কুরআন নাযিল হওয়ার পর অন্যসব সংবিধান তথা ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থ রহিত ও অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে। এটাই হলো যুক্তির দাবি।


কোয়ান্টাম মেথড অন্য ধর্মকে গ্রহণযোগ্য বলে নিজের ঈমান যেমন ধ্বংস করেছে, তেমনিভাবে অন্য মুসলমানদেরকে এই মতবাদে দীক্ষিত করে অন্যদের ঈমানও নষ্ট করে যাচ্ছে।


৪. কোয়ান্টামের উদ্ভাবিত জীবনদৃষ্টির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘কোয়ান্টাম হচ্ছে সেই সায়েন্স অব লিভিং যা বলে দেয় জীবনটাকে কীভাবে সুন্দর করা যায়। ভুল থেকে কীভাবে দূরে থাকা যায়। পাপ কত কম করা যায়। ভাল বা কল্যাণ কত বেশি করা যায়। কোয়ান্টামের শিক্ষা এ ক্ষেত্রে নবী-রাসূলদের যে শিক্ষা, ওলী-বুযুর্গদের যে শিক্ষা, মুনি-ঋষিদের যে শিক্ষা, তা থেকে আলাদা কিছু নয়। হাজার বছর ধরে তারা যে শিক্ষা দিয়ে এসেছেন, কোয়ান্টাম সে কথাগুলোই বলছে। শুধু ভাষাটা আধুনিক। (হাজারো প্রশ্নের জবাব, মহাজাতক ১/৩০১)
এখানে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করা হলো যে, কোয়ান্টামের শিক্ষা হলো, নবী-রাসূলদের তাওহীদী বাণী ও মুনি-ঋষিদের কুফরী মতবাদের সমন্নিত একটি রূপ। অতএব সাবধান হে মুসলিম ভাই!কোয়ান্টামে দীক্ষা লাভ করে নিজের ঈমান খোয়াবেন না।
নবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনিত জীবন ব্যবস্থার উপর সন্তুষ্ট হতে না পারা কোয়ান্টামের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। নিজের বুদ্ধিমতে সকল ধর্মের নির্যাস আর বিজ্ঞানের থিউরি মিশ্রণে সফলতার সূত্র আবিষ্কার সবচেয়ে বড় ভুল। মুমিন-মুসলমান হতে হলে সর্বাবস্থায় কুরআন সুন্নাহর মাঝে নিজের সকল সমস্যার সমাধান, সকল প্রশ্নের উত্তর আর সকল চাহিদা পূরণের দিকনির্দেশনা খুঁজে পাওয়ার বিশ্বাস রাখতে হবে। কুরআন-সুন্নাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থায় তুষ্ট থাকতে হবে এবং মনে-প্রাণে তার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণে নিজেকে সঁপে দিতে হবে।  বিধাতা হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার উপর আস্থাশীল হতে হবে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শকে একমাত্র পালনীয় বিশ্বাস করতে হবে। কোয়ান্টামের আবিস্কৃত জীবন-যাপনের বিজ্ঞানের অনুসরণ করা যাবে না। যার ভিত্তি রাখা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত জীবনের সংজ্ঞা আর রুশ দার্শনিক লিওটলস্টয় এর কিছু মন্তব্যের উপর। মুসলমানদেরকে ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান বা তাদের স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী  জীবন যাপনের বিজ্ঞান পালন করতে হবে কেন? মুসলমানদের জন্য ইসলামের বিধি-বিধান ও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শই কি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থারূপে যথেষ্ট নয়। যারা ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা মানবে না, তারা কুরআনের স্পষ্ট আয়াত ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম পরিপূর্ণ করে দিলাম। (সূরা মায়িদাঃ৩) অস্বীকার করায় কাফের হয়ে যাবে।
কোয়ান্টাম মেথড নতুন জীবনদৃষ্টির কথা বলে মূলত ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা অস্বীকার করছে। তাই যারা না বুঝে ইতিমধ্যে কোয়ান্টামে ঢুকে পড়েছেন অথবা যারা এখন ঢুকতে চাচ্ছেন তারা এখনই সর্তক হোন, তাওবা করে সঠিক ইসলামের পথে ফিরে আসুন এবং পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলাম ধর্ম মেনে চলুন। চৌদ্দশত বছর আগেই আল্লাহ তা‘আলা আপনার সব সমস্যার সমাধান কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে দিয়ে রেখেছেন। অতএব অন্য কোনো দিকে না যেয়ে আপনার ধর্ম ইসলামকে আঁকড়ে ধরুন। যারা পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলাম ধর্ম মেনে চলবে তাদের জন্য আখেরাতে চির শান্তির জীবন তো অপেক্ষা করছেই, দুনিয়াতেও আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য প্রশান্তিময় জীবনের ওয়াদা করেছেন। তাই আসুন আমরা কোয়ান্টামসহ অন্যান্য সব বাতিলকে পরিত্যাগ করি এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে চর্চা করি।  আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সাবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

Thursday, 10 April 2014

তাবলীগ জামা‘আত কি হক ? যদি হক হয়ে থাকে তাহলে কিছু সংখ্যক আলেম এর বিরোধিতা করেন কেন ?

প্রশ্ন-: তাবলীগ জামা‘আত কি হক ?  যদি হক হয়ে থাকে তাহলে কিছু সংখ্যক আলেম এর বিরোধিতা  করেন কেন ?

উত্তর : নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চিন্তা ধারা এই ছিল যে,  প্রত্যেকটি মানূষেব সম্পর্ক আল্লাহ তা’আলার সাথে হয়ে যাক এবং প্রত্যেকটি লোক জাহান্নাম থেকে বেঁচে জান্নাতবাসী হয়ে যাক। এভাবে সমস্ত দুনিয়াতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাক । প্রচলিত তাবলীগী জামা’আত (যার মধ্যে সকল হক্কানী উলামায়ে কিরাম শামিল আছেন) যেহেতূ এ ফিকির নিয়ে নিজের খরচে মানুষের ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং এটাকে না হক বলা নিজের মুর্খতা জাহির করা ছাড়া আর কিছুই নয় । তবে নগন্য সংখ্যক আলেম যারা এ বিরোধিতা করেন, তারা সম্ভবতঃ তাবলীগী জামা‘আতকে গভীরভাবে দেখার সুযোগ পাননি বা কিছু ইলমবিহীন তাবলীগী ভাইদের আচার-ব্যবহারে বা কোন বিষয়ে বাড়াবাড়ির কারণে উল্টা বূঝে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করে থাকবেন । তবে উভয়টা তাদেরই দুর্বলতা। কারণ, কোন ব্যাপারে যখন তারা মুখ খুলতে চান, তখন তাদেরই উচিৎ-নিজের পণ্ডিত্যের উপর নির্ভর না করে জিনিসটি ভালভাবে যাচাই করা।  প্রয়োজনে নিজের বড় ও প্রবীণগণের স্মরণাপন্ন হয়ে বা  উক্ত জামা’আতের সাথে কিছু সময়  দিয়ে মেহনতটা বুঝতে চেষ্টা করা। শুধু নিজের পুঁজি দিয়ে সকল ক্ষেত্রে সবকিছু সমাধান দেয়া সম্ভব না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে  “তোমাদেরকে যে ইলম ও জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তা খুবই নগণ্য। [সূরা বনী ইসরাইল, ৮৫]

দ্বিতীয় ব্যপারে কথা হচেছ-তাবলীগের বে-ইলম সাথীদের সাথে কোন কথা বা কাজকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা আলেমের শান নয়। তিনি তো দেখবেন ঐ সকল বুজুর্গগণের কাজ বা কথাকে  যারা এ কাজকে প্রচলিত পদ্ধতিতে চালু করেছেন। তারা কেমন ধরনের বুজুর্গ ছিলেন।  তাদের ইলমের উপর তাদের সমসাময়িক  ওলামাগণ নির্ভর করতেন কি না? তারা বিশ্বস্ত ছিলেন কি না?  তাদের বয়ান, তাকরীর ও মালফুযাতে কোন আপত্তিকর কথা আছে কি না? এসব দেখে একজন আলেম সিদ্ধান্তে পৌছাবেন। তাবলীগী জামা’আতের কোন আমীর ও জিম্মাদার মূলনীতির খিলাফ করলে, তার ভুলের সমালোচনা না করে বরং তা শুধরিয়ে দিবেন । এটাই উলামায়ে কিরামে দায়িত্ব। কূরআন এ নির্দেশই  দেয় যে, “তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারে একে অপরের সহযোগিতা কর।’ (সুরাহ মায়িদা-২) 

তাবলীগ জামা‘আতের লোকেরা মসজিদে থাকে, খায়, ঘুমায় । শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা জায়িয কিনা ?

প্রশ্ন-:  তাবলীগ জামা‘আতের লোকেরা  মসজিদে থাকে, খায়, ঘুমায় । শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা জায়িয কিনা ?

উত্তরঃ ইমাম বুখারী (রহঃ) স্বীয় বুখারী শরীফে মসজিদে শয়ন সম্পর্কে স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সূচনা করেছেন । সেখানে তিনি অস্থায়ীভাবে মসজিদে থাকা জায়িয প্রমাণিত করেছেন ।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) যুবক বয়সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মসজিদে শয়ন করতেন । তখন তার স্ত্রী ছিল না অর্থাৎ তিনি তখন অবিবাহিত ছিলেন । (বুখারী শরীফ, ১ :৬৩) ।  হযরত সাহল বিন সা‘আদ (রাঃ)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ফাতেমা (রাঃ)-এর নিকট উপস্হিত হয়ে হযরত আলীর (রাঃ) কথা জিজ্ঞাসা করেন। হযরত ফাতেমা (রাঃ) বললেনঃ তিনি কোন কারণে নারাজ হয়ে কোথাও চলে গেছেন । এ কথা শুনে তাকে তালাশ করার জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোক পাঠালেন । তালাশ করার পর লোকটি এসে বলল: তিনি মসজিদে ঘুমিয়ে রয়েছেন। এ সংবাদ পেয়ে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে গমন করলেন দেখলেন! হযরত আলী (রাঃ) নিদ্রায় বিমগ্ন এবং তাঁর গায়ের চাদর সরে গিয়ে তাঁর গায়ে ধুলোবালি লেগে গিয়েছে । তাঁকে জাগ্রত করতে গিয়ে নবী করাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ওহে আবু তুরাব (মাটি মাখা) উঠো।” (বুখারী শরীফ, ১ : ৬৩৩) এমনিভাবে এ সম্পর্কে অনেক হাদীস বিদ্যমান আছে।

এছাড়া তাবলীগ জামা‘আতের লোকেরা অনেকে মুসাফির থাকে, তাছাড়া তারা মসজিদে প্রবেশ করেই ইতিকাফের নিয়্যত করে থাকেন । আর মুসাফিরের জন্য  বা ইতিকাফের নিয়্যত করার পরে মসজিদে থাকা, খাওয়া ও শোয়াতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন অসুবিধা নেই । তদুপরি সর্বত্র দ্বীনের প্রচার-প্রসারে ও দা‘ওয়াতের মহান জিম্মাদারী আদায়ের জন্য মসজিদই উপযুক্ত স্থান। তাবলীগের জন্য এর বিকল্প নেই। তবে কোন মসজিদ কর্তৃপক্ষ যদি তাবলীগ জামা’আতের লোকদের জন্য  মসজিদ-এর আশে পাশে মসজিদ আবাদ করারই অঙ্গ সরূপ ভিন্ন কামরা নির্মাণ করে দেন; তা খুবই উত্তম।


অজ্ঞতা প্রসূত অনর্থক অজুহাত খাঁড়া করে তাবলীগী জামা‘আতকে নিন্দা বা অপদস্ত করা মারাত্মক অপরাধ। কারণ দ্বীন শিক্ষা করা বা দ্বীনের পূর্ণতা অর্জনের লক্ষে  নিজের খরচে নিঃস্বার্থভাবে দ্বীনের দাওয়াতের ইখলাসপূর্ণ মেহনতে–তাবলীগী জামা‘আত একটি হক্কানী সহীহ জামা‘আত। এ ব্যাপারে সমগ্র পৃথিবীর উলামাগণ একমত। এর কার্যক্রম ও ব্যবস্হাপনা হক্কানী উলামা-মাশায়িখের পরামর্শ অনূযায়ীই হয়ে থাকে। বর্তমান যামানায় সাধারণ লোকদের দ্বীন ও ঈমান শিক্ষার জন্য তাবলীগী জামা‘আতের মেহনত খুবই মুবারক ও উপকারী। এ মেহনতের উসীলায় বহু পথভোলা মানুষ সহীহ পথের সন্ধান পেয়ে দ্বীনদার হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন এবং করছেন । তাই দ্বীনের এ মেহনতে অংশ নিতে না পারলেও অন্ততঃ এর সমর্থন ও সম্ভাব্য সহযোগিতা করা প্রত্যেক মুসলমানের দ্বীনী  দায়িত্ব।

কিন্তু তাবলীগের লোকেরা শুধু সৎ কাজের আদেশ দেয়

  প্রশ্ন :
   শরীয়তের দৃষ্টিতে “নাহী আনিল মুনকার” অর্থাৎ ! অসৎ কাজে বাধা প্রদান ফরজে কিফায়া এবং গুরুত্বপুর্ণ ইবাদত । কিন্তু তাবলীগের লোকেরা শুধু সৎ কাজের আদেশ দেয় । কখনও নাহী আনিল মুনকারের ব্যাপারে কিছু বলেন না বা বাতিলের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ, প্রতিরোধ বা জিহাদ কোনটাই শরীক হন না । তাদের এরূপ করা কি ঠিক?



উত্তরঃ  “ তাবলীগের লোকেরা নাহী আনিল মুনকার তথা অসৎ কাজের নিষেধ করেন না ” এ কথাটি ঠিক নয় । কারণ, অনেক ক্ষেত্রে সৎ কাজের আদেশের মাধ্যমে অসৎ কাজের নিষেধও হয়ে যায় । যেমনঃ তারা নামায পড়ার জন্য মানুষকে দা‘ওয়াত দেন , উৎসাহ প্রদান করেন । যার ফলে বহু লোক নামাযী হয়ে যায় । এখন তাদের এই দা‘ওয়াতের মাধ্যমে নামায না পড়া যে  “মুনকার” বা অন্যয় কাজ ছিল, হেকমতের সাথে সেই মুনকারের বাঁধা দেয়া হয়ে যায় । কোন প্রতিবাদ বা সংঘর্ষের প্রয়োজন হয় না । এই পদ্ধতিতে তারা অসংখ্য “নাহী আনিল মুনকার” করে থাকেন । এখন বাকী রইল এমন কতগুলো  মুনকার-যা তাবলীগের দ্বারা তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করা যায় না অথচ সেটারও প্রতিবাদ-প্রতিরোধ মুসলমানদের জন্য ফরজে কিফায়া ।


তবে একথা ঠিক, তাবলীগের মাধ্যমে এই ফরজে কিফায়াটা করা সম্ভব হবে না । কারণ হল, এটা যেহেতু ফরজে  কিফায়া, তাই তা সকলের জন্য করা জরুরী নয় । আর শুধু এক তাবলীগ পক্ষ থেকে সব ধরনের কাজ করাও সম্ভব নয় । মুসলমানদের রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক যে কোন জামা‘আতের পক্ষ থেকে এটা করা যায় । তাতে সকলেই ফরজে কিফায়ার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যায় । যেমনঃ মুরতাদ সালমান রুশদী, ডঃ আহমদ শরীফ ও তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মুসলমানরা প্রতিবাদ করেছে এবং করছে ।

তাবলীগের মেহনতটা বিশ্বজুড়ে একটা নীরব আন্দোলন। এই আন্দোলন বাস্তবায়িত হলে, সে দিন মুসলমানদের মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । বিভিন্ন হেকমতের  কারণে কিছু “নাহী আনিল মুনকার” তাবলীগের নামে করা সত্যই মুশকিল । তাতে ফরজে কিফায়া করতে গিয়ে তাদের অনেক জরুরী কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যেতে পারে । এই মজবুরীর কারণে তাবলীগের নামে এ জাতীয় খিদমত আঞ্জাম দেয়া যায় না।  এ জন্য হযরত শাইখ যাকারিয়া (রহঃ) তাবলীগী জিম্মাদারদেরকে বলেতেন, তারা যেন সমাজের  মুনকারাতের (অন্যায়-অপকর্মের) ব্যাপারে মাথা না ঘামান। বরং তারা যে কাজ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন, সেই কাজ নিয়েই যেন চলতে থাকেন । অতঃপর তিনি হযরত থানবী (রহঃ)-এর উদ্বৃতি দিয়ে বলেন যে. হযরত থানবী (রহঃ) বলতেন : (বিশ্বব্যাপী কাজের স্বার্থে) তারা যখন মুনকারাতের ব্যাপারে প্রতিবাদ না করার উসূল বানিয়েছেন, তো তাদের সেই  উসূলের উপর থাকা উচিৎ।  (মালফুজাতে শাইখ (রহঃ)- ২৮)


বাস্তবিকপক্ষে অনেক সময় এমন ঘটে যে, অনেক কাজ এক সাথে করতে গেলে কোনটাই সুন্দরভাবে সম্ভব হয় না। বরং সবটাই অসুন্দর হয়ে যায় , বা  সম্পূর্ণটা বাধাগ্রস্ত হয়ে  পড়ে । এর কারণে শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে বিশেষ বিশেষ সাবজেক্টের ভিত্তিতে বড় বড় মাদ্রাসা কলেজ ভার্সিটিগুলোকে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। এক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবগুলো সাবজেক্ট রাখা হয় না । (এটা শুধু উদহারণ স্বরূপ বলা হল ।)

উম্মতে মুহাম্মাদী

“হে (উম্মতে মুহাম্মাদী) মুমিনগণ! ‘তোমরা অন্যান্য সকল উম্মত থেকে উৎকৃষ্ট- এমন এক জামা’আত, যে জামা’আতকে সকল মানুষের কল্যাণের জন্য পাঠানো হয়েছে । (তোমাদের কল্যাণ সাধনের পদ্ধতি এই হবে যে,) তোমরা নেক কাজের হুকুম করতে থাকবে এবং শরীয়ত বিরোধী কাজ থেকে বাধা প্রদান করতে থাকবে । আর (এভাবে) তোমরা নিজেদের ঈমান মজবুত করতে প্রয়াসী হবে।’ (সূরাহ আল-ইমরান-১১০)

বেপর্দা

বেপর্দা চললে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাফরমানী বা অবাধ্যতা করা হয়। বেপর্দার দ্বারা কবীরা গুনাহের ভাগী এবং ইবলীস শয়তানের অনুসারী সাব্যস্ত হয়। পর্দাহীনতা দ্বারা মানুষ অভিশপ্ত হয় এবং আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হয়। পর্দাহীনতা জাহান্নামের পথ। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী পর্দাহীনতা সমাজে অশ্লীলতা, চারিত্রিক অবক্ষয় ও পশুত্বের খাসলত জন্ম দেয়। নারীদের বেপর্দা চলা ও দেহ প্রদর্শন পুরুষদেরকে অবৈধ ও অশ্লীল কাজের প্রতি উত্তেজিত করে তোলে। ফলে যিনা-ব্যভিচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন ইত্যাকার অপরাধ বৃদ্ধি পায়।

Wednesday, 2 April 2014

আযানের দূ’আ

আযানের শেষে প্রথমে দরূদ শরীফ পড়ে এ দূ’আ পড়বে-
اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلوة القائمة ات سيدنا محمدن الوسيلة والفضلة وابعثه مقاما محمودان الذى وعدته انك لا تخلف الميعاد-
অর্থ : হে পরিপূর্ণ দাওয়াত (তথা আযান) ও নামাযের মালিক আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উসীলা ও উচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে মাকামে মাহমুদে আসীন করুন, যার ওয়াদা আপনি তাঁর সাথে করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।
(বুখারী, ১ : ৮৬/ মুসলিম, ১ : ১৬৬/ বাইহাকী, ১ : ৪১০)
৭. পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর পড়ার দূ’আসমূহ-
৩ বার استغفر الله الذى لا اله الا هو الحي القيوم واتوب اليه

(ইবনুস সুন্নী, ১২০)
(২) ১ বার اية الكرسى

(আসসুনানুল কুবরা নাসাঈ, ৬ : ৩০/ ইবনুস্‌ সুন্নী, ১১০)
(৩) تسبيح فاطمى অর্থাৎ ৩৩ বার, سبحان الله

৩৩ বার الحمد لله

৩৪ বার الله اكبر

(মুসলিম, ১ : ২১৯)
(৪) ফজর ও মাগরিবের পর কথা বলার পূর্বে ৭ বার اللهم اجرنى من النار

(আবু দাউদ, ২ : ৬৯৩/ ইবনুস সুন্নী, ১২২)
(৫) ফজর ও মাগরিবের পর পড়বে-৩ বার اعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم

পড়ে, বিসমিল্লাহ পড়ার পর ১ বার سورة الحشر-এর শেষ ৩ আয়াত পড়বে।

(তিরমিযী, ২ : ১২০)
বি. দ্র. লম্বা দূ’আসমূহ ফরয নামাযের পরে সুন্নাত না থাকলে ফরযের পরই পড়বে, আর সুন্নাত থাকলে সুন্নাত পড়ার পর পড়বে

৩৪. মাগরিবের আজানের সময় পড়বে-
اللهم هذا اقبال ليلك وادبار نهارك واصوات دعاتك فاغفرلى
অর্থ : হে আল্লাহ! এখন আপনার রাত্রির আগমন ও দিনের গমন এবং আপনার প্রতি আহ্বানকারী মুআযযিনের ধ্বনির (আযানের) সময়। সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন।
(মুসতাদরাকে হাকিম, ১ : ৩১৪)

ঘর থেকে বের হওয়ার দূ’আ-

ঘর থেকে বা অন্য কোন স্থান থেকে cc
بسم الله توكلت على الله لا حول ولاقوة الا بالله
অর্থ : আল্লাহ তা‘আলার নামে (বের হলাম), আমি আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসা করলাম। আল্লাহর তাওফীক ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা কোন নেক কাজ করা সম্ভব নয়।
(তিরমিযী, ২ : ১৮১/ আবু দাউদ, ২ : ৬৯৫)

ঘরে প্রবেশ করার দূ’আ-

ঘরে বা অন্য কোথাও c
اللهم انى اسئلك خير امولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ভিতরে প্রবেশ করার এবং বের হওয়ার মঙ্গল কামনা করছি। আমরা আল্লাহ তা‘আলার নামে প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে বের হলাম এবং আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপর ভরসা করলাম।
(আবু দাউদ, ২ : ৬৯৫ হাদীস নং ৫৯৬)

Tuesday, 1 April 2014

মক্কা-মদীনার বাইরে সাহাবীদের কবর

বিদায় হজ্বে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে প্রায় সোয়া লক্ষ সাহাবী হজ্ব করেছেন। কিন্তু মক্কা-মদীনা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে অল্প কিছু সংখ্যক সাহাবীরই কবর খুঁজে পাওয়া যায়। বহু সাহাবীর কবর ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। কিছু দৃষ্টান্ত : 
হযরত উকবা ইবনে নাফে রা.-এর কবর আলজিরিয়ায়।
হযরত আবুল বাকা আনসারী রা.-এর কবর তিউনিসে।
হযরত রুয়াইফা আনসারী রা.-এর কবর লিবিয়ায়।
হযরত আবদুর রহমান রা.-এর কবর উত্তর আফ্রিকায়
হযরত মা’বাদ ইবনে আব্বাস রা.-এর কবর উত্তর আফ্রিকায়।
হযরত বারা ইবনে মালেক রা.-এর কবর তাসতাবে।
হযরত নোমান আলমুযানী রা.-এর কবর নেহাওয়ান্দে।
হযরত আবু রাফে রা.-এর কবর খোরাসানে।
হযরত আবদুর রহমান ইবনে সামুরা রাহ.-এর কবর খোরাসানে।
হযরত আবু আইউব আনসারী রা.-এর কবর ইস্তাম্বুলে।
হযরত আবু তালহা আনসারী রা.-এর কবর বোহায়রা রোমে।
হযরত ফযল ইবনে আব্বাস রা.-এর কবর সিরিয়ায়
হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা.-এর কবর হিমসে।
হযরত বিলাল হাবশী রা.-এর কবর দামেশকে।
হযরত আবুদ্দারদা রা.-এর কবর জর্ডানে।
হযরত জাফর ইবনে আবী তালিব রা.-এর কবর মোতায়।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা রা.-এর কবর জর্ডান নদীর পাশে।
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা.-এর কবর জর্ডানের এক পাহাড়ে।
হযরত যিরার ইবনুল আযওয়ার রা.-এর কবর জর্ডানের এক পাহাড়ে।
হযরত উবাদা ইবনুছ ছামেত রা.-এর কবর জর্ডানের এক পাহাড়ে।
হযরত আবু যামআহ রা.-এর কবর তিউনিসে।
হযরত কুছাম ইবনে আব্বাস রা.-এর কবর সমরকন্দে।
হযরত আমর ইবনে মাদিকরিব রা.-এর কবর নেহাওয়ান্দে।
৫০ হিজরীতে হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবী ছগরা রা. কাবুলের রাস্তা হয়ে পেশাওয়ার এবং পেশাওয়ার থেকে লাহোর হয়ে কেলাত পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কেলাতের পাহাড়ে আজও সাতজন সাহাবী-তাবেয়ীর কবর আছে।
এ তালিকা থেকে বোঝা যায়, হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানিত সাহাবীগণ দ্বীনের ডাকে আপন ভূমি থেকে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। দাওয়াত ও জিহাদের পথে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। রাদিয়াল্লাহু আনহুম। 
(একটি উর্দু পত্রিকা থেকে সংগৃহিত। সংগ্রহে : আবু তাশরীফ)

গান ও বাদ্যযন্ত্র : ইসলামী দৃষ্টিকোণ

কুরআনের ভাষ্য : আল্লাহ তাআলা সূরা লুকমানে আখেরাত-প্রত্যাশী মুমিনদের প্রশংসা করার পর দুনিয়া-প্রত্যাশীদের ব্যাপারে বলছেন,
আর একশ্রেণীর লোক আছে, যারা অজ্ঞতাবশত খেল-তামাশার বস্তু ক্রয় করে বান্দাকে আল্লাহর পথ থেকে গাফেল করার জন্য।-সূরা লুকমান : ৬ উক্ত আয়াতের শানে নুযূলে বলা হয়েছে যে, নযর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গান-বাজনায় নিয়োজিত করল। কেউ কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদেরকে কুরআন শুনিয়ে নামায, রোযা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে। এতে শুধু কষ্টই কষ্ট। তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর।-মাআরিফুল কুরআন ৭/৪
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াত নাযিল করেন।

সাহাবী ও তাবেয়ীদের ব্যাখ্যা

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে উক্ত আয়াতের ‘লাহওয়াল হাদীস’-এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তা হল গান।’ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একই কথা বলেন। তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. বলেন, উক্ত আয়াত গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যা বান্দাকে কুরআন থেকে গাফেল করে দেয়।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১
কুরআন মজীদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজী পেশ করলে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে বললেন,
তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর।-সূরা ইসরা : ৬৪
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তাই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯

সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যথা :

ক) নিফাক এর উৎস খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭ বস্তুত গান বাজনার ক্ষতিকর প্রভাব এত বেশি যে, তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো দলীল খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীসের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।
হাদীসের ভাষ্য
গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮
বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে যাতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এর সকল উপার্জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২
উপরোক্ত বাণীর সত্যতা এখন দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। গান-বাজনার ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষের অন্তরে এই পরিমাণ নিফাক সৃষ্টি হয়েছে যে, সাহাবীদের ইসলামকে এ যুগে অচল মনে করা হচ্ছে এবং গান-বাদ্য, নারী-পুরুষের মেলামেশা ইত্যাদিকে হালাল মনে করা হচ্ছে। সহীহ বুখারীতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।-সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৯০ মুসনাদে আহমদের হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
আল্লাহ তাআলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা বিলোপসাধনের নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদীসের আলোয় সাহাবীদের জীবন

দু’একটি ক্ষেত্রে শুধু দফ বাজানোর বিষয়টি ব্যতিক্রম থাকলেও যে কোনো বাদ্যযন্ত্রই হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস এবং সাহাবীদের বাস্তব আমল তা প্রমাণ করে।
বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন। কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ? আমি বললাম হ্যাঁ। অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন। -মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪৯২৪ বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১
একটু ভেবে দেখুন তো, যে আওয়াজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম মুহূর্তের জন্যও কানে তুলতে রাজি ছিলেন না সেই ইবলিসী আওয়াজের অনুকূলে কথা বলার দুঃসাহস আমরা দেখাতে পারি কি না?
বাজনাদার নুপুর ও ঘুঙুরের আওয়াজও সাহাবায়ে কেরাম বরদাশত করতেন না। তাহলে গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রশ্নই কি অবান্তর নয়? নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে, একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭ সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪ মৃদু আওয়াজের ঘণ্টি-ঘুঙুরের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আধুনিক সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের বিধান কী হবে তা খুব সহজেই বুঝা যায়। চার ইমামের ভাষ্য
গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-অভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সকলেই গান-বাদ্যকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে।-কুরতুবী ১৪/৫৫ ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল আহমক।
তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা, সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর শ্রোতা ফাসেক। তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯; কুরতুবী ১৪/৫৫
হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী। আর যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম।-আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮
ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ আছে বলে মত দিয়েছেন। কেননা বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশের বর্ণনা হাদীসে রয়েছে।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২ মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু নয়।-ফাতহুল বারী ৯/২২৬

দফ-এর পরিচয়

যারা সরাসরি আরবে দফ দেখেছেন, তাদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, দফ-এর এক পাশ খোলা। বাজালে ঢ্যাব ঢ্যাব আওয়াজ হয়। প্লাস্টিকের গামলা বাজালে যেমন আওয়াজ হবে তেমন। আসলে দফ কোনো বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না।
আওনুল বারী গ্রন্থে দফ-এর পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে যে, এর আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয়। কোনো দফ-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে।-আওনুল বারী ২/৩৫৭ আর দফ-এর মধ্যে যখন বাদ্যযন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এসে যাবে তখন তা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয বলে পরিগণিত হবে।-মিরকাত ৬/২১০ এখন কেউ যদি বলেন, তৎকালীন যুগে দফ ছিল আরবের সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্র, বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা-ই উন্নত হয়েছে। তাহলে একে অজ্ঞতাপ্রসূত অবাস্তব কথা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারি না। কেননা একাধিক হাদীসে ঢোল, তবলাসহ অনেক বাদ্যযন্ত্রের নাম এসেছে। বাস্তবে না থাকলে এসব বাদ্যযন্ত্রের নাম আসবে কোত্থেকে? তাছাড়া মুহাদ্দিসদের ভাষ্য অনুযায়ী দফ বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না, যা ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি। আরবে এখনো দফ বিদ্যমান আছে।
দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদানী উস্তাদকে ছাত্ররা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, দফ তো বাচ্চাদের জন্য, আর বড়দের জন্য হল কুরআন। পরিণত ব্যক্তিদের জন্য কুরআন ছেড়ে এসবের মধ্যে লিপ্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এরপরও যদি মেনে নেওয়া হয় যে, তৎকালীন যুগে দফ সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্র ছিল তবে তাতেই বা লাভ কী? বাদ্যযন্ত্রকে তো আর জায়েয বানানো যাচ্ছে না। হাদীসে রাসূলই তাকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসলামকে আধুনিক বানানোর ‘সদুদ্দেশ্যে’ আজ কেউ কেউ ফতোয়া দিচ্ছেন যে, মেয়েদের সাথে হাত মেলানো জায়েয, নারী-পুরুষের মাঝে পর্দা বিধানের এত কড়াকড়ির প্রয়োজন নেই, গান-বাদ্য, সিনেমা, টেলিভিশন এসব তো বিনোদনেরই অংশ। ক্লীন শেভে কোনো সমস্যা নেই, দাড়ি ইসলামের কোনো জরুরি বিষয় নয় ইত্যাদি বহুবিধ ‘আধুনিক’, ‘অতি আধুনিক’ ফাতাওয়া আজ শুনতে পাওয়া যায়। মনে রাখা উচিত যে, ইসলাম অন্যান্য ‘ধর্মে’র মতো নয়; বরং তা আল্লাহ প্রদত্ত চির আধুনিক আদর্শ, একে নিজেদের পক্ষ থেকে আরো অতি আধুনিক বানানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ইসলামে যেমন বাড়াবাড়ির অবকাশ নেই, তেমন ছাড়াছাড়িরও সুযোগ নেই। ইসলাম হল মধ্য পন্থা। যে বিধান যতটুকু দেওয়া প্রয়োজন আল্লাহ তাআলা তা ততটুকুই দিয়েছেন। এর পূর্ণ অনুসরণই যে সকল কল্যাণের সূত্র সাহাবায়ে কেরামের পুণ্যযুগই তার বাস্তব প্রমাণ। আমরাও যদি কল্যাণের প্রত্যাশা করি তাহলে আমাদেরকেও ইসলামের সকল বিধানের পূর্ণ অনুসরণ করতে হবে এবং আমাদের ঈমান, আমল ও ফতোয়া সবকিছুকে যাচাই করতে হবে তাদেরই মানদণ্ডে।
আমরা কেউ তো এ দাবি করতে পারি না যে, সাহাবীদের চেয়ে ইসলামকে ও রাসূলের হাদীসকে চেপ্টা করে আমরা বেশি বুঝে ফেলেছি। বাদ্যসহ কাওয়ালি
সুফী সাধকের নাম ব্যবহারকারী একটি জগতেও আজ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তাই আধুনিক কিছু সুফী বলে থাকে, বাদ্যসহ যিকির ও কাওয়ালি জায়েয। দলীল হিসেবে তারা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এ বর্ণিত দুটি বালিকার দফ বাজিয়ে কবিতা গাওয়ার হাদীসটি উপস্থাপন করে। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. লেখেন, উক্ত হাদীসে আয়েশা রা.-এর বর্ণনাই তাদের অবাস্তব দাবির বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট জবাব। গান-বাদ্য যে নাজায়েয এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হাদীসের রাবী হযরত আয়েশা রা. বলছেন, উক্ত বালিকাদ্বয় কোনো গায়িকা ছিল না। তারা কোনো গান গায়নি।-ফাতহুল বারী ২/৪৪২
ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন, গান বলতে যা বুঝায়, বালিকাদ্বয় তা গায়নি। পাছে কেউ ভুল বুঝতে পারে তাই আয়েশা রা. বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ইমাম কুরতুবী আরো বলেন, বর্তমানে একশ্রেণীর সুফীরা যে ধরনের গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন ঘটিয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম।-তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫৪ বিখ্যাত সাধক হযরত জুনাইদ বাগদাদী রাহ. তার যুগে কাওয়ালি শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, বর্তমানে কাওয়ালি শোনার শর্তগুলো পালন করা হয় না। তাই আমি এর থেকে তওবা করছি।-আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৯২
জুনাইদ বাগদাদী রাহ.-এর যুগেরই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমাদের যুগের অবস্থা কেমন হবে তা ভাববার বিষয়। এক বিদ্যান ব্যক্তি একটি শিক্ষণীয় উক্তি করেছিলেন যে, তোমরা আধুনিক হও ভালো কথা, কিন্তু আধুনিক হতে গিয়ে মনুষ্যত্বের সীমানা অতিক্রম করো না এবং শয়তানের দোসর বনে যেও না।

                                                                                      মাসিক
                                                                          

মুসাফাহা

হাদীস শরীফে তো এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং তা প্রসিদ্ধও বটে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দুজন মুসলিম যখন মিলিত হয় ও মুসাফাহা করে এবং আল্লাহর প্রশংসা করে ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২১৩; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৮৯৫৬; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ১৩৯৫৩)
হাদীসে ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘‘ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম’’ বাক্যটি প্রসিদ্ধ। সুতরাং এ বাক্যের মাধ্যমে বা আল্লাহর হামদ ও ইস্তিগফার সম্বলিত অন্য কোনো বাক্যে মুসাফাহার দুআ হতে পারে। কিন্তু মনগড়াভাবে বিসমিল্লাহ-ইয়া রাসূলাল্লাহ বা এজাতীয় কোনো কিছু বলা ঠিক নয়। আর এটিকে যদি কেউ মুসাফাহার বিধানই মনে করে তাহলে তো তা হয়ে যাবে বিদআত। আর ইয়া রাসূলাল্লাহ বাক্যটি যদি হাযির-নাযির আকিদার কারণে বলা হয়ে থাকে তাহলে তা তাওহীদ-পরিপন্থী হবে, যা সংশোধন করা ফরয। 

মসজিদে দুনিয়াবী কথা

‘‘মসজিদে কেউ প্রথমবার দুনিয়াবী কথা বললে ফিরিশতারা বলেন, হে আল্লাহর বন্ধু আপনি চুপ করুন। আবার দুনিয়াবী কথা বললে ফিরিশতারা বলেন, হে আল্লাহর বান্দা তুমি চুপ কর। তৃতীয়বার কথা বললে ফিরিশতারা বলেন, হে আল্লাহর দুশমন তুই চুপ কর।’’
এক ভাই প্রশ্ন পাঠিয়েছেন, এটি হাদীস কি না। কাউকে তিনি এটিকে হাদীস হিসেবে বলতে শুনেছেন।
এটি হাদীস নয়; হাদীসের কিতাবসমূহে এটা পাওয়া যায় না।
ইতিপূর্বে (অক্টোবর-নভেম্বর ২০০৫) এ বিভাগে এ বিষয়ক একটি জাল বর্ণনা আলোচনা করা হয়েছে। সেটি ছিল-‘‘মসজিদে (দুনিয়াবী) কথাবার্তা নেকিকে এমনভাবে খতম করে, যেমন আগুন কাঠকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে।’’
মনে রাখতে হবে, মসজিদ নামায ও আল্লাহ তাআলার যিকিরের জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মসজিদকে দুনিয়াবী কথাবার্তা ও কাজকর্মের স্থান বানানো অথবা এ উদ্দেশ্যে মসজিদে জমায়েত হওয়া নাজায়েয।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বেচা-কেনা বা হারানো বস্ত্ত খুঁজে পাওয়ার এলান করতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৭৯)।
আরেক হাদীসে এ বিষয়ে কঠিন ধমকি এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কাউকে মসজিদে বেচা-কেনা করতে দেখলে বল, তোমার বেচা-কেনা লাভজনক না হোক। তেমনিভাবে কাউকে যদি মসজিদে হারানো বস্ত্তর এলান করতে দেখ তাহলে বল, আল্লাহ তোমার হারানো বস্ত্ত ফিরিয়ে না দিন (অর্থাৎ এ কাজটি  খুবই নিন্দনীয়)। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৩৬;  সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১৩০৫)। তবে কোনো দ্বীনী কাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার পর প্রসঙ্গক্রমে দুনিয়াবী কোনো বৈধ কথাবার্তা বলা জায়েয। এর বৈধতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত। (দ্রষ্টব্য সহীহ বুখারী ১/৬৩,৬৪, ও ৬৫; রদ্দুল মুহতার (শামী) ১/৬৬২; আললুলুউল মারসূ ৭৮)
                                                                                                        মাসিক