Tuesday, 28 October 2014

বিদ‘আত

নিম্নলিখিত কাজগুলো বিদ‘আত। এগুলো থেকে দূরে থাকা কর্তব্য।

১. কোন বুযুর্গের মাযারে ধুমধামের সাথে উরস করা, মেলা বসানো, বাতি জ্বালানো।
২. মেয়েলোকের বিভিন্ন দরগায় যাওয়া।
৩. কবরের ওপর চাদর, আগরবাতি, মোমবাতি ও ফুল দেওয়া।
৪. কবর পাকা করা।
৫. কোন বুযুর্গকে সন্তুষ্ট করার জন্যে শরী‘আতের সীমারেখার বেশি তাযিম করা।
৬. কবরে চুমো খাওয়া।
৭. কবরে সিজদা করা।
৮. দ্বীনের বা দুনিয়ার কাজের ক্ষতি করে দরগায়-দরগায় বেড়ানো।
৯. কোন কোন অজ্ঞ লেখক আজমীর শরীফ, বাজেবোস্তান, পীরানে কার্লিয়ার ইত্যাদিকে মুসলমানদের তীর্থস্থান বলে উল্লেখ করেছে, তা দেখে তীর্থ গমনের ন্যায় সেসব স্থানে যাওয়া।
১০. উঁচু উঁচু কবর বানানো।
১১. কবর সাজানো, সেখানে ফুলের মালা দেওয়া।
১২. কবরে গম্বুজ বানানো।
১৩. কবরে পাথর খোদাই করে কিছু লিখে লাগানো। ১৪. কবরে চাদর, শামিয়ানা ইত্যাদি টানানো।
১৫. মাযারে মিঠাই নজরানা দেওয়া।

কতিপয় কবীরা গুনাহের বিস্তারিত বিবরণ ১৬,১৭,১৮

  • ১৬. জুয়া খেলা ও লটারি ধরা এটাও কবীরা গুনাহ। এর নেশাও মদের নেশা ও কামিনী-কাঞ্চনের নেশা অপেক্ষা কম নয়। জুয়া খেলা অনেক রকমের আছে। ঘোড় দৌড়, কুকুর দৌড়, পাশা খেলা, তাস খেলা, সতরঞ্জ খেলা বা টিকেট ধরা-এ সবই জুয়া। অর্থাৎ যাতে বাজি ধরা আছে, তা-ই জুয়া। জুয়া খেলা মহাপাপ। সমাজে ও রাষ্ট্রে এর প্রসার বন্ধ করার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকা দরকার।

    ১৭. সুদ খাওয়া কবীরা গুনাহ। সুদ অনেক প্রকারের আছে। যেমন, সরল সুদ, চক্রবৃদ্ধি সুদ, ব্যাংকের সুদ, বীমা-ইন্স্যুরেন্সের সুদ ইত্যাদি। সর্ব প্রকারের সুদই মহাপাপ। প্রচলিত সকল বীমা ইন্স্যুরেন্স সুদ বা জুয়ার মধ্যে শামিল। আর স্বাভাবিকভাবে যে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, তাও সুদের মধ্যে শামিল। সুতরাং, বীমা ও ইন্স্যুরেন্স থেকে পরহেজ করা ফরয। সরকারী আইনের কারণে কেউ অপারগ হলে সে অবস্থার হুকুম কোন মুফতীর নিকট থেকে জেনে নিবে।
    আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আল্লাহর অটল বিধান, সুদের দ্বারা আসে ধ্বংস, আর যাকাত, খয়রাত ও দানের দ্বারা আসে বরকত”।
    يَمحَقُ اللَّهُ الرِّ‌بو‌ٰا۟ وَيُر‌بِى الصَّدَقـٰتِ ۗ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ كُلَّ كَفّارٍ‌ أَثيمٍ ﴿٢٧٦﴾
    [সূত্র: সূরাহ বাকারা, আয়াত ২৭৬]
    সুদ ছাড়া ব্যাংক চলতে পারে। কাজেই এরূপ মনে করা উচিত নয় যে, সুদ না হলে ব্যাংক কীভাবে চলবে? আর ব্যাংক না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যেই বা চলবে কীভাবে? সুদ খাওয়া আর দেওয়া উভয়ই কবীরা গুনাহ। তবে সুদ খাওয়া সর্বাবস্থায়ই মহাপাপ। কিন্তু জানমালের হেফাযতের জন্য অপারগ হয়ে সুদ দেওয়া মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    ১৮. রিশওয়াত। অর্থাৎ ঘুষ খাওয়া কবীরা গুনাহ। ঘুষের মাধ্যমে অবৈধভাবে কার্য উদ্ধার করা মহাপাপ।
    যাদের সরকারী বেতন ধার্য করা আছে, তারা কর্তব্য কাজে অতিরিক্ত যা কিছু গ্রহণ করবে, সবই ঘুষ বলে বিবেচিত হবে। চাই একটি সিগারেট হোক বা এক কাপ চা কিংবা এক খিলি পান অথবা একটি ডাবই হোক এবং যদিও দাতা তা খুশি হয়ে দেয়।

    আর যাদের কোন বেতন ধার্য করা নেই, তারা যদি চুক্তির মাধ্যমে মজুরী নির্ধারণ করে কোন কাজ করে এবং মজুরী গ্রহণ করে, তবে তা ঘুষ নয়। যারা সরকারের বেতনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, তাদের কোন মহৎ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মান অথবা ভালোবাসার নিদর্শনস্বরুপ যদি তাদের জন্য কোন উপঢৌকন দেওয়া হয়, তবে সেটা ঘুষ নয়। বরং এরূপ উপঢৌকনকে বলা হয় হাদিয়া। কিন্তু এরূপ দানের মধ্যে দাতার পক্ষে কোনরুপ কার্যোদ্ধারের নিয়ত বা গ্রহীতার পক্ষে কোনরুপ আশা থাকলে তা আর হাদিয়া থাকবে না। বরং সেটাও এক প্রকার রিশওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। শুধু সুপারিশ করে বিনিময় গহণ করা, সত্য সাক্ষ্যদানের বিনিময় গ্রহণ করা, ন্যায় বিচারের বিনিময় গ্রহণ করা, মৌখিকভাবে মাসআলা বলে, কুরআন পাঠ করে সাওয়াব রেসানীর বিনিময় গ্রহণ করা, তারাবীহ নামাযে কুরআন শুনিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা, মুরীদ করে, দ্বীনের সবক বলে দিয়ে, নসিহত করে বিনিময় গ্রহণ করা-এসবও রিশওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। অবশ্য ন্যায় বিচার করার জন্য, দ্বীনি সবক শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং নসিহত দ্বারা চরিত্র গঠন করার জন্য কিছু ভাতা নির্ধারণ করে দিলে, তা হারাম বা রিশওয়াত হবে না।

কতিপয় কবীরা গুনাহের বিস্তারিত বিবরণ ১০-১৫

  • ১০. অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, ওয়াদা খেলাফ করা, কথা দিয়ে বিনা উজরে তা ঠিক না রাখা, এগুলোও মারাত্মক কবীরা গুনাহ।

    ১১. আমানতের খিয়ানত করা কবীরা গুনাহ। আমানত অনেক রকমের আছে। টাকা-পয়সা, বিষয়-সম্পত্তির আমানত, কথার আমানত, কাজের আমানত, দায়িত্বের আমানত ইত্যাদি।

    ১২. গীবত করা তথা কারো অসাক্ষাতে তার বদনাম ও নিন্দা করা। [যদিও তা সত্য হয়] কবীরা গুনাহ।

    ১৩. বিদ্রোহী বানানো অর্থাৎ স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে, মনিবের বিরুদ্ধে চাকরকে, উস্তাদের বিরুদ্ধে শাগরিদকে, রাজার বিরুদ্ধে প্রজাকে, কর্তার বিরুদ্ধে কর্মচারীকে ক্ষেপিয়ে তোলাও কবীরা গুনাহ। হাদীস শরীফে আছে, ‘কোন চাকরকে তার প্রভুর বিরুদ্ধে অথবা স্ত্রীকে তার স্বমীর বিরুদ্ধে যে উস্কানী দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’

    ১৪. নেশাযুক্ত জিনিস পান করা কবীরা গুনাহ। যেমন মদ, গাঁজা হিরোইন, ফেনসিডিল ইত্যাদি। নেশার দ্বারা উদ্দেশ্য, যা পান করলে ব্রেনের স্বাভাবিক কর্ম ব্যাহত হয়।

    ১৫. যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করা। মদের দ্বারা যেমন নেশা হয়, মদ্যপানে যেমন, মানুষ বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে উন্মাদ হয়ে যায়, তার চেয়েও মানুষের মধ্যে বড় নেশা হলো যৌন উত্তেজনার নেশা এবং যৌন উত্তেজনা হলে মানুষ বুদ্ধি হারিয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়। পুরুষ জাতির এই যৌনক্ষুধাকে যারা উত্তেজিত করে অর্থাৎ নারী জাতি যখন যুবক পুরুষদের সামনে তাদের রূপ-সজ্জা দেখিয়ে বেড়ায়, মেকি রূপ, অঙ্গভঙ্গি করে বা নেচে নেচে দেখায় বা নগ্নমুর্তি, উলঙ্গ ছবি তাদের সামনে তুলে ধরা হয়, [যেমন টিভি, ভিসিআর ও সিনেমায় অশ্লীল ছবি দেখানো হয়], তখন যুবকদের যৌনক্ষুধা উত্তেজিত হয়ে তারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পশুর ন্যায় আচরণ করে বসে এবং তাদের স্বাস্হ্য, সম্পত্তি, সময় ও স্বচ্ছ মনের এবং সুস্থ বিবেকের ভীষণ ক্ষতি হয়। এজন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, “তোমরা যিনার ধারে-কাছেও যেও না”। [সূত্র: সূরাহ বনী ইসারাঈল, আয়াত ৩২] অর্থাৎ যে কাজে যিনার উপক্রম হতে পারে বা যৌন চাহিদার সৃষ্টি হতে পারে, সে কাজ করো না। এই ক্ষতি যাদের দ্বারা হয়, তারাও মহাপাপী।
  • ১৬. জুয়া খেলা ও লটারি ধরা এটাও কবীরা গুনাহ। এর নেশাও মদের নেশা ও কামিনী-কাঞ্চনের নেশা অপেক্ষা কম নয়। জুয়া খেলা অনেক রকমের আছে। ঘোড় দৌড়, কুকুর দৌড়, পাশা খেলা, তাস খেলা, সতরঞ্জ খেলা বা টিকেট ধরা-এ সবই জুয়া। অর্থাৎ যাতে বাজি ধরা আছে, তা-ই জুয়া। জুয়া খেলা মহাপাপ। সমাজে ও রাষ্ট্রে এর প্রসার বন্ধ করার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকা দরকার।

    ১৭. সুদ খাওয়া কবীরা গুনাহ। সুদ অনেক প্রকারের আছে। যেমন, সরল সুদ, চক্রবৃদ্ধি সুদ, ব্যাংকের সুদ, বীমা-ইন্স্যুরেন্সের সুদ ইত্যাদি। সর্ব প্রকারের সুদই মহাপাপ। প্রচলিত সকল বীমা ইন্স্যুরেন্স সুদ বা জুয়ার মধ্যে শামিল। আর স্বাভাবিকভাবে যে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, তাও সুদের মধ্যে শামিল। সুতরাং, বীমা ও ইন্স্যুরেন্স থেকে পরহেজ করা ফরয। সরকারী আইনের কারণে কেউ অপারগ হলে সে অবস্থার হুকুম কোন মুফতীর নিকট থেকে জেনে নিবে।
    আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আল্লাহর অটল বিধান, সুদের দ্বারা আসে ধ্বংস, আর যাকাত, খয়রাত ও দানের দ্বারা আসে বরকত”।
    يَمحَقُ اللَّهُ الرِّ‌بو‌ٰا۟ وَيُر‌بِى الصَّدَقـٰتِ ۗ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ كُلَّ كَفّارٍ‌ أَثيمٍ ﴿٢٧٦﴾
    [সূত্র: সূরাহ বাকারা, আয়াত ২৭৬]
    সুদ ছাড়া ব্যাংক চলতে পারে। কাজেই এরূপ মনে করা উচিত নয় যে, সুদ না হলে ব্যাংক কীভাবে চলবে? আর ব্যাংক না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যেই বা চলবে কীভাবে? সুদ খাওয়া আর দেওয়া উভয়ই কবীরা গুনাহ। তবে সুদ খাওয়া সর্বাবস্থায়ই মহাপাপ। কিন্তু জানমালের হেফাযতের জন্য অপারগ হয়ে সুদ দেওয়া মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    ১৮. রিশওয়াত। অর্থাৎ ঘুষ খাওয়া কবীরা গুনাহ। ঘুষের মাধ্যমে অবৈধভাবে কার্য উদ্ধার করা মহাপাপ।
    যাদের সরকারী বেতন ধার্য করা আছে, তারা কর্তব্য কাজে অতিরিক্ত যা কিছু গ্রহণ করবে, সবই ঘুষ বলে বিবেচিত হবে। চাই একটি সিগারেট হোক বা এক কাপ চা কিংবা এক খিলি পান অথবা একটি ডাবই হোক এবং যদিও দাতা তা খুশি হয়ে দেয়।

    আর যাদের কোন বেতন ধার্য করা নেই, তারা যদি চুক্তির মাধ্যমে মজুরী নির্ধারণ করে কোন কাজ করে এবং মজুরী গ্রহণ করে, তবে তা ঘুষ নয়। যারা সরকারের বেতনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, তাদের কোন মহৎ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মান অথবা ভালোবাসার নিদর্শনস্বরুপ যদি তাদের জন্য কোন উপঢৌকন দেওয়া হয়, তবে সেটা ঘুষ নয়। বরং এরূপ উপঢৌকনকে বলা হয় হাদিয়া। কিন্তু এরূপ দানের মধ্যে দাতার পক্ষে কোনরুপ কার্যোদ্ধারের নিয়ত বা গ্রহীতার পক্ষে কোনরুপ আশা থাকলে তা আর হাদিয়া থাকবে না। বরং সেটাও এক প্রকার রিশওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। শুধু সুপারিশ করে বিনিময় গহণ করা, সত্য সাক্ষ্যদানের বিনিময় গ্রহণ করা, ন্যায় বিচারের বিনিময় গ্রহণ করা, মৌখিকভাবে মাসআলা বলে, কুরআন পাঠ করে সাওয়াব রেসানীর বিনিময় গ্রহণ করা, তারাবীহ নামাযে কুরআন শুনিয়ে বিনিময় গ্রহণ করা, মুরীদ করে, দ্বীনের সবক বলে দিয়ে, নসিহত করে বিনিময় গ্রহণ করা-এসবও রিশওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। অবশ্য ন্যায় বিচার করার জন্য, দ্বীনি সবক শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং নসিহত দ্বারা চরিত্র গঠন করার জন্য কিছু ভাতা নির্ধারণ করে দিলে, তা হারাম বা রিশওয়াত হবে না।


Wednesday, 8 October 2014

ঈদের নামায অতিরিক্ত ৬ তাকবীরে পড়া সুন্নাত ও উত্তম

شۃ جلیس لأبی ہریرۃ ؓ أن سعید بن العاصؒ سأ ل أبا موسی الأشعریؓ و حذیفۃ بن الیمان : کیف کان رسول اللہ ۔ ﷺ ۔ یکبر فی الأضحی و الفطر ؟ فقال أبو موسی : کان یکبر أربعا تکبیرہ علی الجنائز فقال حذیفۃؓ : صدق فقال أبو موسیؓ : کذلک کنت أکبر فی البصرۃ حیث کنت علیہم فقال أبو عائشۃ و أنا حاضر سعید بن العاص.
رواہ الإمام أبوداؤد فی ’’سننہ‘‘ برقم ( ۱۱۵۳) کتاب الصلاۃ ‘ باب التکبیر فی العیدین . و إبن أبی شیبۃ فی ’’ مصنفہ ‘‘ ۱/۴۹۳ ( ۵۶۹۴)
অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) এর সাহচার্য অবলম্বনকারী হযরত আবূ আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত সাঈদ ইবনুল আস (রহঃ) একদা হযরত আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযিঃ) ও হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর কিভাবে তাকবীর বলতেন? জবাবে হযরত আবূ মুসা (রাযিঃ) বলেন: জানাযার তাকবীরের ন্যায় প্রতি রাকা‘আতে ৪টি করে তাকবীর দিতেন। তখন হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) ও আবূ মুসা আশ‘আরীর (রাযিঃ) কথাকে সমর্থন করলেন। এরপর হযরত আবূ মুসা (রাযিঃ) বলেন আমি যখন বসরার গভর্ণর ছিলাম তখন এভাবেই তাকবীর বলতাম। হযরত আবূ আয়িশা (রহঃ) বলেন: এ প্রশ্নোত্তরের সময় আমি সাঈদ ইবনুল আসের (রহঃ) নিকট উপস্হিত ছিলাম।
সূত্র: আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং (১১৫৩) মুসনাদে আহমাদ ৪/৪১৬ (১৯৭৩৪) মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১/৪৯৩ (৫৬৯৪) তহাবী শরীফ ৪/৩৪৫-৩৪৬ (অবশিষ্ট-৪৩)

উল্লেখ্য যে, এ হাদীসে জানাযার নামাযের ন্যায় ঈদের নামাযেও ৪ তাকবীরের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হল: প্রথম রাকা‘আতে তাকবীরে তাহরীমা সহ আরো অতিরিক্ত তিন তাকবীর মোট ৪ তাকবীর। এবং দ্বিতীয় রাকা‘আতে রুকুর তাকবীর সহ আরো অতিরিক্ত তিন তাকবীর, মোট ৪ তাকবীর (যা ত্বহাবী শরীফে বর্ণিত অন্য এক সূত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ্য রয়েছে, দ্রষ্টব্য: ত্বহাবী শরীফ ২/৩৭১) সুতরাং তাকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তাকবীর বাদ দিলে অতিরিক্ত তাকবীর ৬ টি হল যা ত্বহাবী শরীফে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর থেকে বর্ণিত হাদীসে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে। নতুবা হাদীসের বাহ্যিক অর্থ, ঈদের নামাযে ৪ বা ৮ তাকবীর কোন ইমামের মাযহাব নয়। সুতরাং বাহ্যিক ঐ অর্থ করলে হাদীসটি কোন মাযহাবে গ্রহণযোগ্য থাকে না এবং হাদীসটি আমল যোগ্যও থাকে না। কাজেই সেরূপ অর্থ করা ঠিক হবে না। সার কথা, এটি সংক্ষিপ্ত হাদীস আর সংক্ষিপ্ত হাদীস সম্পর্কে নিয়ম হল বিস্তারিত হাদীসের সাথে মিলিয়ে তার সঠিক মর্ম বুঝে আমল করা।

Tuesday, 7 October 2014

প্রত্যেক দূরবর্তী দেশের লোক নিজ নিজ দেশে চাঁদ দেখে রোযা ও ঈদ পালন করবে

 عن کریب ؒ أن أم الفضل بنت الحرث بعثتہ إلی معاویۃ ؓ بالشام قال : فقدمت الشام فقضیت حاجتہا ‘ و استہل علیّ رمضان و أنا بالشام فرأیت الہلال لیلۃ الجمعۃ ثم قدمت المدینۃ فی أخر الشہر فسألنی عبد اللہ بن عباسؓ ثم ذکر الہلال ‘ فقال : متی رأیتم الہلال ؟ فقلت :رأیناہ لیلۃ الجمعۃ فقال : أنت رأیتہ ؟ فقلت : نعم ‘ و رأہ الناس وصاموا و صام معاویۃ ؓ فقال : لکنا رأیناہ لیلۃ السبت ‘ فلا نزال نصوم حتی نکمل ثلاثین ‘ أو نراہ فقلت : أو لا تکتفی برویۃ معاویۃ و صیامہ ؟ فقال : لا ‘ ہکذا أمرنا رسول اللہ ۔ ﷺ ۔
رواہ الإمام مسلم فی’’ صحیحہ ‘‘ برقم (۱۰۸۷) کتاب الصیام ‘ باب بیان ان لکل بلد رؤیتہم و أنہم إذا رأووا الہلال ببلد لا یثبت حکمہ لما بعد عنہم.
অর্থ: হযরত কুরাইব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, যে হযরত উম্মুল ফযল বিনতে হারেজ (রাযিঃ) তাকে কোন এক প্রয়োজনে সিরিয়াতে পাঠালেন। তিনি বলেন আমি সিরিয়া পৌঁছে আমার প্রয়োজন পূর্ণ করলাম, ইত্যবসরে আমি সিরিয়াতে থাকা অবস্হাতেই রামাযানের চাঁদ উঠল। আমি দেখলাম যে, জুমু‘আর রাত্রিতে চাঁদ উঠেছে। এরপর মাসের শেষে মদীনায় ফিরে আসলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আমার সাথে চাঁদের ব্যাপারে আলোচনা করলেন। এবং জিজ্ঞেস করলেন যে তোমরা কবে চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম জুমু‘আর রাত্রে দেখেছি। তিনি বললেন তুমিও দেখেছ? আমি বললাম জি হ্যাঁ এবং অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে। এবং তারা রোযা রেখেছে এবং মু‘আবিয়া (রাযিঃ) ও রোযা রেখেছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন: কিন্তু আমরাতো শনিবার রাত্রে দেখেছি। কাজেই আমরা আমাদের চাঁদ দেখা অনুযায়ী ত্রিশ রোযা পূর্ণ করা পর্যন্ত বা ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত রোযা রেখেই যাব। কুরাইব (রাযিঃ) বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি হযরত মু‘আবিয়া (রাযিঃ) এর চাঁদ দেখা ও রোযা রাখা কে যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেন যে, না। কারণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন। (অর্থাৎ, দূরবর্তী অন্য দেশের চাঁদ দেখাকে গ্রহণ না করে নিজেরা চাঁদ দেখে রোযা-ঈদ পালন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন)। সূত্র: মুসলিম শরীফ হাদীস নং (১০৮৭) আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং (২৩৩২) নাসাঈ শরীফ হাদীস নং (২১১০) তিরমিষী শরীফ হাদীস নং (৬৯৩)

উল্লেখ্য যে, এ হাদীস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে, দূরবর্তী এক দেশের লোকদের চাঁদ দেখা অন্য দেশের লোকদের জন্য যথেষ্ট নয় বরং প্রত্যেক দেশের লোকজন নিজ নিজ দেশে চাঁদ দেখে ইবাদত পালন করবে। আর এ জন্যই হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হযরত মু‘আবিয়া (রাযিঃ) ও হযরত কুরাইবের সিরিয়াতে চাঁদ দেখে রোযা রাখাকে নিজেদের জন্য যথেষ্ট মনে করেননি। বরং তাঁর সেই দেখাকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের দেখার কথা সুস্পষ্টভাবে বলে দিলেন।

Sunday, 5 October 2014

কুরবানীর ফযীলত ও জরুরী মাসাইল

কুরবানীর গুরুত্ব ও ফযীলত
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, (তরজমা) আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন (সূরা কাউছার-২)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছেঃ যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে (ইবনে মাজাহ হাঃ নং ৩১২৩)
কুরবানীর ফযীলত বর্ণনা প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, নবীজী (সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ কুরবানীকৃত পশুকে তার শিং, পশম, খুর, ইত্যাদিসহ কিয়ামতের ময়দানে হাজির করা হবে এবং নেকীর পাল্লায় তা ওজন করা হবেআর কুরবানীর পশু যবেহ করার সাথে সাথে তার রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহ পাকের দরবারে তা কবুল হয়ে যায়সুতরাং তোমরা সন্তুষ্ট চিত্তে কুরবানী কর (তিরমিযী শরীফ হাঃ নং ১৪৯৭)
কুরবানীর হুকুম
জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ সূর্যোদয় হতে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত যদি কোন সুস্থ মস্তিষ্ক,প্রাপ্ত বয়স্ক মুকীম ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, অর্থাৎ ঋণমুক্ত থাকা অবস্থায় সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন(৫২.৫০)তোলা রূপা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্য সমপরিমাণ নগদ টাকা বা ব্যবসায়ের মাল কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনের অতিরিক্ত যে কোন সম্পদ থাকে তাহলে তার উপর নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী করা ওয়জিবকিন্তু পুত্র, কন্যা ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে তার কুরবানী করা ওয়াজিব নয়বরং তারা নিসাবের মালিক হলে নিজেরাই নিজের কুরবানী আদায় করবেঅথবা তাদের অনুমতিক্রমে গৃহকর্তা তাদের পক্ষ থেকে কুরবানী দিবে। (শামী-৬/৩১২, আল ফিক্‌হুল ইস্‌লামী-৪/২৭১১, ২৭০৮)
কারো পক্ষ হতে তার অনুমতি ব্যতীত ওয়াজিব কুরবানী করা হলে সে ওয়াজিব আদায় হবে নাঅবশ্য একই পরিবারভূক্ত কোন সদস্য অন্য সদস্যের পক্ষ হতে তার জ্ঞাতসারে নিয়মিত কুরবানী করে আসলে সে ক্ষেত্রে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে, তবে এক্ষেত্রে উত্তম হল প্রকাশ্যে তার থেকেও অনুমতি নিয়ে নেয়া। (আদ্‌দুররুল মুখতার-৬/৩১৫)
কুরবানীর পশু
চান্দ্র মাস হিসাবে পূর্ণ এক বৎসর বয়সের ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও পূর্ণ দুই বৎসর বয়সের গরু, মহিষ এবং পূর্ণ পাঁচ বৎসর বয়সের উট-এ ছয় প্রকারের জন্তু দ্বারা কুরবানী করা যায়প্রথম তিনটি মাত্র এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এবং পরের তিনটি সর্বোচ্চ সাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা যায়তবে শর্ত হল,সকলের নিয়ত খাঁটি ভাবে সওয়াবের জন্য হতে হবেসাত শরীকের কোন একজনের নিয়তও যদি শুধু গোশত খাওয়ার জন্য হয় তাহলে কারো কুরবানীই আদায় হবে না। (শামী-৬/৩১৫)
তেমনিভাবে কোন শরীকের মাল হারাম হলে বা অনুমতি না নিয়ে কাউকে শরীক করলে সেক্ষেত্রে সকলের কুরবানী বাতিল হয়ে যায়। (শামী-৬/৩২৬)
উল্লেখ্য যে, ভেড়া ও দুম্বা যদি এমন হৃষ্ট-পুষ্ট হয় যে, ছয় মাসের  বয়সেরটিও দেখতে এক বৎসর বয়স্ক মনে হয় তবে এর দ্বারাও কুরবানী জায়িয আছেকিন্তু বকরী বা ছাগলের জন্য এ হুকুম প্রযোজ্য নয়। (আদদুররুল মুখতার-৬/৩২১)
অন্ধ, কানা ও ল্যাংড়া জন্তু বা এমন রুগ্ন ও দুর্বল জন্তু কুরবানীর স্থান পর্যন্ত যার হেঁটে যাওয়ার শক্তি নেই, অনুরূপভাবে এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশী লেজ ও কান কাটা কিংবা লেজ ও কান বিহীন পশুর কুরবানী সহীহ হবে নাএবং অধিকাংশ দাঁত পড়ে যাওয়া পশু দ্বারাও কুরবানী সহীহ হবে না। ( শামী:৬/৩২৩, আল বাহরুর রায়িক:৮/৩২৪)
যবাইয়ের মাসাইল   
১. নিজের কুরবানীর পশু নিজ হাতে যবাই করা মুস্তাহাব, নিজে সক্ষম না হলে অন্য লোক দ্বারা করানো যায়কিন্তু সেক্ষেত্রেও নিজে উপস্থিত থাকা উত্তমমহিলাগণও সম্পূর্ণ পর্দার আড়ালে থেকে অবলোকন করতে পারলে করবেন।(ফাতাওয়ায়ে শামী:৬/৩২৮, আল বাহরুর রায়িক:৮/২৩৮)
২. কুরবানী নিয়ত শুধু মালিক কর্তৃক মনে মনে করাই যথেষ্ট, মুখে কিছু বলার আবশ্যকতা নেইঅনুরূপভাবে মালিক নিয়ত করার পর যবাইকারী কর্তৃক নামের লিস্ট পড়ারও জরুরত নেইতবে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার অবশ্যই বলতে হবে। (শামী:৬/২৯৭-৩০১, আল ফিকহুল ইসলামী ৪/২৭৩১)
৩. কুরবানীর দুআ সশব্দে পড়া জরুরী নয়, মনে মনে পড়াই যথেষ্টদুআ না পড়লেও কুরবানীর কোন অসুবিধা হবে না। (শামী:৬/২৯৭)
৪. হলক এবং কন্ঠের মধ্যখানে যবেহ করতে হবেনতুবা জানোয়ারটি হালাল হবে না।( বাদায়িয়ুস সানায়ে:৫/৪১)
৫. গলার ৪টি রগ তথা: খাদ্যনালী, শ্বাসনালী, দুটি রক্তনালী  হতে কমপক্ষে ৩টি রগ না কাটলে পশু হালাল হবে না।( বাদায়িয়ুস সানায়ে:৫/৪১)
৬. কুরবানীর পশুকে মাথা দক্ষিণ দিকে দিয়ে কিবলামুখী করে শুইয়ে প্রথমে এ দুআটি পড়তে পারলে পড়বে:
اللَّهُمَّ إنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِي لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنْ الْمُشْرِكِينَ إنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالِمِينَ- لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنْ الْمُسْلِمِينَ .
অত:পর বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে যবাই করবেযবাই করার পর এ দুআটি পড়া ভাল :
اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَ مِنْ حَبِيْبِكَ مُحَمَّدٍ وَ خَلِيْلِكَ إبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ
(বাদায়িয়ুস সানায়ে:৫/৬০, জাওয়াহিরুল ফিক্‌হ:১/৪৫০)
কুরবানীর গোশত
১. কুরবানী শরীকানা হলে গোশত  ওজন করে সমানভাগে বন্টন করা জরুরীঅনুমান করে বন্টন করা নাজায়িয। (আল বাহরুর রায়িক:৮/৩২৭)
২. মুস্তাহাব বা উত্তম হচ্ছে, কুরবানীর গোশত তিন ভাগে ভাগ করে এক ভাগ নিজেরা রাখবে, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের দিবে এবং এক ভাগ গরীব মিসকীনদের দান করবেতবে এটা ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাবতাই যদি কেউ কুরবানীর সমস্ত গোশত প্রয়োজনে নিজেরা খায় তাতেও গুনাহগার হবে না
কুরবানীর চামড়া
১. কুরবানীর চামড়া  বিক্রি না করে পরিশোধন করে নিজে ব্যবহার করা যায়কুরবানীর চামড়া কুরবানী দাতার জন্য বিক্রি না করা উত্তমএতদসত্ত্বেও কেউ বিক্রি করলে বিক্রয় মূল্য সদকা করে দেয়া ওয়াজিবযাদেরকে যাকাত দেয়া জায়িয তারাই এর উপযুক্ত পাত্রযাদেরকে যাকাত দেয়া জায়িয নেই তাদেরকে কুরবানীর চামড়ার মূল্য দেওয়াও জায়িয নেই। (হিদায়া:৪/৪৫০)
২. কুরবানীর চামড়ার ব্যাপারে উত্তম পন্থা হল: তা গরীব আত্মীয়-স্বজন বা দীনী শিক্ষায় অধ্যয়নরত গরীব ও এতীম ছাত্রদেরকে  সরাসরি দান করে দেয়াতালিবে ইলমদের দান করলে একদিকে যেমন দান করার সওয়াব পাওয়া যায়, অপরদিকে ইলমে দীন চর্চার মহান কাজে সহযোগিতাও করা হয় এবং এতে সদকায়ে জারিয়ারও সওয়াব পাওয়া যায়কুরবানীর চামড়া কোন দীনী প্রতিষ্ঠানের গরীব ছাত্রদের দান করে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রি করানো উত্তমকেননা এতে অধিক মূল্য অর্জিত হয়ে গরীবের বেশী উপকার হয় এবং দাতার সওয়াবও বেশী হয়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ:১/৪৫৬)
৩. কুরবানীর গোশত বা অন্য অংশের বিনিময়ে, অনুরূপভাবে চামড়া বা চামড়া বিক্রিত টাকা দ্বারা যবাই করানো বা গোশত কাটানোর পারিশ্রমিক দেয়া জায়িয নেইদিলে তার উপযুক্ত মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। (শামী:৬/৩২০, ফাতহুল কাদীর ৮/৪৩৭) যদি কোন কারণে কুরবানীর দিনগুলোতে কুরবানী করা সম্ভব না হয় তাহলে কুরবানীর পশুর মূল্য গরীবদের মাঝে সদকা করে দেওয়া জরুরী। (শামী-৬/৩২০)
৪. কুরবানীর গোশত, চামড়া বা চামড়ার মূল্য ইমাম, মুআযযিন, মাদরাসার শিক্ষক বা অন্য কাউকে পারিশ্রমিক হিসাবে দেয়া যাবে নাতেমনিভাবে মসজিদ মাদরাসার নির্মাণ কাজেও লাগানো যাবে না। (শামী: ৬/৩২৮, ফাতহুল কাদীর:৮/৪৩৭)
তাকবীরে তাশরীক
যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর সকল সাবালক পুরুষ,মহিলার জিম্মায় উক্ত তাকবীর একবার বলা ওয়াজিবতিনবার বলা ওয়াজিব নয়পুরুষগণ উচ্চস্বরে আর মহিলাগণ নিম্নস্বরে পড়বেতাকবীরে তাশরীক এই :
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاَللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
(আদ্দুররুল মুখতার:২/১৭৭-১৮০)
ঈদের নামায সম্পর্কিত জরুরী দুটি মাসআলা
১. যদি কেউ ঈদের নামাযের প্রথম রাকাআতে রুকুর পূর্ব মুহূর্তে ইমামের সাথে শরীক হয় তাহলে যদি তার ধারনানুযায়ী তাকবীরে তাহরীমা পড়ার পর অতিরিক্ত তিন তাকবীর বললেও রুকূ পাওয়ার আশা থাকে তাহলে নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলে রুকূ করবেআর যদি অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি বললে রুকূ পাবে না বলে ধারনা হয় তাহলে রুকূতে গিয়ে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবেযদি প্রথম রাকাআতই না পায় তাহলে ইমাম সাহেবের সালাম ফিরানোর পর ছুটে যাওয়া নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে সানা পড়ার পর অতিরিক্ত ৩ তাকবীর বলবে। ( আদ্দুররুল মুখতার:১/১৫০, আল বাহরুর রায়িক:২/২৮২)

২. বর্তমানে ঈদের খুতবার শুরুতে ও মাঝে মাঝে খতীব সাহেবগণ যে তাকবীরে তাশরীক বলে থাকেন; নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নাবরং এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা হল: প্রথম খুতবার শুরুতে ৯বার, দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে ৭বার এবং দ্বিতীয় খুতবার শেষে মিম্বর থেকে নামার পূর্বে ১৪বার শুধু আল্লাহু আকবার বলবেএবং এটাই মুস্তাহাবখুতবার সময় তাকবীরে তাশরীক বলবে নাহ্যাঁ! ঈদের নামায শেষে সালাম ফিরিয়ে তাকবীরে তাশরীক একবার বলবে। ( মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৪/২৫২, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/২৯০, বাইহাকী সুনানুল কুবরা-৩/৪২০, ফাতাওয়ায়ে শামী:২/১৭৫, আহসানুল ফাতাওয়া:৪/১২৭)

  • শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা:বা:)জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।